তবলার ছন্দে সমধিক পরিচিত একটি নাম তরুণ সাহা

নিষ্ঠা, সাধনা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে আন্তর্জাতিক পরিচিতি—সংগীত শিক্ষায়ও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান

ভারতীয় সংগীতের বিস্তীর্ণ ভুবনে তবলার অনন্য সুরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের বিশিষ্ট তবলাবাদক তরুণ সাহা। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং গভীর সাধনার মধ্য দিয়ে তিনি দেশ-বিদেশের নানা সাংস্কৃতিক মঞ্চে রেখে চলেছেন তাঁর প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর। তাঁর তবলা পরিবেশনায় লয়ের অসাধারণ নিখুঁততা, তালের বৈচিত্র্য এবং সৃজনশীল উপস্থাপনা প্রতিবারই শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। একক পরিবেশনার পাশাপাশি বহু খ্যাতনামা সংগীতশিল্পীর সঙ্গে তবলা সহযোগী হিসেবে মঞ্চ ভাগ করে নিয়ে তিনি তাঁর দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মঞ্চের বাইরেও সংগীত শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের তবলা শেখানোর মাধ্যমে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। সংগীত মহলের অভিমত, তরুণ সাহার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীরাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় তবলা ও সংগীতকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছেন। ভবিষ্যতেও তাঁর এই নিরবচ্ছিন্ন সাধনা ও সুরের যাত্রা সংগীতপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

তরুণ সাহার জীবনের গল্প শুধুমাত্র একজন তবলিয়া শিল্পীর নয়, এটি এক অনুপ্রেরণার গল্প—যেখানে ভালোবাসা, সাধনা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি মিলেই সৃষ্টি করেছে সাফল্যের সুর। ওনার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে আমাদের পশ্চিম বর্ধমানের প্রতিনিধি—

 প্রশ্ন ১: তবলার সঙ্গে আপনার সখ্যতা কবে থেকে এবং কীভাবে শুরু?
 উত্তর: ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি এক অদ্ভুত টান অনুভব করতাম। পরিবারের মধ্যেও সংগীতের পরিবেশ ছিল। সেখান থেকেই তবলার প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। পরে গুরুজনদের কাছ থেকে নিয়মিত তালিম নিয়ে আমার এই যাত্রা শুরু হয়।

 প্রশ্ন ২: দুর্গাপুরের বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানে আপনাকে নিয়মিত তবলা সঙ্গতে দেখা যায়—এর পিছনে কী কারণ?
 উত্তর: এর পিছনে বিশেষ কোনো রহস্য নেই। আছে ভালোবাসা, পরিশ্রম এবং নিয়মিত চর্চা। পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখার ফলে বিভিন্ন সংগঠন থেকে আমন্ত্রণ পাই—যা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের।

 প্রশ্ন ৩: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আপনি সুরের সাধনায় মগ্ন—এটা কীভাবে সম্ভব?
 উত্তর: ইচ্ছাশক্তি এবং সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। প্রতিবন্ধকতা আমার কাছে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং আমাকে আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি—মন চাইলে সবই সম্ভব।

 প্রশ্ন ৪: আগামী প্রজন্ম যারা তবলা শিখে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, তাদের জন্য আপনার বার্তা কী?
উত্তর: নিয়মিত অনুশীলন, গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ধৈর্য—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবলা শেখা শুধু একটি শিল্প নয়, এটি এক ধরনের সাধনা। তাই নিষ্ঠা থাকলে সাফল্য আসবেই।

প্রশ্ন ৫: আপনার আগামীর স্বপ্ন কী?
উত্তর: আমি তবলাকে আরও বড় মঞ্চে তুলে ধরতে চাই এবং নতুন প্রজন্মকে এই সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট করতে চাই। পাশাপাশি নিজেকে আরও উন্নত শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।

 প্রশ্ন ৬: আপনার তবলিয়া জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত কোনটি?
 উত্তর: যখন দর্শকরা আমার বাজনা শুনে ভালোবাসা ও প্রশংসা করেন—সেই মুহূর্তগুলোই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। প্রতিটি সফল পরিবেশনাই আমার কাছে এক একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

 প্রশ্ন ৭: একজন মানুষ কতটা আন্তরিক হলে যন্ত্রসঙ্গীতের সাধনায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করতে পারে?
 উত্তর: আন্তরিকতা যদি হৃদয়ের গভীর থেকে আসে, তবে সেটাই মানুষকে সব বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করে। সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং একাগ্রতা থাকলে সবকিছুই সম্ভব হয়ে ওঠে।

 

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading