বাতাসে বিষণ্নতার ভাষা, শব্দে তার গণিত: নতুন কাব্যে রানী বন্দ্যোপাধ্যায়

অন্তরা সিংহরায়, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর-এর সাংস্কৃতিক পরিসরে এক নিবিড় সাহিত্যিক আবহের সৃষ্টি করে প্রকাশিত হলো কবি রানী বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সপ্তম কাব্যগ্রন্থ “বিষন্ন বাতাসের অ্যালগরিদম”। একটি বেসরকারি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান যেন শব্দ, সুর ও অনুভূতির এক সমবেত সাধনা হয়ে উঠেছিল।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সুরের মৃদু আবাহনে। দীয়া বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কণ্ঠে উদ্বোধনী সঙ্গীত এক অন্তর্মুখী পরিবেশ রচনা করে, যেখানে শব্দের আগে অনুভূতিরা নিজেদের জায়গা করে নেয়। সঞ্চালনায় লক্ষ্মীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষতায় ও সৌকর্যে অনুষ্ঠানের প্রবাহকে বয়ে নিয়ে যান। কাব্যগ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন কালীপ্রসাদ দত্ত, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনার পাশাপাশি এক নতুন সাহিত্যযাত্রার দ্বার উন্মুক্ত হয়।

সাংস্কৃতিক পর্বে ‘মাটির ছেলে’ ও তাঁর দল লোকসঙ্গীতের সুরে মাটি ও মানুষের নিবিড় সম্পর্ককে নতুনভাবে অনুভব করায়। পাশাপাশি অন্তরা সিংহরায়-এর কণ্ঠে কবিতা ও সঙ্গীত যেন এক সেতুবন্ধন রচনা করে—শব্দ ও সুরের মাঝখানে জন্ম নেয় এক নীরব আবেগ।নিজস্ব বক্তব্যে কবি রানী বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সৃষ্টির অন্তর্লীন প্রেরণা ও মানসিক অন্বেষণের কথা তুলে ধরেন। তাঁর কণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠে ‘বিষণ্নতা’ আর নিছক বিষাদ হয়ে থাকে না—তা হয়ে ওঠে এক গভীর নন্দনচেতনার অন্বেষণ, যেখানে বাতাসও যেন ভাষা পায়, অনুভূতিরও থাকে নিজস্ব গণিত।

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন মৌসুমী ঘোষ, অশোক ঘোষ, বিপাশা নায়েক, উজ্জ্বল হাজরা, মইনাক, শ্রাবণী নায়েক, শান্তিময় চেল ও দিলীপ পাকড়ে সহ অন্যান্য শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনায় সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে বহুরৈখিক—কখনও শব্দময়, কখনও নীরবতার গভীরে ডুব দেওয়া।সন্ধ্যার শেষে ছিল রসনাবিলাসের আয়োজন, তবে তার চেয়েও বড় ছিল মনন ও অনুভূতির যে পরিপূর্ণতা, তা উপস্থিত সকলের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। সাহিত্য ও সঙ্গীতের এই মেলবন্ধন যেন স্মরণ করিয়ে দেয়—বিষণ্নতাও কখনও কখনও সৃষ্টির এক অনিবার্য আলো।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading