
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পনগরী দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতোই দীপ্যমান হয়ে রইল এক স্মরণীয় সন্ধ্যা। ১৮ নম্বর রুম হোস্টেলের সভাগৃহে “দুজনে সুজনে”-র আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নক্ষত্র’ শীর্ষক শ্রুতি সন্ধ্যা যেন শিল্প, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার এক অপূর্ব সম্মিলন হয়ে উঠেছিল। এই আয়োজনের মূলে ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা উমা শংকর সেন। তাঁর সুদূরপ্রসারী ভাবনা, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত প্রাণ মনোভাব অনুষ্ঠানটির প্রতিটি পর্বে এক বিশেষ ঔজ্জ্বল্য এনে দেয়। শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এক নান্দনিক অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার যে প্রয়াস—তা তাঁর হাত ধরেই সফল রূপ পায়।

‘নক্ষত্র’ সন্ধ্যার মঞ্চে একে একে ফুটে ওঠে কবিতার আবেগ, আবৃত্তির তীব্রতা, শ্রুতি নাটকের জীবন্ত অভিনয় এবং গীতি-আলেখ্যের সুরভিত আবেশ। প্রতিটি পরিবেশনা যেন দর্শকের হৃদয়ের গভীরে স্পর্শ করে যায়, তৈরি করে অনুভূতির এক বহুমাত্রিক তরঙ্গ। এই শিল্পমেলায় অংশগ্রহণ করেন প্রথিতযশা ও প্রতিভাবান শিল্পীরা—ডঃ সন্তোষ বিশ্বাস, কাকলি দাসগুপ্ত, অন্তরা সিংহরায়, জ্যোতির্ময় মন্ডল, রবীন গড়াগড়ি, ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য, অর্চনা সিংহরায়, সুতপা অধিকারী, সোমা সরকার, সুভদ্রা চক্রবর্তী, জয়া চক্রবর্তী, দেবজ্যোতি মন্ডল, সীমা মাহাত্ম, শুক্লা বিশ্বাস, কাকলি সেন এবং দেবদাস সেন। তাঁদের প্রত্যেকের সাবলীল, মননশীল ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনা সন্ধ্যাটিকে করে তোলে আরও সমৃদ্ধ ও স্মরণীয়।

সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক অনাবিল সৌন্দর্য—যেখানে শব্দ, সুর, অনুভব ও ভাবনার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয় এক অনন্য শিল্পলোক। দর্শকরাও সেই আবেশে নিজেদের নিমগ্ন করে রাখেন শুরু থেকে অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত। এই আয়োজন প্রমাণ করে, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি মানুষের হৃদয়ের সেতুবন্ধন, মননের বিকাশ এবং সমাজের সৌন্দর্যবোধের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। দুর্গাপুরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ‘নক্ষত্র’ সন্ধ্যা তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এক চিরস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।

