ছোট্ট ছুটিতে পারিখি

ভ্রমণ জীবনের অঙ্গ। ভ্রমণে মন ও শরীর উভয়ই ঠিক হয়, আর বাঙালি মানেই পায়ের তলায় সর্ষে। ছোট্ট ছুটিতে দুটো দিন একটু অন্যরকম কাটাতে সবাই চায়। এমনই এক ভ্রমণ কাহিনী 

শর্মিষ্ঠা: সারাবছরের ক্লান্তিকর একঘেঁয়ে জীবন থেকে দুটো দিন বার করে নিয়ে মন চায় অজানার সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে। মাত্র কয়েকটা দিন প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সিক্ত করে নিতে কে না চায়। আর তাই কিছুটা মনের বিনোদনের সঙ্গে প্রকৃতির কোলে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যেতে মন ছুটে চলে সুদুরের পানে। ভ্রমণের মজা এইখানেই।

কিছুটা এই উদ্দেশ্য নিয়েই আমার ভালোলাগার সমুদ্রের অমোঘ টানে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম কয়েকদিন আগে। এক শুক্রবার ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা হাজির হলাম দক্ষিণ পূর্ব রেলের হাওড়ার শালিমার জংশনে। চেপে বসলাম সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের পুরীগামী ধৌলি এক্সপ্রেসে। আমাদের এবারের গন্তব্য উড়িষ্যার পারিখি সমুদ্র সৈকত। ট্রেন ক্রমে সাঁতরাগাছি, খড়গপুর পার করে অবশেষে বেলা ১২ টা ৫৮ পৌঁছে দিল বালাসোর বা বালেশ্বর স্টেশনে।

বালেশ্বর থেকে অটোতে সওয়ারী হয়ে সোজা হাজির বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই কুমারী সমুদ্র সৈকত পারিখি সন্নিহিত রিসোর্টে। আমাদের পৌঁছতে দুপুর হয়ে যাবার কারণে চান করেই উদর দেবতার পুজোয় মগ্ন হতে হল আমাদের সকলকে। দুপুরের খাবার শেষ করে মনের ও চোখের খিদে মেটাতে সোজা হাজির অসাধারণ প্রাকৃতিক শোভায় পরিপূর্ণ পারিখি সৈকতে। সৌভাগ্যের বিষয় এখনও এই সৈকত সম্পর্কে সেভাবে পর্যটকদের কাছে খবর না থাকার দরুন এখানে কোলাহল নেই বললেই চলে। আমরা স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে মিশে উপভোগ করতে লাগলাম সূর্যাস্তে পারিখি সৈকতের অপরূপ রূপ লাবণ্য।

সন্ধ্যায় পূর্ণিমার চাঁদ কিন্তু এখানে ঝলসানো রুটি হয়ে ধরা দেয় না। চাঁদের অপরূপ নয়নাভিরাম আলোর ছটায় বঙ্গোপসাগরের রূপ মোহময় হয়ে ধরা দিচ্ছিল। সহসা প্রকৃতি কিছুটা যেন বিরূপ হয়ে মুখ ভার করে হাওয়ার বেগ বাড়তে থাকায় ও সঙ্গে হালকা বৃষ্টি সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ থেকে আমাদের বিরত করতে ফিরে এলাম রিসোর্টে। সন্ধ্যা কাটলো চা আর বার-বি-কিউ সহযোগে। রাতে রিসোর্টের ডিনার খেয়ে বিছানায়।

পরদিন ঘুম ভাঙলো একদম ভোরে। বিছানা ছেড়েই ছুটলাম সূর্যোদয় দেখতে। রিসোর্টে ফিরে প্রাতরাশ সেরে চললাম স্টিমারে চেপে ম্যানগ্রোভে ঘেরা মোহনা দেখতে। দুপুরে ফিরে এসে যথারীতি সমুদ্র স্নান। বিকালে সমুদের পাড়ে হাঁটতে হাঁটতে সমুদ্রের ঢেউ গোনা। পরদিন আমাদের ফেরার পালা। ফিরতে কি মন চায় এমন অপরূপ প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্য থেকে ইমারতের শহর কলকাতায়। কিন্তু ফিরতে মন না চাইলেও যে ফিরতেই হবে। তাই আবারও বালেশ্বর থেকে সেই ধৌলী এক্সপ্রেস, ফিরে এলাম নিজের শহরে।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading