
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: “সত্যকে যখন অন্তরের মধ্যে মানি তখনই তাহা আনন্দ, বাহিরে যখন মানি তখনই তাহা দুঃখ।—-” কবিগুরুর এই অমোঘ বাণীকে পাথেয় করে তাঁর প্রয়াণ দিবসে বিশ্বকবিকে অন্তরের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করল পশ্চিম বর্ধমানের আড়রা কালীনগর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫০ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। কবিগুরুর ৮৪ তম প্রয়াণ দিবসে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের নিজেদের হাতে বানানো পোস্টার সহযোগে এক সুন্দর শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যেহেতু তাদের গরমের ছুটির কারণে কবির জন্মদিন পালন করতে পারে না, তাই এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। এর সঙ্গে সঙ্গে রাখী বন্ধন উত্সবকে মাথায় রেখে পালন করা হয় রাখী বন্ধন উত্সবও। ভ্রাতৃত্বের ও ভালোবাসার বন্ধনে পথ চলতি মানুষজনের হাতে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বানানো রাখী পরিয়ে ও মিষ্টিমুখ করে পালন করা ভয় এই উত্সব।

রবীন্দ্র মূর্তিতে মাল্যদান, প্রদীপ প্রজ্জলন ও শিশুদের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সাংস্কৃতিক মঞ্চে আবৃত্তি আলেখ্য, নৃত্য, সংগীতের সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান উপহার দেন এদিন। আড়রা কালীনগর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক শ্রী ভবানী ভট্টাচার্য্য, মলান দিঘী পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বরূপ চ্যাটার্জী, পুলক চ্যাটার্জি, সমাজসেবক অমিতাভ ব্যানার্জ্জী, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দেবব্রত মুখার্জি এবং সমাজসেবক শুভ্র চক্রবর্তী, দীপু লাহা, পূজা দাস, সুব্রত প্রামাণিক, চন্দ্রা পাঁজা, তরুণ সাহা, অর্চনা সিংহরায় সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উপস্থিত সকলকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উত্তরীয়, চন্দনের ফোঁটা, শিশুদের হাতে তৈরি রাখী এবং একটি করে স্মারকপ্রদান করে বিশেষ সম্মানিত করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানকে সুচারু রূপদান করেন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা অন্তরা সিংহরায়, শান্তনু পাল, মনিদীপা রায়, মৌসুমী প্রধান, পায়েল মন্ডল এবং সোনালিসা দাস।

