‘রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধুমধাম’, পুরী কিংবা মহেশের সঙ্গে আমাদের এই বাংলার কোণে কোণে প্রচলত আছে রথযাত্রার। গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে চ্যলে এই উত্সব। আজ হুগলি জেলার ভাস্তাড়ার সিংহবাড়ির শ্রীশ্রীধর জীউ আর লক্ষ্মী দেবীর রথযাত্রা সম্পর্কে আলোকপাত করলেন কিশলয় মুখোপাধ্যায়

যমুনা সাগর, রাম সাগর, কুসুম সাগর, শ্যাম সাগর, দেব সাগর, ললিতা সাগর আর কমলা সাগর। এই গুলি বড় পুকুর বা দিঘী। ‘সাত সাগরের দেশ’ নামে এক কালে খ্যাত হুগলি জেলার প্রাচীন জনপদ ভাস্তাড়া। এখানে কমলা সাগর বাস স্টপেজ থেকে একটু খানি হেঁটে পৌছে যাওয়া যাবে সিংহবাড়ি। আর এই বাড়ির রথ এবছর ৪০৮ বছরে পদার্পণ করল। কমলা সাগরের আগের মোড়টির নাম রথতলা। অতীতে জমিদার ছিল সিংহ বংশ। তৎকালীন অনেক জনহিতকর কাজের মধ্যে রয়েছে সাতটি বড় বড় জলাশয় খনন। আর নাম দিয়েছিলেন সাগর। তাই আগে অনেকে বলতেন সাত সাগরের দেশ ভাস্তাড়া।

এই রথের বিশেষত্ব হল জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা নয়, সিংহ বাড়ির কূল দেবতা শ্রীশ্রীধর জীউ আর লক্ষ্মী দেবী রথে ওঠেন, যাত্রা করেন। ভাস্তাড়া প্রদক্ষিণ করেন, আর উল্টো রথের দিন মাসির বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি ফিরে আসেন। অতীতে রথের চূড়া ছিল ১৬টি।

কথা হচ্ছিল সিংহ পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম শুভ সিংহের সঙ্গে। সংবাদ প্রতিখনকে একান্ত সাক্ষাতকারে জানালেন নানা কথা। রথযাত্রা, দুর্গাপুজো, সিংহ বংশ, অতিতের জমিদারি তথা গ্রামের ইতিহাস নিয়ে সাক্ষাতকার এগিয়ে চলল।

শ্রীশ্রীধর জীউর দোল উৎসব হয় নবমীর দোল, অর্থাৎ নবম দোল। ভাস্তাড়ার এই রথ এখন সর্বজনীন। মেলা বসে। তবে বিগত অনেক গুলো বছর রথ উৎসব হতো। তবে অনান্য রথের মতো দড়ি টেনে রথ যাত্রা হতোনা। তখন আবার এটাই ট্র্যাডিশন হয়ে গেছিল যে ভাস্তাড়ার রথে মেলা বসে, জনসমাগম হয় কিন্তু রথ যাত্রা করেনা। অতীতের গৌরব ফিরে আসে ২০১৬ সালে। সেই বছর থেকে রথ আবার যাত্রা শুরু করে।

অতীতে রথের সঙ্গে থাকতো ‘গোষ্ঠ বিহার’। নানা রকম পুতুল থাকতো। এখন যেরকম শান্তিপুর রাসে দেখা যায় কতকটা সেরকম। এখন গোষ্ঠ বিহার থাকেনা। তবে পুতুল গুলো ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন শুভ বাবু। চতুর্দোলা রাখা আছে। এই চতুর্দোলায় করে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীশ্রীধর জীউ আর লক্ষ্মী দেবীকে। তারপর একটি স্থানে গিয়ে তারপর রথে চড়েন। উল্টো রথেও তাই হয়।

সুপ্রাচীন এই রথ উৎসব রয়েছে। আজো এই রথ সিংহবাড়ির কূলদেবতা শ্রীশ্রীধর জীউ আর লক্ষ্মী দেবীকে মাসির বাড়ি ঘুরিয়ে আনে।

