
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: নতুন বছরের শুভ লগ্নে হুগলির সিঙ্গুর পারগোপালনগরের ডি ডি ভারতী বিদ্যালয় (উচ্চতর মাধ্যমিক) এ পালিত হলো ছাত্র সপ্তাহ। ২ থেকে ৮ জানুয়ারী ২০২৬ এই সাতদিনে বছরের শুরুতেই নতুন ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের কঠিন পঠন-পাঠনের মধ্যে না নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন কো কারিকুলার অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে তাদের স্কুলের পরিবেশ, নতুন ক্লাসের পরিবেশের সাথে আগে অভ্যস্ত করিয়ে নেওয়া এবং যে সমস্ত নতুন ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাথমিক ছেড়ে হাই স্কুলে আসছে তাদেরও নতুন স্কুলে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ বাতাবরণে স্বাচ্ছন্দ অনুভব করানো হয়। সরকারি নির্দেশকে মান্যতা দিয়েই ২০২৬-এ ডিডি ভারতী বিদ্যালয় বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করল স্টুডেন্ট উইক।

২রা জানুয়ারি, শুক্রবার ছিল বুক ডে। সকল ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে নতুন শ্রেণীর বই এবং খাতা তুলে দেওয়া হলো। ৩রা জানুয়ারি, শনিবার ছিল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ছাত্র শিক্ষক ফ্রেন্ডলি ক্রিকেট ম্যাচ। ৫ই জানুয়ারি সোমবার স্কুলের মাঠে মঞ্চ প্রস্তুত করে হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামাইবাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শ্রী সন্দীপ সিনহা মহাশয় যিনি তাঁর দীর্ঘ , প্রাঞ্জল বক্তব্যে সকল ছাত্র-ছাত্রীকে নিবিষ্ট করে রাখেন। তারপরে স্কুলে আগত নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের বরণ করে নেওয়া হলো নবীনবরণ উৎসবের মাধ্যমে। তারপর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনীত নাটক “অগ্নিপুরুষ শ্রীঅরবিন্দ” মঞ্চস্থ হল । নাটকে আবীর, সৌমশিস, সপ্তক, পায়েলদের অভিনয় সবার নজর কাড়ে।

৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার ছিল অংকন, প্রবন্ধ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। ছোট ছোট ছেলেদের আঁকা ছবি ছিল তাক লাগানো। তৃষান, অঙ্কুশ, ময়ুখ, ইন্দ্রনীল, সুপ্রিয়দের আঁকা ছবি যে কোন বড় মঞ্চেও প্রশংসা কুড়িয়ে আনবে। প্রবন্ধতে বিশেষ সাড়া না পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় ছাত্রদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মঞ্চে মাইকের সামনে উঠে হঠাৎ পাওয়া বিষয় নিয়ে মাত্র এক মিনিট ভেবে নিয়ে তিন মিনিট বলা মোটেই সহজ কথা নয়। কিন্তু তবুও ছেলেরা সাহস করে চেষ্টা করেছে, নিজেদের বক্তব্য পেশ করেছে এবং সায়ন্তন, প্রণয়, আয়ুস, ত্রিদীব নিজেদের চিন্তাশক্তি এবং বাচনভঙ্গি দিয়ে সকলের মন জয় করে নিয়েছে।

৭ জানুয়ারি ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিন। সেদিন ছিল খাদ্য উৎসব বা ফুড ফেস্টিভাল। ২৯ টি স্টলে বিভক্ত হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা সম্পূর্ণ হাইজিনিকভাবে পরিবেশন করে একের পর এক সুস্বাদু খাবার। কি ছিল না সেখানে? মালপোয়া, পাটিসাপটা, বিভিন্ন ধরনের পিঠে, ঝালমুড়ি, ফুচকা, এগ রোল, চাউমিন, পকোড়া, চা কফি, ঘুগনি, পরোটা আলুর দম, আরো কত কি! ডি ডি ভারতীর মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল বিভিন্ন রঙিন ছাতার নিচে সাজানো স্টলে। মেলার শেষে প্রাপ্ত হিসেব অনুযায়ী প্রত্যেক ছাত্র ভালই লাভের মুখ দেখেছিল। যে সমস্ত ছাত্ররা বাড়ি থেকে টাকা আনতে পারেনি, তাদের স্কুলের তরফ থেকে খাবার কিনে খাওয়ানো হয়।

৮ ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার শেষ দিন ছিল একাডেমিক প্রাইজ ডিস্টিট্রিবিউশন। ওইদিন ২০২৩ থেকে ২০২৫ এই তিন বছরের কৃতিদের পুরস্কার দেওয়া হয়। তার আগে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় ক্যুইজ প্রতিযোগিতা। এদিন বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক শ্রী সঞ্জীব ভট্টাচার্য মহাশয়। প্রাক্তনীদের আগমনে এই দিনটি পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ডি ডি ভারতীর দুই প্রাক্তনী রাজীব এবং আরমান আলি জানিয়েছে স্কুলের বছরগুলো তাদের কাছে সুন্দর স্বপ্নের মত এবং প্রাইজ নিতে এসে আবার এই স্কুলের মাটিতে পা রাখতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছে। সাথে সাথেই তারা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছে এই স্কুলের প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকার আন্তরিকতার কথা। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী চন্দ্রশেখর দাস মহাশয় অনুষ্ঠানের শেষে সকল শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও পরিচালন সমিতির সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা ছাড়া এই প্রচেষ্টা সফল হত না। তিনি আরো জানান গ্রামের একটি সাধারণ স্কুলের এই উদ্যোগ সকলকেই সরকার পোষিত বাংলা মাধ্যম স্কুল সম্পর্কে উৎসাহিত করবে।

