
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলী: দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাঙালির রসনাতৃপ্ত করে আসা হুগলী জেলার ভদ্রেশ্বরের তেলিনীপাড়ার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি প্রতিষ্ঠান ‘সূর্য কুমার মোদক’ (শৈলেন্দ্র কুমার মোদক অ্যান্ড সনস)-এর মুকুটে জুড়ল নতুন পালক। এবার এই প্রতিষ্ঠান ভূষিত হলো সম্মানজনক ‘লন্ডন বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ সম্মানে। সূর্য কুমার মোদকের প্রপৌত্র শুভেন্দু কুমার মোদক এই আন্তর্জাতিক সম্মান লাভ করেন।

উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই কলকাতার সল্টলেক সিটির ‘ট্যানজারিন রয়্যাল ব্যাঙ্কোয়েটস’-এ এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি প্রতিষ্ঠানটি ভূষিত হয়েছিল মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলার গৌরব’ পুরস্কারে। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলল।

‘সূর্য কুমার মোদক’ মূলত বিখ্যাত তার অনন্য সৃষ্টি ‘জলভরা সন্দেশ’-এর জন্য। ১৮১৮ সালে জামাইষষ্ঠীর একটি বিশেষ অর্ডারের জন্য সূর্য কুমার মোদক এই কালজয়ী মিষ্টিটি তৈরি করেছিলেন, যা আজও সমান জনপ্রিয়। দুই শতকেরও বেশি সময় ধরে এই দোকানের সিগনেচার মিষ্টি ‘জলভরা সন্দেশ’ তার শ্রেষ্ঠত্ব ও স্বাদ বজায় রেখেছে।

জলভরা ছাড়াও এই দোকানের আরেকটি অনবদ্য সৃষ্টি হলো ‘মতিচুর’। কথিত আছে, এই মিষ্টির নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরবর্তীকালে সূর্য কুমার মোদকের সুযোগ্য নাতি শৈলেন্দ্র কুমার মোদকের হাত ধরে এই মিষ্টির সুখ্যাতি বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে এই বিশাল ঐতিহ্যের হাল ধরেছেন চতুর্থ প্রজন্ম, অর্থাৎ সূর্য কুমার মোদকের প্রপৌত্র শুভেন্দু কুমার মোদক। পূর্বপুরুষদের তৈরি করা এই সুস্বাদু ঐতিহ্যকে পরম যত্নে আগলে রেখে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এবং ঐতিহ্যের স্বাদকে অক্ষুণ্ণ রেখে মেনুতে জলভরা ও মোতিচূড়ের পাশাপাশি এখন সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে গোলাপী প্যাঁড়া, ক্ষীরপুলি এবং আম সন্দেশ। এটি শুধুমাত্র কোনো সাধারণ মিষ্টির দোকান নয়, বরং বাংলার রন্ধন সংস্কৃতির এক জীবন্ত নিদর্শন।

