
নিজস্ব প্রতিনিধি, হুগলি: পঁচিশটি বসন্ত পেরিয়ে রজত জয়ন্তী বর্ষে পদার্পণ করেছে হুগলী জেলার উত্তরপাড়ার ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র ‘মনোমন্দির’। গত ৬ জুন, ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যায় উত্তরপাড়ার এক অনুষ্ঠান গৃহে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করল বাংলা তথা বিশ্বসাহিত্যের দুই দীপ্তিময় নক্ষত্র—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে।

‘গঙ্গাজলে গঙ্গাপূজা’ শব্দবন্ধটির সঙ্গে আপামর বাঙালি গভীরভাবে পরিচিত। যেখানে রবীন্দ্র-নজরুলকে স্মরণ করা হচ্ছে, সেখানে তাঁদের কালজয়ী সৃষ্টিকে বাদ দিয়ে সেই শ্রদ্ধার্ঘ্য কখনই পূর্ণতা পেতে পারে না। মনোমন্দিরের এই সান্ধ্যকালীন আয়োজনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দুই কবির গান, কবিতা ও সৃষ্টিশীল পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ।

এদিনের অনুষ্ঠানের সাবলীল ও তথ্যসমৃদ্ধ সঞ্চালনা পুরো অনুষ্ঠানটিকে একটি সুতোয় বেঁধে রেখেছিল, যা দর্শকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বসিয়ে রাখতে বাধ্য করে।

তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের গভীর মানসিক একাগ্রতা এবং তাঁদের গুরু পন্ডিত অমিত ঘোষের দেখানো মার্গ অনুসরণ করার এক অকৃত্রিম প্রয়াস। শুধু শিশু, কিশোর বা প্রবীণ শিল্পীরাই নন, এই মহতী অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছিলেন অভিভাবকেরাও। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং চমৎকার উপস্থাপনা রজত জয়ন্তী অতিক্রান্ত এই সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রের গৌরবকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। সামগ্রিকভাবে, সুর, বাণী ও সুনিপুণ সঞ্চালনার মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি শ্রোতাদের মনে এক দীর্ঘস্থায়ী রেশ রেখে যায়

অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে উপস্থিত শ্রোতাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক বিশেষ চমক। দুই মহান কবির দুটি অনবদ্য ও কালজয়ী কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে এই চিরস্মরণীয় সন্ধ্যার। শেষ মুহূর্তের এই পরিবেশনাটি উপস্থিত সকলের মনে এক গভীর আবেগ ও দীর্ঘস্থায়ী রেশ রেখে যায়।

