বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রতিবেদন

সুফল তর্কালঙ্কার : আমাদের শৈশব থেকেই পরিবেশ শব্দটার অর্থ সকলেরই জানা। কিন্তু সেই পরিবেশকে সুন্দর করে আগামীর জন্য আমরা কী সঠিক ভাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পেরেছি। আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মহেন্দ্রক্ষণে এই প্রশ্ন ওঠা কী খুব অসম্ভব?

আসলে আমরা বর্তমানের এই সভ্য পৃথিবীর নাগরিকগণ নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধিতে আমাদের পরিবেশকে ক্রমশই করে তুলছি বসবাসের অযোগ্য। সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তণ হচ্ছে আমাদের পরিবেশের। আর তার কুফল ভোগ করছি আমরা নিজেরাই। শুধুমাত্র একটা বিশেষ দিনে আমরা লোক দেখানো পরিবেশ রক্ষার কথা বলে বাজার গরম করি। কিন্তু সারা বছর সেই পরিবেশকে কী করে বসবাসের যোগ্য করে তুলতে হবে সেই বিষয়ে পৃথিবীর সভ্য মনুষ্যসমাজের কোনও ভাবনা বা চিন্তা আমাদের নজরে আসে না। এরই মধ্যে কিছু মানুষ আছেন যাঁরা সম্পুর্ন নিজেদের প্রচেষ্টায় সদা ব্রতী পরিবেশ রক্ষায়। কিন্তু শুধু তাঁদের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না, সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে দায়টা আমাদের সবার।

শুধুমাত্র একটা দিন পরিবেশ নিয়ে টেবিলে থাপ্পড় মেরে পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য বা পরিবেশকে রক্ষা করতে আমাদের আশু করনীয় বিষয়গুলি আউরে গেলেই কী প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের দোষে সতত পরিবর্তনশীল পরিবেশকে আগামীর বাসযোগ্য করে তুলতে সক্ষম হব?

আসলে ক্যালেণ্ডারের একটা দিন শুধুমাত্র সারা বিশ্বে পরিবেশ দিবস হিসেবে পালন করা বা এই বিশেষ দিনে পরিবেশকে রক্ষা করা নিয়ে ভাল ভাল কথা আর নতুন চারাগাছ রোপনের ছবি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করলেই কী আমাদের পরিবেশ কে বাঁচানোর দায়িত্ব শেষ হয়? আসলে আমাদের মধ্যে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এই সময়ের এসেও ভয়ংকর ভাবে লক্ষ করা যায়।

একদিকে আমরা আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করার বার্তা দিচ্ছি অপরদিকে তথাকথিত উন্নয়নের ইঁদুরদৌড়ে শামিল হয়ে ভুলেই গেছি যে, প্রকৃতির বিনাশ ঘটিয়ে কোনো সভ্যতাই টিকে থাকতে পারে না। নগরায়ণের নামে আমরা প্রতিদিন নির্বিচারে জলাশয় ভরাট করছি, বনভূমি ধ্বংস করছি। কিন্তু একবারও ভাবছি না এই কাজের কুফল আমাদের জীবনে কতটা ক্ষতি করছে। আমাদেরই কর্মের ফল ভোগ করছি আমরা প্রতিনিয়ত।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা টেবিলে থাপ্পড় মেরে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিই, আর পরদিন থেকেই আমরা সভ্য নাগরিকরা মেতে উঠি যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রতিযোগিতায়। পরিবেশ রক্ষা কোনো একদিনের ইভেন্ট বা উৎসব নয়, এটি একটি নিয়মিত জীবনধারা হয় উচিত। আমাদের উচিত শিশুপাঠ্যে শুধুমাত্র পরিবেশের সংজ্ঞা সম্পর্কে না শিক্ষা দিয়ে তাঁদের শেখাতে হবে কী করে নিজের পরিবেশকে ভালোবাসতে হবে ও তাকে রইক্ষা করতে কী কী করা আশু প্রয়োজন।

এর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের উচিত নিজের বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রেখে প্লাস্টিকের ব্যবহার বর্জন ও জল ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করা। এছাড়াও সকলের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে স্থানীয় স্তরে গাছ কাটা বা জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে। যেদিন পরিবেশ রক্ষা আমাদের “নৈতিক কর্তব্য” থেকে উন্নীত হয়ে আমাদের “সহজাত অভ্যাসে” পরিণত হবে, সেদিনই বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন সার্থক হবে।
