দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা টাকিতে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ তৈরি করে নজির টাকিতে। যেখানে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এক হয়ে মেতেছে অকালবোধনে। বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাম্প্রদায়িক হানাহানির ছবি উঠে আসে। একাধিক জায়গায় মানুষে মানুষে হানাহানি যুদ্ধ লেগেই রয়েছে। ঠিক সেই সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে মাতলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহর টাকি।

বসিরহাটের ইছামতি নদীর পাড়ে ছোট্ট শহর টাকি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মধুসূদন মন্দির কমিটির উদ্যোগে প্রথম বর্ষের দুর্গাপূজায় এবার থিম দীঘার জগন্নাথ ধাম। সেখানেই দেখা যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্তমূলক ছবি। মন্দির কমিটির পুজো হলেও সমগ্র পুজোর ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন টাকি পৌরসভার উপ পৌরপ্রধান ফারুক গাজী। তারই নেতৃত্বে ও নিরলস প্রচেষ্টায় টাকিতে দীঘার জগন্নাথ ধামের আদলে তৈরি হওয়া মণ্ডপে ভিড় জমাতে চলেছেন দর্শকরা।

 

পুজো কমিটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বিষয়টি নিয়ে টাকি পৌরসভার উপ পৌরপ্রধান ফারুক গাজী বলেন, “আমি টাকি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। আমার কাছে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষই এক। আমি নিজে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও টাকির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমি বদ্ধপরিকর। কারণ দিকে দিকে যেভাবে এক সাম্প্রদায়িক হানাহানির ছবি উঠে আসছে তা থেকে মানুষকে সরিয়ে রেখে সুস্থ সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এই প্রচেষ্টা।”

পাশাপাশি তিনি এও বলেন এই মধুসূদন মন্দিরটি তিন থেকে চারশ বছর পুরনো। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভগ্নপ্রায় দশায় পরিণত হয়েছিল। আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে এই মন্দিরটিকে সংস্কার করি।” অপরদিকে মধুসূদন মন্দির ও পুজো কমিটির সভাপতি কান্তি রঞ্জন ভট্টাচার্য্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম পীঠস্থান এই টাকি। যেখানে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাইস চেয়ারম্যানের ব্যবস্থাপনায় দীঘার জগন্নাথ ধামের আদলে তৈরি করা মন্ডপে পুজিত হবেন মা দুর্গা। আমরা এই পুজোর মধ্য দিয়ে মানুষকে শান্তির বার্তা দিতে চাই।”

 

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading