
কিশলয় মুখোপাধ্যায়: আধুনিক অলিম্পিক আসরে আমেরিকার প্রথম সোনাজয়ী মহিলা খেলোয়াড়ের জন্ম হয়েছিল আমাদের এই তিলোত্তমা কলকাতায়। সালটা ছিল ১৮৭৮ আর তারিখটি হচ্ছে ১৫ জুন। গল্ফ খেলার এই সোনার মেয়েটি হলেন মার্গারেট ইভস অ্যাবট। ১৯০০ সালে প্যারিসে বসেছিল অলিম্পিকের দ্বিতীয় আসর। আর আশ্চর্যজনক ভাবে তিনি জীবদ্দশায় জেনে যেতে পারেননি যে তিনি অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন। গল্ফার মার্গারেট অ্যাবট ১৯৫৫ সালে ১০ জুন দেহত্যাগ করেন। আসলে তখন অনেকেই জানতেন না যে তাঁরা অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন। এটা যে অলিম্পিক হচ্ছে সেটাই অনেকে জানতেন না। এছাড়া সাংগঠনিক দুর্বলতাও ছিল বিস্তর। মার্গারেট অ্যাবট আর তাঁর মা মেরি অ্যাবট দুজনেই অলিম্পিকে অংশ নেন। এও এক রেকর্ড। মেয়ে নাইন হোল গল্ফে ৪৭ স্ট্রাইক করে প্রথম স্থান লাভ করেন। আর মা ৬৫ টি স্ট্রোক করে সপ্তম স্থান লাভ করেন। খেলাটি হয়েছিল অক্টোবরের ৩ তারিখ।

মেরি অ্যাবট তাঁর স্বামীর কর্মসূত্রে কলকাতায় আসেন এবং মার্গারেটের জন্ম হয়। মেরি অ্যাবট ছিলেন সুলেখিকা। ১৮৮৪ সালে সপরিবারে মার্গারেটরা শিকাগো চলে যান। মেরি অ্যাবট শিকাগো ট্রিবিউন এবং শিকাগো ইভিনিং পোষ্টে নিয়মিত কলাম ও ফিচার লিখতেন। দা বেভারলি: আ স্টোরি অফ ক্যালকাটা বইটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। শিকাগো গল্ফ ক্লাবে তিনি সিরিয়াসলি খেলতে শুরু করেন। মার্গারেট মূলত মা কে দেখেই উৎসাহিত হয়ে গল্ফ খেলা শুরু করেন। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করেন। তাঁদের কোচ ছিলেন উইঘাম ও চার্লস ম্যাকডোনাল্ড। মার্গারেট প্যারিসে পড়তে আসেন। সঙ্গে আসেন তাঁর মা। এই সময় মেরি অ্যাবট একটি ভ্রমণ কাহিনি লেখেন-আ উওম্যান’স ইন প্যারিস: আ হ্যাণ্ডবুক অফ এভরিডে লিভিং ইন দি ফ্রেঞ্চ ক্যাপিটাল। মার্গারেট পেপারে নোটিশ দেখে গল্ফ খেলায় অংশগ্রহণ করেন। তখন তাঁরা জানতেন এটি একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা।

মার্গারেট ১৯০২ সালে ফিনলি পিটার ডুনেকে বিয়ে করেন।১৯৭০-৭৩ সাল নাগাদ এই সোনা জয়ের ব্যপারটা সামনে আসে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পৌলা ওয়েলচ জীবনী নিয়ে গবেষণা করে এটা বের করেন। ১৯৮০ সাল নাগাদ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। যোগাযোগ হয় ছেলে ফিলিপ ডুনের সঙ্গে।

১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিক থেকে মহিলা খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করছে। এই অলিম্পক ১৪ মে থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল আর প্রায় ৯৯৭জন অংশগ্রহন করেন, এর মধ্যে ২২ জন মহিলা খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিলেন।

