সীমান্তবর্তী এলাকায় হানা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের


নিজস্ব সংবাদদাতা
, বসিরহাট: বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই খাবারের দোকানগুলিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় বিক্রির অভিযোগ উঠছিল। পাশাপাশি শিশুদের স্কুলের আশপাশের দোকানগুলিতে অতিরিক্ত রঙিন, আকর্ষক জেলিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন অভিভাবকরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বছরের শুরুতে কড়া পদক্ষেপ নিল বসিরহাট জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। বসিরহাট জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও স্বরূপনগর থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের একটি দল একযোগে অভিযান চালায় মালঙ্গপাড়া, মাঝেরপাড়া ও হঠাৎগঞ্জ এলাকায়। প্রায় কুড়ি থেকে পঁচিশটি দোকানে হানা দিয়ে একাধিক জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় উদ্ধার করা হয়।

দোকানদাররা কেউ কেউ দাবি করেন যে তারা বিষয়টি জানতেন না বা বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলি রাখেননি। তবে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা সেই যুক্তি মানতে রাজি হননি। ক্রেতাদের স্বার্থে উদ্ধার হওয়া সমস্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় দোকানিদের দিয়েই আধিকারিকদের সামনে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করানো হয়। কোথাও শুধুমাত্র সরিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং এমনভাবে বাতিল করা হয়েছে যাতে সেগুলি দ্বিতীয়বার আর বিক্রয়যোগ্য না থাকে। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও পুলিশের সহায়তায় যেসব দোকানে এই ধরনের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে, সব ক্ষেত্রেই একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বেশ কিছু জেলিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায়, যেগুলির গায়ে ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদ সংক্রান্ত তারিখ কিংবা প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের উল্লেখ ছিল না। শিশুদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বলে বিবেচিত এই সমস্ত খাবারও ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দোকানদারদের ভবিষ্যতে এই ধরনের সামগ্রী বিক্রি না করার জন্য কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক ড. অপরাজিতা মজুমদার জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই এই এলাকায় মেয়াদ উত্তীর্ণ পানীয় ও ক্ষতিকারক খাবার বিক্রির অভিযোগ তাদের কাছে আসছিল। সেই কারণেই অভিযান চালানো হয়। এদিন বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দ্রুত পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। পাশাপাশি একাধিক দোকান প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় তাদের প্রত্যেককে সরকারি নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের মোবাইল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিও এলাকায় আনা হয়। আধিকারিক সৌমেন ঘোষ ও খাদ্য পরীক্ষকরা সেখানেই বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা করে দেখেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, এই ধরনের নিয়মিত অভিযান হলে ভেজাল ও মেয়াদউত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির প্রবণতা অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading