জোলকুল ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো
হুগলি জেলার প্রান্তিক জনপদ, বহু প্রাচীন এবং ইতিহাস সমৃদ্ধ শ্রী চৈতন্য দেবের পদধূলি ধন্য জোলকুল গ্রামের ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো নিয়ে লিখলেন কিশলয় মুখোপাধ্যায়

অতীতে কোন এক সময় দুর্গাপুজোয় ভোগ রান্নার দেরি হচ্ছিল বলে বাড়ির সদস্যরা দেখেন ‘মা দুর্গা’ নিজেই রান্না করছেন। এরকমই নানা অলৌকিক কাহিনী শুনতে পাওয়া যায় হুগলি জেলার প্রান্তিক জনপদ, বহু প্রাচীন এবং ইতিহাস সমৃদ্ধ শ্রী চৈতন্য দেবের পদধূলি ধন্য জোলকুল গ্রামের ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজোয়।
হাওড়া বর্ধমান কর্ড শাখায় গুড়াপ স্টেশনে নেমে বাস ধরে ১০ মিনিটের পথ অতিক্রম করে ভাস্তাড়া কমলাসাগর মোড়। সেখান থেকে ১৫ মিনিট টোটো করে পৌঁছে যাওয়া যাবে ভট্টাচার্য বাড়ি।
এই দুর্গা পুজো নিয়ে নানা কথা হচ্ছিল অরূপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে। দুর্গা দালানে বসে কথা প্রসঙ্গে জানালেন বৈষ্ণব মতে পুজো হয়। সেই জন্য কোনরকম বলি প্রথা নেই। আর মুর্তিতে মোষ নেই। ১৮১০ সালে মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য শুরু করেছিলেন এই পুজো। তবে জাঁকজমক বৃদ্ধি পায় হরিসাধন ভট্টাচার্যের সময়। তিনি লবণ ব্যবসা করে অনেক অর্থ উপার্জন করেছিলেন আর জোলকুল অঞ্চলে অনেক জমিদারি সম্পত্তি করেছিলেন। প্রথম থেকে আজও উজ্জ্বলাময়ী দেবীর নামে পুজোর সংকল্প হয়।

মহাষ্টমীর দিন ৪০ কেজি চাল নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। একে মহাভোগ বলা হয়। ঠাকুরের ভোগ মহিলারা রান্না করলেও পুজো মণ্ডপে নিয়ে যান বাড়ির পুরুষ সদস্যরা। আর সন্ধি পুজোর সময় যাতে মা দুর্গা ভট্টাচার্য বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেন তার জন্য বাড়ির সমস্ত দরজা জানালা খোলা থাকে। এই অষ্টমীর দিনই হয় কুমারী পুজো। রথের দিন কাঠামো পুজো হয়।

দুর্গাপুজোর সঙ্গে একই সময় রথযাত্রা শুরু হয় আর দোল উৎসব শুরু হয়। আর হয় লক্ষ্মী পুজো। প্রথমে সাতচূড়া পেতলের রথ ছিল। তারপর লোহার রথ, এখন কাঠের রথ। ভট্টাচার্য বাড়িতে সারা বছর মঙ্গল চণ্ডীর পুজো হয়। সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পুজো, চণ্ডীপাঠ সহ দুর্গাপুজোয় যে নিয়ম আছে সেগুলো রয়েছে।
দশমীর দিন দিঘীতে বিসর্জন হয়। ভট্টাচার্য পরিবার নিষ্ঠা আর ভক্তি সহকারে আজও পুজো করে আসছে।
