প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর যৌবনের ঋতু বসন্ত

একটি বিশেষ প্রতিবেদন

পারমিতা ভট্টাচার্য্য চক্রবর্তী: “ আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/তব অবগুন্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে করো না বিড়ম্বিত তারে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে” কবিতার দুটি লাইন। আমাদের দেশ ঋতুবৈচিত্রের সৌন্দর্যময়তায় পরিপূর্ণ। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রকৃতির রূপে ফুটে ওঠে এক একটি ভিন্ন রূপের পর্যায় । প্রকৃতি নবজীবনের নবরঙের সংস্পর্শে জেগে ওঠে নতুন আনন্দে। বাংলার প্রকৃতিতে ঋতুচক্রের ছয়টি ঋতু পরিস্ফুট স্বতন্ত্রভাবে। ঋতুদের অগ্রজ যদি ধরা হয় গ্রীস্মকে তবে বসন্ত হল এই চক্রের সর্বশেষ ঋতুটি। বছরের শেষ লগ্নে ফাল্গুন চৈত্র মাসের ব্যাপ্তিতে সমাগত হয় বসন্ত। মাঘের শেষ দিক থেকে শীতের হিমেল হাওয়ায় যখন কিঞ্চিৎ ভাঁটা পড়ে, হালকা মৃদু শীতভাব যখন আর ভীষণই অস্বস্তিকর বোধ জাগায়না, তখনই শীতের কুয়াশা জাল ফুঁড়ে যেন নবীন বসন্তের দ্যুতি প্রকৃতির অঙ্গ ছুঁয়ে যায়। “আহা আজি এ বসন্তে/এত ফুল ফোটে — এত বাঁশি বাজে –এত পাখি গায়।”-কবিগুরুর ভাষায় বসন্ত এভাবেই পরিচিত জনমানসে। কারণ প্রকৃতির পরতে পরতে যেখানে যেটুকু রূপ আছে তা যে জেগে ওঠে এই ঋতুতেই। আর প্রকৃতির এই অঙ্গসজ্জা দেখে পাখিরাও গান গায়, বসন্ত ছুঁয়ে যায় কবি কলম কেউ এভাবে বারবার।

“ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল/ডালে ডালে পঞ্জিত আম্র মুকুল/চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়/বেনুবনে মরমরে দক্ষিণবায়।”-রবীন্দ্রনাথের ফাল্গুন কবিতায় এহেন বসন্ত বন্দনা যে কতটা যথাযথ তা যে কোন প্রকৃতিপ্রেমিক মানুষের কাছে এক বাক্যে স্বীকার্য। ফাল্গুনে বিকশিত ফুল যেন তার পরিস্ফুটনের মাধ্যমে আনন্দের বার্তা, যৌবনের বার্তা নিয়ে আসে। বলতে গেলে বসন্ত এক বিচিত্র ঋতু। একদিকে শীত বিদায়ের শেষলগ্নে এর আগমন হেতু– সদ্যকাত শীতের শুষ্কতা সহ্য করে গাছগাছালির বিবর্ণ পাতার ঝরে পড়া, বৃক্ষরাজীর শুষ্ক বাকল পরিত্যাগের ইচ্ছা যেন এক হাহাকারের ইঙ্গিত দেয় প্রকৃতি মায়ের কোলজুড়ে। পাতা ঝরার মরসুমে কি যেন এক শূন্যতা গ্রাস করিতে আসে মনকে।ঘনবনানির মাঝে হারিয়ে যেতে গিয়ে দেখি এ তো যেন শুষ্ক মরু–শূন্য ডালপালা পাতা হারিয়ে হতাশা জাগায়। এদিকে পায়ের নিচে শুকনো পাতার মরমর করে চূর্ণ হওয়াও মনকে আদ্র করে; তবে তারই মাঝে এক রোমাঞ্চকর হওয়া যখন হঠাৎ করে আবির্ভাব হয় তখনই চোখে পড়ে যায় গাছের শুকনো কোন এক ডালে নবীন কচি সবুজ পাতার উন্মেষের ক্ষুদ্র এক শ্যামল প্রকাশ। মন আনন্দে প্রফুল্লিত হয়, ভাবনা জাগে—“হারায়নি কিছু হারায় না কোন কিছু চিরতরে,/তুমি বসন্ত, যাবে আসবে বারবার/ভালবাসবে, প্রেম ছোঁয়া দিয়ে অন্তরে।” বসন্ত আমাদের কাছে পরিচিত ঋতুরাজ হিসেবে। কিন্তু কেন যে ঋতুরাজ সেই বিশ্লেষণ করতে গেলে প্রথমেই মনে করতে হয় এ ঋতুর বহিঃপ্রকাশগুলিকে, অনুভব করতে হয় বসন্ত ছোঁয়া আবেশকে।এসময় না থাকে শীতের প্রাবল্য, না থাকে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ, না থাকে শ্রাবণের বারিধারা। ভেবে দেখলে প্রকৃতির মধ্যে এ সময় কোন রূপেরই চরমপ্রকাশ দেখা যায় না। আর এ বিশ্ব সংসার, এ পৃথিবী, এ প্রকৃতি, এ সৃষ্টি তারা কেউই তো কোন প্রকার চরমতম প্রকাশগুলিকে  চিরকালীন করার পক্ষে যায় না। সবই যেন এক শান্ত স্থিতিময়তার বিশ্বাসে বিশ্বাসী। আর তাইতো বারবার বছর শেষে সব ঋতুগত আবহাওয়ার প্রাবল্যগুলিকে দূরে সরিয়ে ফাগুন আসে বসন্তের বার্তা নিয়ে। এসময় প্রকৃতি যথেষ্ট রূপে অনুকূল থাকে বলেই হয় বসন্ত সবার কাছে চির সমাদৃত এক বিচিত্র সুন্দর ঋতু।

বসন্তের আগমনে প্রকৃতির আনাচে কানাচে চারপাশে সাজো সাজো রব।শেষের পরে শুরু থাকে -এই বিশ্বাস নিয়ে পাতা ঝরা শুকনো ডালে কচি পাতা আসে। বিবর্ণ বৃক্ষরাশি শ্যামল বসনে সাজে। নতুন ভাবে আবার ফুল ফোটা শুরু হয়। আর মনমাতাল করে দেয় এক অদ্ভুত দখিন হাওয়া। হ্যাঁ এই সেই দখিন হাওয়া যা বেনুবনে , মমরিত হয়ে কবি কলমে বর্ণিত হয়েছিল।এই সেই দখিন হাওয়া যা মন কেমন করে দেবেই দেবে,  তাইতো রবীন্দ্রনাথ আবার লিখতে গিয়ে জানিয়েছেন-“বেনুবর্ণে মর্মরে দখিনা বাতাসে, প্রজাপতি দোলে ঘাসে ঘাসে।” প্রজাপতি তো আসে প্রকৃতির অপরূপ অঙ্গসজ্জার আকর্ষণে মোহিত হয়ে, আর এটা বসন্তেই সম্ভব পূর্ণমাত্রায়। অন্যদিকে মনে হয় কবির লেখা এই বসন্তের প্রজাপতি যেন রূপকমাত্র। তাই নয় কি? বসন্ত প্রকৃতি যে কোনও প্রকৃতিপ্রেমিকের মনে প্রজাপতি ডানা মেলার স্বপ্নই তো জাগায়। মন বলে— “কুয়াশার মায়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে এসো ফাল্গুন, বিস্তারিত হয়ে থেকো অন্তত: চৈত্র অবধি, বৎসরান্তে প্রতিবার একবার করে তোমায় ছুঁয়ে দেখাটাকেই, অনুভব করাটাকেই আমি জীবন বলি।”

অন্যদিকে বসন্তের ফাল্গুনকে—“কেউ বলে ফাল্গুন, কেউ বলে পলাশের মাস। আর আমি বলি ফাগুনে রাঙা প্রেম ও প্রকৃতির সহবাস।” শীতশেষের শূন্য শুষ্ক প্রকৃতির বুকে আগুন জ্বলিয়ে যে রং আকাশ-বাতাস প্রচলিত করে ফুটে ওঠে তাইতো পলাশ, প্রেমের আভাস। বসন্ত তাই রঙিন এক ফুলঋতু। শুধু পলাশ নয়, শিমুল অশোক সকলেই তাদের রাঙা উজ্জ্বল রঙ এর তীব্রতায় ফাগুনের যেন আগুন জ্বালিয়ে উপস্থিত হয়। কবির ভাষায়— “রাঙা হাসি রাশি রাশি অশোকে, পলাশে, /রাঙা নেশা মেঘে মেশা প্রভাত ও বাতাসে।” এই শিমুল পলাশের কথা উঠতেই মনে পড়ে যায় একটি ঘটনা। শহরতলীর এক স্টেশন চত্ত্বর, লোকাল ট্রেনের আনাগোনা চলছে। সময়টা ছিল কোন এক বসন্তের দুপুরবেলা। সেই ভরা দুপুরে শহরতলীর স্টেশনে যেন বড্ড যান্ত্রিক, বড্ড মেপে চলা জীবনের চলাচলে মূক হয়ে আছে। আর ওই যে এক শীত শেষের শীর্ণতা তাও যেন ততটাও ছেড়ে চলে যায়নি এখনো। তাই খুবই সাদাকালো সে দুপুরে সকলের যে যার ব্যস্ততায়, আসা-যাওয়ার তারায় নিবিষ্ট।এই সবার মাঝেই সেই স্টেশনে আছেন একজন একটু অন্য মানুষ, প্রকৃতি ঈশ্বর তারই চেতনার দৃষ্টিতে সেদিন ভর করে। উনি স্পষ্ট দেখতে পান একটি ডালপালাময় গাছ প্লাটফর্মের শেষে একা দাঁড়িয়ে, যার সর্বাঙ্গ ঢেকে আছে রাঙা ফুলে-মহুয়া গাছ। কি অদ্ভুতভাবে সারা গাছটির সর্বাঙ্গ লালে লাল হয়ে আছে। কি আশ্চর্যজনকভাবে এটির দিকে যেন কারো নজর নাই। এই ব্যস্ত সর্বস্ব স্টেশন কেন্দ্রিক নগরে কি বা থাকতে পারে এই বসন্তের রঙিন হয়ে ওঠা গাছটির গুরুত্ব। তার এই অপরূপ রাঙা বেসে সেজে ওঠা যেন এখানে অনাদৃত বলে মনে হল দর্শকটির। মন ছুইঁয়ে গেল ওই ফুলের না বলা অভিমান। সেই অভিমান দর্শন মানুষটির কলমে ভর করলো এরপর, মানুষটি ভেবেছিল যে প্রকৃতির পরিবর্তন সব আগে বুঝে যে নিজেকে এই অপূর্ব অঙ্গ শয্যায় সজ্জিত করে তুলল, কেউ তাকে যদি নাই দেখল তবে কেন সে এখানে থেকে যাবে অবহেলায়। তার মন বলে উঠল–রক্তিম বৃক্ষটির আর একদণ্ড এখানে থাকা উচিত না। তার অন্য দেশে যাওয়া উচিত যেখানে তার কদর হবে—সেই দেশের নামটিও সবার জানা আছে–সেটি হল– লাল পাহাড়ের দেশ। আমাদের দেশজ ভাষার মূর্ছনায় শ্রীরামপুর স্টেশনে বসে কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তী লিখে ফেললেন সেই কালজয়ী এক গান— “ লাল পাহাড়ির দেশে যা রাঙামাটির দেশে যা—” বসন্ত ঋতুর বন্দনায় বারবার রবীন্দ্রনাথে ফিরতে হয়। প্রকৃতির অঙ্গে অঙ্গে ফাগুনের প্রকাশ রাঙা দৃষ্টিআকর্ষক পুষ্পরাজির বিপুল সমারোহে। ফুলের রাঙা রঙে যেন বৃক্ষরাজীর ছত্রে ছত্রে আগুন লেগে যায়।

বসন্ত যৌবনের ঋতু, প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর এক ঋতুকাল। বারবার কবিগুরুর কলমে সমৃদ্ধ গুনকীর্তন বর্ণনা হয়েছে তাই এই বসন্তের আগমনে। বসন্ত তার চোখে উদার নীল আকাশ, যে ফুল ফুটিয়ে আগুনের রূপে, প্রেমের রং দিয়ে ভরিয়ে দেয় চারপাশটা। এক মোহময়তা রক্তিম রূপে মনকে উত্তেজিত করে দেয়। প্রকৃতি যেন কেবলই তখন যৌবনের গান গায়। আচ্ছা যে ফাল্গুন রাঙা ফুলের ব্যঞ্জনায় রঙিন, তাকে কি বন্ধ চোখে, রাঙা ফুলের অচন্নকরণ ছাড়া চেনা যায় না? ভাবতে গেলে বা বুঝতে গেলে আগেই চোখ দুটি একটুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে। অনুভব করে দেখতে হবে কোথায় ফাগুন, কেমন হয় বসন্ত অনুভূতি। আমি ফাল্গুনকে বেশি করে চিনি হাওয়ার দোলাচলে। এ ফাগুন শুধু ফুলের ফাগুন নয়, এ তো দখিনা বাতাসেরও ফাগুন, যাকে অনুভবে পাওয়া যায় বেণুবনের মর্মর ধ্বনিতে। কি যে একটা মন উদাস করা এক হওয়া বয়ে যায়– এ ফাগুনে তা যে অনুভব করেছে সেই জানে। এ হাওয়া পাগল হাওয়া হয়তো খানিকটা নেশাছন্নতা আনে, তাই ঘোর লাগে লেগে যায়। পরিশেষে মন কেমন ও নেশাময়তা মিশে গিয়ে প্রেমই আসে বারবার– বসন্ত তাই প্রেমেরই ঋতু।

বসন্তের রূপ ও সৌন্দর্য্য মানব মনকে আকৃষ্ট করে চিরকাল । শীতের শীর্ণ সাজ ফেলে প্রকৃতি এক আশ্চর্য মায়ার সজ্জায় অপরূপা হয়ে নবযৌবনের প্রাণ চঞ্চলতায় মুখরিত হয়ে ওঠে। নব কিশলয় ভারে মঞ্জরীত হয়ে ওঠে  বৃক্ষশাখা। উষা থেকে গোধূলি অবধি প্রকৃতির এই অপূর্ব সাজের সাথে যোগ্য সঙ্গতে সুর মেলায় কোকিলের কুহু কুহু ডাক। কোকিলের ই সুমধুর কলতান যেন বসন্তেরই জয়গান গায় , তাই বসন্তেরই দুত বলে মনে করা হয় কোকিল কে। প্রিয় কবির লেখা গানে বসন্ত ধরা আছে কিছুটা এভাবে – “বসন্ত এলো এলো এলো রে / পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহুরে / মুহু মুহু কুহু কুহু তানে / মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে /ভ্রমর গুঞ্জে গুঞ্জে গুনগুন গানে।”এলোমেলো দখিনা বাতাসে যখন আম্র মুকুল এর ঘ্রান ভেসে আসে, যখন তার সাথে মিশে যায় আরো কিছু নেশা লাগা বুনো ফুলের গন্ধ , তখন মনে হয় প্রকৃতি সত্যিই যেন নব যৌবন রসে নিজেকে ডুবিয়ে হাতছানি দিচ্ছে। কবির ভাষায় ” যৌবনেরই ঝড় উঠেছে আকাশে পাতালে। / নাচের তালে ঝংকারে তা আমায় মাতালে।”

বসন্ত তাই আনন্দ উৎসব উদযাপনের রঙিন ঋতু। হাজার হাজার কৃষ্ণচুড়া , রাধাচুড়া , নাগলিঙ্গম বেরিয়ে এসে তাদের সুসজ্জিত বাহুবন্ধনে আলিঙ্গন করে ভ্রমর ও পক্ষীকুলকে। বসন্তের ই অমোঘ হাতছানি উপেক্ষা করা যায় না। এ হাতছানি হল প্রগাঢ় ভালোবাসার , রঙের উৎসবে মেতে ওঠার। হ্যা , বসন্ত অন্যধারে দোল উৎসব উদযাপনের ঋতু নামেও পরিচিত । মানুষ ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ কষ্ট ভুলে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে এই রঙের উৎসবে। প্রতি দোলের কালে যেন  ডাক আসে এভাবেই – “ওরে গৃহ বাসী খোল দ্বার খোল , লাগলো যে দোল,  স্থলে জলে বনতলে লাগলো যে দোল,  দ্বার খোল দ্বার খোল।”

দোল উৎসব প্রাণের উৎসব, মনের উৎসব, ভালবাসার উৎসব। মহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী যাকে বলেছেন, ঋতুর উৎসব। সত্যিই তো গীতাতেও স্পষ্ট বলেছেন ভগবান ‘ঋতুনাং কুসুমাকরঃ। পদ্মপূরানেও একই সুরের অনুকরণ। স্কন্দপুরাণের উৎকল খণ্ডে ষোলো থামওয়ালা মণ্ডপ তৈরি করে দোল খেলারও উল্লেখ রয়েছে।  এই প্রাণরাঙানো মন্ত্র কিন্তু মানব-মানবী উচ্চারণের সাহস পেয়েছিল রাধা-কৃষ্ণের হোরিলীলা থেকেই। এ তো ললিত রঙ্গে, রস তরঙ্গে প্রাণের সঙ্গে হোলি খেলার মুহূর্ত!  ফাগুন লেগেছে বনে বনে। কুমকুমে রাঙা ফাগে আবিরের অনুরাগ। নিধুবনে একাকী শ্যামকে পেয়ে মন মানেনা রাধারানির। দু’হাতে আবির নিয়ে মনের সুখে মাখিয়ে চলে রাইকিশোরী তার বধুঁয়াকে… এই বসন্তে মথুরা বৃন্দাবনের আকাশ রঙিন হয়ে উঠেছে! সলজ্জ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ব্রজশ্বরী। রং ভরা পিচকারি তাঁর দিকেই তাঁক করে আছেন ব্রজেশ্বর। সখীরা আহ্লাদিত। রঙের পাত্র উপুড় করে দিচ্ছেন শ্যামসুন্দরের গায়ে। ব্রজগোপী খেলে হোরি…! শ্যাম-দুলালীর এই বসন্তলীলাই রূপ বদলে হোলি খেলা বা দোলের রূপ নিয়েছে। এই যান্ত্রিক যুগেও আজও প্রবহমান বসন্ত বন্দনা , আজও প্রেমের আবেগ নিয়ে জোরালো ভাবেই প্রাসঙ্গিকই ঋতু।

বসন্ত মানেই একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে, মানুষকে করে আনমনা। এমনও মধুর দিনে এমন শঙ্কাও কি জাগে না অধীর প্রতিক্ষায় থাকা কোন মনে- “সে কি আমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে- জানিনে…?”। কবি সুফিয়া কামাল বলেছেন, “হে কবি! নীরব কেন-ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” পরিশেষে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের যুগান্তকারী সেই লাইন দুটো ছাড়া আজকের এই  বসন্ত গাঁথা অসম্পূর্ন রয়ে যাবে  —

ফুল ফুটুক না ফুটুক

আজ বসন্ত।

শান-বাঁধানো ফুটপাথে

পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ

কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে

হাসছে।

ফুল ফুটুক না ফুটুক

আজ বসন্ত।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading