সংবাদ প্রতিখন আয়োজিত বর্তমান সময়ে কতটা প্রাসঙ্গিক কবিগুরু শীর্ষক ৺অনিমা চক্রবর্তী স্মৃতি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার ফলাফল আমরা আগেই প্রকাশ করেছি। আজ থেকে আমরা এই প্রতিযোগিতার সেরা প্রথম পাঁচটি প্রবন্ধ প্রকাশ করতে চলেছি। আজ প্রকাশিত হচ্ছে এই প্রতিযোগিতার বিচারকদের বিচারে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া নার্সারি রোড, আদর্শনগর, বৈদ্যবাটি, হুগলি থেকে লালু নেয়ে’র লেখা প্রবন্ধ

লালু নেয়ে, বৈদ্যবাটি, হুগলি: “যতদিন বাংলাভাষা ও সাহিত্য থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতাও থাকবে–” বুদ্ধদেব বসুর স্বীকারোক্তিই প্রমান করে রবীন্দ্রনাথ আজও সবার হৃদয়ে বিরাজমান।
বর্তমান পরিবেশ সংকটে মানব অস্তিত্বের বিপন্নতার মাঝে ১৯১৬-তে “জাপানযাত্রী”-র অভিজ্ঞতাটি নিছকই একটি ডায়েরি হয়ে থাকেনা।
দেখা দেয় সতর্কবার্তার প্রত্যক্ষস্তম্ভরূপে। মানবিক, আধ্যাত্মিক, বৈজ্ঞানিক চিন্তা-কর্মের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন রবীন্দ্রনাথের পরিবেশবান্ধব নির্মানভাবনারই বহিঃপ্রকাশ। পরিবেশ সৃষ্টিতে মানবিক মূল্যবোধের যে প্রয়োগক্ষেত্র তিনি রচনা করেছিলেন মানব ইতিহাসে তা গুরুত্বপূর্ণ।
আর্দশ ও চারিত্রিক বলিষ্ঠতার প্রতিফলন তিনি রেখে গেছেন তাঁর সুবিশাল সৃষ্টিতে। আজকের অস্থির সমাজের কাছে সেই সৃষ্টিই অতি অল্পসময়ে পৌঁছে যাচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে।
তাঁর সৃষ্টিসম্ভারের নানাবিধ আয়োজন আজও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখ,বিরহ-মিলন প্রাত্যহিক কাজকর্মের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি “১৪০০সাল” কবিতাটি লিখেছিলেন আজকের শতকের জন্যই। তিনিও নিশ্চিত ছিলেন,এই শতকেও তাঁর রচনার সমান গ্ৰহনযোগ্যতা থাকবে।
তিনি নারীকে উপস্থাপন করেছেন স্বাধীনচেতা ও সাহসী করে যা আজও একইরকমভাবে প্রাসঙ্গিক।
উৎসবে, আনন্দে, মহাসংকটে রবীন্দ্রনাথই অনুপ্রেরনা ও আশ্রয়। তাঁকে ধারন করেই আগামী প্রজন্ম সমৃদ্ধিলাভ করবেই। তাঁর শান্তির বাণী,উপলদ্ধি,সাম্যের কথা আরো বেশি প্রণিধানযোগ্য।
রবীন্দ্রনাথ যে বিস্তৃত মহাসমুদ্ররূপ রচনাসমগ্র রেখে গেছেন তাঁর প্রতিটিক্ষেত্রই বাঙালির মনন ও চৈতন্যের জন্য শিক্ষাচিন্তার স্মারক ও বাহক।
তাঁর কবিতা,গান, নাটক ও অন্যান্য রচনায় প্রকাশ পায় নান্দনিকতা, প্রকৃতিপ্রেম ও মানবপ্রেম। আর সেখানেই রবীন্দ্রনাথ কালজয়ী। তিনি সর্বদেশে,সর্বসমাজে প্রাসঙ্গিক।
রবীন্দ্রনাথই প্রথম সমবায় ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নিজেও ভাবতেন, জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা যতই আধুনিক হবে, যতই উদ্ভাবনীশক্তির সম্ভাবনা মানুষের দ্বারে পৌঁছবে, ততই দেশ ও জাতি অগ্ৰগামীশক্তির সম্ভাবনা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।
রবীন্দ্রনাথের এই আধুনিক ধারনা বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিরযুগেও কতো প্রাসঙ্গিক তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাঁর চিন্তাধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর চিন্তাধারা দেশ-কাল-সময়ের ক্ষুদ্র গন্ডির বলয় অতিক্রম করে অগ্ৰসর হয়েছে বিশ্বায়নের পথে।
এজন্যই রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকবি।তিনি আধুনিক ভারতের নবতীর্থভূমি, ভারত-আত্মার বিগ্ৰহ।

বর্নাঢ্য প্রতিভার অধিকারী রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা। তাঁর কথায় – “মোর নাম এইবলে খ্যাত হোক / আমি তোমাদেরই লোক–“।
