‘জীবনকৃতী সম্মান’ এ ভূষিত হচ্ছেন প্রাক্তন ফুটবলারদ্বয় প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আর রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়

ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের ১০৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে জীবনকৃতী সম্মান এ ভূষিত হচ্ছেন প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আর রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়। প্রবাদপ্রতীম এই দুই ফুটবলারকে নিয়ে কলম ধরলেন কিশলয় মুখোপাধ্যায়

সাতের দশক, ময়দানে ইষ্টবেঙ্গল খেলছে কালীঘাটের সাথে। সবাই জানতো ইষ্টবেঙ্গল শুধু জিতবেইনা হেলায় হারাবে কালিঘাটকে। কিন্তু সেদিন খেলার ফলাফল হয়েছিল ২-২। কালীঘাটের খেলোয়াড়রা দৃঢ় সংকল্প করেছিল যে ম্যাচ হারবোনা। আর যে সবচেয়ে সেরা খেলাটি খেলেছিল সেদিন, সেই খেলোয়াড়টি হলেন কালীঘাটের প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। এবছর ১০৫ তম ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসে ‘জীবনকৃতী সম্মান’ পাচ্ছেন প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আর রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ইষ্টবেঙ্গল আর মোহনবাগানের খেলা। ওই বছরে যোগ দিয়ে প্রথম বড় ম্যাচ খেলতে নেমেছে ৯ নম্বর জার্সি পড়ে। ৫টি গোলের মধ্যে রয়েছে সেই ছেলেটির গোল। ময়দানে দক্ষ হেডার হিসেবে পরিচিত ৯ নম্বর জার্সিধারি ছেলেটি হলেন রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়।

প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জীবনকৃতী সন্মান’ খবরটি পেয়ে বললেন ইষ্টবেঙ্গলই আমার প্রথম বড় ক্লাব। এখানে খেলে ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পেয়েছি। অর্জুন পুরস্কার না পাবার আক্ষেপ কিছুটা মিটল। অন্যদিকে রঞ্জিত মুখোপাধ্যায় জানালেন ইষ্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্য ফুটবলার হিসেবে আমার এই পরিচিতি। ইষ্টবেঙ্গল থেকে এই  সম্মান ভালো লাগছে। এই সন্মানের খুবই গর্বের।

প্রশান্ত বাবুর প্রথম নজরকাড়া পারফরমমেন্স ১৯৭৩ সালে সুব্রত কাপে হ্যাটট্রিক। ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পাইকপাড়া কুমার আশুতোষ ইনিস্টিউ সন বিদ্যালয় টিমের হয়ে দিল্লীতে হ্যাট্রিক করেছিলেন। খেলা শুরু প্রথমে চৈতালী সংঘ, তারপর এভিনিউ সন্মিলনী, হোয়াইট বর্ডার। এরপর কালীঘাট। তারপর ১৯৭৬ সালে ইষ্টবেঙ্গলে ক্লাবে যোগ দেন। ১৯৭৯-৮০ সালে লাল হলুদ দলের অধিনায়ক ছিলেন। তার আগে ১৯৭৪ সালে জুনিয়র বাংলা দলে খেলেন। পরের বছর হয়েছিলেন অধিনায়ক। ১৯৭৭ সালে জুনিয়র ভারত দলে খেলতে ইরান গিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে এশিয়ান কাপে দেশের সিনিয়র টিমে খেলেন।

হেডে দক্ষতার জন্য রঞ্জিত বাবু রোজ এক কোমর জলে নেমে রবারের বল দিয়ে হেড অভ্যাস করতেন। জেলা স্তরের একটি খেলায় রঞ্জিত বাবুকে আবিস্কার করেন কেষ্ট দাস। তিনিই হেডে উন্নতি করার জন্য এই পরামর্শটি দেন। কলকাতা লীগে দুবার টপ স্কোরার রঞ্জিত বাবু ১৯৭১ সালে খিদির পুরে খেলেছিলেন। ১৯৭৫ সালে যোগ দিলেন ইষ্টবেঙ্গলে। ১৯৭৮ সালে তিনটি প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি গোল দিয়েও সেই বছর এশিয়ান গেমসের জাতীয় দলে নেওয়া হয়েনি রঞ্জিত বাবুকে।

১৮ বছর ময়দান কাঁপানো সঙ্গীত প্রিয় রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়  অবসরের পর কোচিং এ চলে আসেন। ১৯৯০ সালে তিনি ইতালির ক্লাব রোমাতে ২৩ দিনের ট্রেনিং নিয়েছিলেন। সেখানে কিংবদন্তী ফুটবলার প্লাতিনি, বেকেনবাউয়ারের মতো কিংবদন্তী ফুটবলাদের সঙ্গে কোচিং এর নানা বিষয়ে আলোচনা করার সৌভাগ্য হয়েছিল। খিদিরপুর আর জুনিয়র ইষ্টবেঙ্গলে কোচ ছিলেন। খড়দহ স্পোর্টস অ্যাকাডেমি নামে খড়দহতে একটি নার্সারি ফুটবল স্কুলে কোচিং করেন। প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় অবসর নেবার পর বাংলা দলকে কোচিং করিয়েছেন। এছাড়া পোর্ট ট্রাস্ট, এরিয়ানেরও কোচ হয়েছিলেন।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading