বসিরহাটের ঘোষ বাড়িতে একই সঙ্গে তিনটি দুর্গাপুজো

নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: মিশরীয় সভ্যতার দুর্গাপুজোর দেখা মিলল বসিরহাটের ঐতিহ্যবাহী ঘোষ বাড়িতে। যা দেখতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে সেখানে। শুধুমাত্র মিশরীয় সভ্যতার দুর্গাপূজা নয় একই চত্বরে থাকছে মহিষাদলের রাজবাড়ির অনুকরণে সাবেকি মন্ডপ। অপরদিকে ঘোষ বাড়ির তিন’শ বছরের পুরনো বনেদি বাড়ির পুজো। অর্থাৎ একই চত্বরে তিনটি আলাদা দুর্গা পুজোর আসর বসতে চলেছে এই ঘোষ বাড়িতে। বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ১নং ব্লকের টাকি রোড পার্শ্বস্ত বিশাল এলাকা জুড়ে এ বছর দর্শকদের কাছে এক অভিনব মোড়কে আসছে ঘোষ বাড়ির পুজো।

এমনিতেই সারা বছর ধরে একাধিক অনুষ্ঠান সহ সমাজসেবা মূলক কাজ করে চলে ঘোষবাড়ি। কিন্তু এই বছরের পুজোর ভাবনা একেবারে অন্য। দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে দুটি পুজো মন্ডপ। পাশাপাশি একটি পুরনো ঠাকুর দালানকে সংস্কারের কাজও হয়েছে। ঘোষ বাড়িতে ঢুকলেই দেখা যাবে মহিষাদলের রাজবাড়ি। প্লাই, লোহা ও রং এর ব্যবহার করে একেবারে হুবহু মহিষাদল রাজবাড়ির আদলে তৈরি হয়েছে পূজা মন্ডপ। আরেকটু এগোলোই দেখা মিলবে ৩০০ বছরের পুরনো ঘোষ বাড়ির নিজস্ব বনেদী পুজো। আর দু’পা হাঁটলেই থাকছে বিশেষ চমক। যেখানে তুলে ধরা হয়েছে মিশরীয় সভ্যতাকে। পিরামিড, বালির মরুভূমি, তুতেনখামেন, মমি ও ক্লিওপেট্রা সহ মিশরীয় সভ্যতার দেখা মিলবে সেই মন্ডপে।

জানা গিয়েছে, মিশরের বিভিন্ন পিরামিড থেকে বেশ কিছু দুর্গা প্রতিমা সুলভ ছবি এবং ভাস্কর্য উদ্ধার করেছিলেন পুরাতত্ত্ববিদরা। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে যখন মিশরীয় সভ্যতার রমরমা। তখনো পূজিত হতেন ঊমা। ভেতরে ঢুকলেই মনে হবে যেন পিরামিডের ভিতরে ঢুকেছেন। সেখানে একদিকে যেমন থাকছে মিশরীয়দের ব্যবহৃত সোনার অলংকার রাখার বাক্স, হায়রোগ্লিফ হরফ ও বিভিন্ন পশু-পাখি পূজ‍্য দেবদেবীদের ছবি। এই ঘোষবাড়ি চত্বরেই আবার থাকছে লাইটিং, ফোয়ারা ও রেস্টুরেন্ট।

অর্থাৎ একবার ঘোষ বাড়িতে ঢুকলেই সম্পূর্ণ পুজো দেখার স্বাদ নিতে পারবেন আগত দর্শক থেকে শুরু করে পর্যটকরা। বিষয়টি নিয়ে পূজোর উদ্যোক্তা ঘোষ বাড়ির সদস্য লাল্টু ঘোষ বলেন, “আমরা আমাদের সভ্যতাকে পুনরায় মানুষের মধ্যে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে তৎপর। মিশরিয় আমলেও যে দুর্গাপুজো হতো তার প্রমাণ ইতিমধ্যে আমরা পেয়েছি। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখে এবার আমাদের থিম মিশরীয় সভ্যতার দুর্গাপুজো। দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টায় আমরা বসিরহাটের মানুষকে কিছু নতুন জিনিস উপহার দিতে চাই। আশা করছি লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে এই পূজার প্রাঙ্গণে।”

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading