গরমে শরীর ঠিক রাখতে পান করুন ডিটক্স ওয়াটার

বর্তমানে আমরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সর্বত্র একটা বিষয় ভীষণভাবে লক্ষ্য করছি আর সেটা হলো “ডিটক্স ওয়াটার”।

আমরা সবাই জানি যে স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখার জন্য শরীরকে আদ্র রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই দিনে আট গ্লাস জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনেকের মতে জলের মধ্যে অন্য কিছু উপাদান যোগ করলে সেই উপাদানগুলো জলের পুষ্টিগুণ অনেকটা বাড়িয়ে তোলে। আর এটাই হলো “ডিটক্স ওয়াটার”।

এটা বলা হয় যে “ডিটক্স ওয়াটার” আপনার শরীরের থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলোকে দূর করে, আপনার এনার্জি লেভেলকে বাড়ায় আর আপনার ওজনকে কমাতেও সাহায্য করে।

ডিটক্স ওয়াটার কি?

ডিটক্স ওয়াটার- সাধারণ জলের মধ্যে টাটকা ফল, শাকসবজি, বা ঔষধি গাছপালা (হার্বস) মিশিয়ে এই জল তৈরি করা হয়। এই জলকে অনেকে ফ্রুট-ইনফিউজড ওয়াটার বা ফ্রুট-ফ্লেভার্ড ওয়াটারও বলে থাকেন।

এটাকে বিভিন্নভাবে বাড়িতে বানানো যায় আর এটা বানানোর জন্য আপনি আপনার পছন্দ মতো ফল, শাকসবজি, বা ঔষধি গাছপালা (হার্বস) ব্যবহার করতে পারেন।

যেহেতু এটাকে জুস না বানিয়ে বা ব্লেন্ড না করে শুধুমাত্র ফ্লেভারকে ইনফিউজ করে বানানো হয় তাই ডিটক্স ওয়াটারে খুব কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকে। এটা দিয়ে ডিটক্স রেজিমেনের জন্য লেমন “মাস্টার ক্লিনজ” বা “লেমন ডিটক্স”-এর মতো বিভিন্ন ড্রিংক তৈরি করা যায়।

ওজন কমানোর জন্য ওয়েট লস প্ল্যানে বেশিরভাগ সময়তেই হাই সুগার ড্রিংক্স এবং ফলের রস বা ফ্রুট জুসের পরিবর্তে ডিটক্স ওয়াটার পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কিভাবে বানাবেন ডিটক্স ওয়াটার?

আপনি শুধুমাত্র জল আর আপনার পছন্দমতো ফল, শাকসবজি, বা ঔষধি গাছপালা (হার্বস) দিয়ে বাড়িতে খুব সহজেই ডিটক্স ওয়াটার বানিয়ে নিতে পারবেন।

উপাদানগুলোকে কেটে নিন আর সেগুলোকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী গরম বা ঠান্ডা জলের মধ্যে দিয়ে দিন। আপনি যতো বেশি উপাদান ব্যবহার করবেন, ফ্লেভারটা ততো বেশি শক্তিশালী হবে।

আপনি যদি ঠান্ডা পানীয় বা কোল্ড ড্রিংক তৈরি করতে চান সেক্ষেত্রে আপনি ডিটক্স ওয়াটারকে 1 থেকে 12 ঘন্টা পর্যন্ত ফ্রিজে রাখতে পারবেন যার ফলে ফ্লেভারটা আরো ভালোভাবে জলের মধ্যে মিশে যাবে।

১২ ঘন্টা পরে অবশ্যই উপাদানগুলোকে জলের মধ্যে থেকে বার করে নেবেন যাতে সেগুলো পচতে না শুরু করে।

আপনি যদি খুব তাড়াতাড়ি ডিটক্স ওয়াটার বানাতে চান তাহলে আপনি যে ফল, শাকসবজি, বা ঔষধি গাছপালা (হার্বস) ব্যবহার করছেন সেগুলোকে পিষে বা থেঁতলে নিতে পারেন কারণ এর ফলে খুব তাড়াতাড়ি ফ্লেভার জলের মধ্যে মিশে যাবে।

ডিটক্স ওয়াটার বানানোর জন্য কিছু জনপ্রিয় রেসিপির কম্বিনেশন এখানে দেওয়া হলো:   

  • লেমন এবং লাইম।
  • লেবু (লেমন) এবং আদা।
  • লেবু এবং লাল লঙ্কা (cayenne pepper)।
  • শসা এবং পুদিনা।
  • তরমুজ এবং পুদিনা।
  • ব্ল্যাকবেরি এবং কমলালেবু।
  • বাতাবিলেবু (জাম্বুরা) এবং রোজমেরি।
  • কমলালেবু এবং লেবু (লেমন)।
  • স্ট্রবেরি এবং তুলসী। আপেল এবং দারুচিনি।

স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ডিটক্স ওয়াটারের উপকারিতা:

  • ওজন কমানো (ওয়েট লস)।
  • হজমশক্তিকে বাড়ায়।
  • মুডকে ঠিক করে।
  • এনার্জি লেভেলকে বাড়ায়।
  • রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বাড়ায়

ডিটক্স ওয়াটারের সঠিক বৈশিষ্ট্য আপনি কোন উপাদান ব্যবহার করছেন এবং সেই উপাদানগুলো কতোটা পরিমাণে জলের সাথে মিশছে তার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে ডিটক্স ওয়াটারের থেকে আমরা যে পুষ্টি পাই তার বেশিরভাগটাই আমরা শুধুমাত্র জল থেকেই পেতে পারি।

তার কারণ হলো, যে আপনি ডিটক্স ওয়াটারের মধ্যে মেশানো উপাদানের থেকে ততটা পুষ্টি পান না, যতটা পুষ্টি আপনি সেগুলোকে আলাদা করে খেলে পেতেন।

আসুন আমরা উপরে উল্লেখ করা উপকারিতাগুলোর ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই: 

ওজন কমাতে সাহায্য করে:

জল পান করলে সেটা আপনার ওজনকে কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এই একই জিনিস ডিটক্স ওয়াটারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জল অস্থায়ীভাবে আপনার মেটাবলিক (বিপাকীয়) রেটকে বাড়াতে পারে আর এর ফলে আপনি প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি খরচ করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে যে আপনি যদি আধ লিটার জল পান করেন তাহলে সেটা প্রায় এক ঘন্টা পর্যন্ত আপনার মেটাবলিক (বিপাকীয়) রেটকে 30% পর্যন্ত বাড়াতে পারে। 

আর যাঁরা তাঁদের ওজন কমানোর জন্য দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করেন তাঁদের ওজন তুলনামূলকভাবে তাড়াতাড়ি কমে। 

হজমশক্তিকে বাড়ায়:

হজম এবং নিয়মিত মলত্যাগের জন্য শরীরকে আদ্র রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্রনিক ডিহাইড্রেশনের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে যার কারণে আপনার পেট ভার হতে পারে। 

প্রচুর পরিমাণে জল পান করলে সেটা খাবারকে আপনার অন্ত্রের মধ্য দিয়ে মসৃণভাবে যেতে সাহায্য করতে পারে এবং এর ফলে এটা আপনাকে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

মুডকে ঠিক করে এবং এনার্জি লেভেলকে বাড়ায়:

অনেক সময় অল্প ডিহাইড্রেশনও মুড, একাগ্রতা আর এনার্জি লেভেলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে শরীরে আদ্রতা কম থাকলে তার ফলে মেজাজ খারাপ হতে পারে, একাগ্রতা নষ্ট হতে পারে আর মাথা যন্ত্রণা হতে পারে। আর শরীরে সঠিক পরিমাণে আদ্রতা বজায় থাকলে মন ভালো থাকে, শরীরে এনার্জি বেড়ে যায়। 

তাই ভালো থাকার জন্য, শরীরের এনার্জি বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।

রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বাড়ায়:

এটা বলা হয় যে ডিটক্স ওয়াটার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বাড়ায় তবে সেটা সামান্য পরিমাণে।

আমরা জানি যে ফল, সবজি এবং ফলের রস খেলেও সেটা আমাদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বাড়ায়। আর এটাও দেখা গেছে যে নিয়মিতভাবে ভিটামিন সি খেলে সেটা আমাদের ইমিউন সিস্টেমের জন্য উপকারী। 

তবে এই ধরণের উপাদানগুলো থেকে ডিটক্স ওয়াটারে যে পরিমাণ পুষ্টি যায় সেটার পরিমাণ খুবই কম থাকে।  

সারসংক্ষেপ:

ডিটক্স ওয়াটার পান করা স্বাস্থ্যকর। তবে সাধারণ জল পান করলেও এই উপকারিতাগুলো পাওয়া যায়। 

তবে অনেকে শুধু জল খেতে পছন্দ করেন না। সেক্ষেত্রে যদি জলের মধ্যে ফল, সবজি আর হার্বসের ফ্লেভার মিশিয়ে সেই জল (ডিটক্স ওয়াটার) প্রতিদিন পরিমাণ মতো পান করা হয় তাহলে সেটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো হতে পারে। 

তবে এর সাথে আপনাকে সঠিক ডায়েট মেনে চলতে হবে আর অবশ্যই আপনার নিউট্রিশনিস্ট বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading