
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: হুগলি জেলার অন্যতম সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শহর বৈদ্যবাটীতে বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় বর্ষের বৈদ্যবাটী বইমেলা। গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ বৈদ্যবাটী বি এস পার্ক ময়দানে এই বইমেলার শুভ সূচনা করেন প্রসিদ্ধ লেখক, প্রকাশক এবং বুক সেলার্স গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিত্বরা।

দ্বিতীয় বর্ষের এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঠক, শিক্ষার্থী ও বইপ্রেমীদের আনাগোনায় মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠছে প্রাণবন্ত। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার স্টলে সাজানো রয়েছে সাহিত্য, ইতিহাস, শিশু সাহিত্য, গবেষণামূলক গ্রন্থসহ নানা বিষয়ের বই, যা সকল বয়সের পাঠকদের আকৃষ্ট করছে।

সুপ্রাচীন বৈদ্যবাটী পৌরসভার আন্তরিক সহযোগিতা ও সুচারু ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৈদ্যবাটী বি এস পার্ক ময়দানে। মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার মূল কাণ্ডারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন স্থানীয় বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন। বৈদ্যবাটী পৌরসভার পৌরপ্রধান পিন্টু মাহাতো ও অরিন্দম গুঁইনের উদ্যোগে বৈদ্যবাটীতে বইমেলা আজ একটি উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। বইমেলার আহ্বায়ক ওই পৌরসভার কাউন্সিলর সুর্য স্বপন ঘোষের উদ্যোগ বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য।

বইমেলার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চে স্থানীয় ও প্রতিথযশা শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বইমেলা পরিণত হয়েছে বই ও সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ মিলনমেলায়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রথম বছরের মতো দ্বিতীয় বর্ষের বৈদ্যবাটী বইমেলাতেও সংবাদ প্রতিখনের স্টলকে কেন্দ্র করে পুস্তকপ্রেমী মানুষের বিশেষ ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংবাদপ্রতিখনের প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থ ও সাময়িকী পাঠকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

আয়োজকদের মতে, এই বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাঁদের আশা, আগামী দিনে বৈদ্যবাটী বইমেলা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য উৎসব হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলবে। মেলা চলবে আগামী ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত।


