আদিমতা ও নারী

গতকাল অতিবাহিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন, কলমে শিপ্রা ব্যানার্জী

আচ্ছা শাঁখ বেজেছিলো কি?

হয়তো বেঁজেছিল; না কে আর বাঁজাবে?

শাড়ির আঁচলের কোনা দিয়ে মুখটা মুছতে মুছতে তরু ভাবে। আজ যে ওর জন্ম দিন সেটাও কেও মনে করে বলেনি। তরুর জন্ম কি চোখে দেখা যায়?  সে বাড়ে,- বেড়ে ওঠে। তাকে বেড়ে উঠতে হয়, সবারই অগচরে। তেমনই তরু বেড়ে ওঠে পূর্ণ বাগিচায়- শুন্যস্থান পূর্ণ করে বেড়ে ওঠে তরু। সে এখন নিজগুনে সমৃদ্ধ। সত্যি কি সে উন্মুক্ত বাতায়নে চাইতে পারে?  সে বলে দোরগোরার বাইরে চাইতেই ভয় লাগে। কারণ তার যে সময় নেই, সে যে তরু, তাকে ছাঁয়া দিতে হবে, বাতাস দিয়ে প্রাণ জুড়িয়ে দিতে হবে, ঝড় এলে সেই ঝড়কে নিজের মাথার উপর দিয়ে বইয়ে দিতে হবে। পরম যত্নে মৃণাল ও বাহুলতা দিয়ে সবাইকে আবডাল করতে হবে। সে যে তরু লতা। কিন্তু তরুর জীবন? তরুরতো প্রাণ আছে, জীবন নেই। তরু- নারী না, নারী-তরু আজ আর সে বোঝে না। কি করে বুঝবে? দেহ সৌষ্ঠবের কিছু পরিবর্তনের কারণে যদি সে নারী হয় তাহলে সে সুজলা-সুফলা, শস্য শ্যামলা নারী বিশ্ব প্রকৃতি এটা তো তাকে কেউ বলেনি, কে বলবে? যে বলবে সেইতো জানেনা তার পরিমিতি বা ত্রিকোণমিতি। মাতো কখনো তাকে বলেনি, কি আর বলবে, সারা দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম আর পানের ডিব্বা নিয়ে বসে পান সাজা, দয়-দাখিন্য ছুড়ে পাওয়া এইতো রোজ নামটা, এইতো ছিল দ্রষ্ঠলাভ। যে অঙ্গন থেকে চারা রোপন হয় সেখানেই তো অঙ্কুরোধগম সঠিক না হয় তা ফুল প্রস্ফুটিত হয় না। সেখানে শুধু আদিমতা ও সন্তান উৎপাদনের নারীর প্রয়োজনীয়তা আর বুভুক্ষ তৃষ্ণা মিটাতে নারী, থুড়ি নারী একটা দেহবল্লরী তোলা একটা মাংসল শরীরই যথেষ্ঠ। আলাদা করে নারী আবার কি?  হায়রে ঈশ্বর নারী ও পুরুষ ভেদাভেদ করে পাঠিয়েছো,  কিন্তু তারে দিয়ে এসেছো অবহেলার শিকে। তার খেয়াতে দিয়েছো ফুটো শিকি। কালের নিয়মে সে উদ্ভিদ যৌবনা হবে কিন্তু তুমি তাকে সঙ্গে দিয়েছো এমন তরণী, যে তরণীতে কিন্তু হাতে তার বৈঠা নেই। বৈঠা দাওনি তাকে, কিন্তু তার আছে অসম সাহসী দুটো হাত যা জল টানতে পারে। এ জল টানা নয়,  ভুবনকে সে কপাল খুড়ে আগুন জ্বালাতে পারে। তাইতো তার কপালে জ্বলে আগুন। সে নারী, বিশ্বপ্রকৃতির তাকে কোন এক বিশেষ দিনে সম্মান দিতে হবে। দিয়ে কি হবে?  অফিস আদালতে,  কলেজ-স্কুলে, বক্তৃতা হবে। টিভি,  স্যোসাল মিডিয়া,  মিডিয়ায় চোখাচোখা বাক্যবানে একে অপরকে বিদ্ধ করবে। ঘটা করে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস পালিত হবে। আজই শেষ, কালকের জন্য আবার তুমি তৈরী হও। যদি জাগতে হয় ঐ চারা গাছগুলোকে তরুর ছায়া হয়ে উড়তে হবে। নিজের অধিকার নিজেকে বুঝে নিতে হবে। শাঁক বাজানোর অপেক্ষায় থাকতে হবে না।

আর্ন্তজাতিক নারী দিবস স্বার্থকতা পাবে ।

নারী ও পুরুষ ভেদাভেদ মুছে সমগ্র এক মানবজাতীতে পরিণত হবে।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

Powered by Joinchat