শিল্পনগরীতে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া দিবসের মেগা মহোৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরকে কেবল কারখানার শহর নয়, বরং দেশের অন্যতম প্রধান ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হতে চলেছে এক অভূতপূর্ব ক্রীড়া মহাকুম্ভ। দুর্গাপুরের ক্রীড়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং উদীয়মান প্রতিভাদের সঠিক মঞ্চ প্রদান করতে দুর্গাপুর ন্যাশানাল স্পোটর্স ডে সেলিব্রেশন কমিটি, ২০২৬ ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশন -এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হতে চলেছে এক বিশাল স্পোর্টস মহোৎসব। শহরের বিভিন্ন স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাব, অ্যাকাডেমি, স্কুল, কলেজ, জিম, কোচ, রেফারি এবং সর্বস্তরের খেলোয়াড়দের এক ছাতার তলায় এনে প্রতি বছর জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে কেন্দ্র করে এই মহোৎসব উদযাপনের ধারাবাহিকতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

এই মহাযজ্ঞের অন্যত্যম আহ্বায়ক সীমা দত্ত চট্টোপাধ্যায় আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে   জানান, এই মেগা আয়োজনের সূচনা হবে ২২ আগস্ট দুপুর ২টোয় সিধু কানু স্টেডিয়ামে, যেখানে ক্রীড়ামন্ত্রী ড. ইন্দ্রনীল খানের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই বের হবে এক বর্ণাঢ্য স্পোর্টস বাইক ও কার র‍্যালি। প্রায় ১,০০০টি বাইক, নানা ধরণের গাড়ি ও বিশেষ স্পোর্টস বাস নিয়ে আয়োজিত এই রোড – শো সমগ্র শহরজুড়ে ক্রীড়ার আবহ তৈরি করবে এবং ২৯ আগস্টের মূল অনুষ্ঠানের বার্তা পৌঁছাবে।

উৎসবের মূল দিন অর্থাৎ ২৯ আগস্ট সকাল ৭টায় সিধু কানু স্টেডিয়াম থেকে শহীদ ভগত সিং স্টেডিয়াম পর্যন্ত বের হবে এক দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় ‘গ্র্যান্ড স্পোর্টস র‍্যালি’। প্রায় চার হাজার শিশু, তরুণ অ্যাথলিট ও ক্রীড়াপ্রেমীরা এই র‍্যালিতে শুধু হেঁটেই যাবেন না, বরং পথজুড়ে বিভিন্ন খেলাধুলার সরাসরি লাইভ প্রদর্শনী করতে করতে এগিয়ে চলবেন।

এরপর সকাল ৯টা থেকে শহীদ ভগত সিং স্টেডিয়ামে শুরু হবে মূল উদযাপনী পর্ব। মর্যাদা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত, হকি জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মশাল দৌড়, মার্চ পাস্ট এবং এনসিসি ও স্কুল ব্যান্ডের পারফর্ম্যান্সের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটবে। মঞ্চে আয়োজিত হবে আদিবাসী নৃত্য, নারীশক্তিকে উৎসর্গীকৃত ক্রীড়া প্রদর্শন এবং খেলাধুলার ওপর ভিত্তি করে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

এই অনুষ্ঠানে রাজ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত প্রায় ২০০ জন অ্যাথলিট, প্রবীণ খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠকদের ‘অ্যাচিভার’, ‘এক্সেলেন্সি’, ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’ এবং ‘মেজর ধ্যানচাঁদ’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হবে। পাশাপাশি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে বসবে ৪০ থেকে ৪৫টি স্পোর্টস তাঁবু বা এক্সিবিশন স্টল, যেখানে বিভিন্ন খেলাধুলার তথ্য ও সরঞ্জাম তুলে ধরা হবে। প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ ক্রীড়াপ্রেমী এবং বিশেষ করে ২০০-রও বেশি মহিলা ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণে এই মহোৎসব দুর্গাপুরের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে চলেছে। কমিটির আহ্বায়ক সীমা দত্ত চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় এই ক্রীড়া আন্দোলন দুর্গাপুরকে ক্রীড়াজগতে এক নতুন পরিচিতি এনে দেবে।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

Powered by Joinchat