অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবীর আত্মবলিদানকে শ্রদ্ধা, ভবনের নাম পরিবর্তনের দাবি শহীদ পরিবারের

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ভারতের ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অগ্নিযুগের বিপ্লবী ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য এক অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর ৯২তম আত্মত্যাগ দিবস ও আপসহীন দেশপ্রেমকে স্মরণ করে দক্ষিণ কলকাতার আলিপুরে অবস্থিত রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর, ভবানী ভবনে আয়োজিত হল এক ভাবগম্ভীর স্মরণ অনুষ্ঠান।

আপসহীন দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য তৎকালীন বাংলার কুখ্যাত ব্রিটিশ গভর্নর অ্যান্ডারসনকে হত্যার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কলকাতা ও ঢাকা থেকে আগত আরও দুই বিপ্লবী সঙ্গীর সঙ্গে ১৯৩৪ সালের মে মাসে দার্জিলিংয়ে পৌঁছান। যদিও ইতিহাসের নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁদের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

তবুও আদর্শ থেকে এক চুলও না সরে, অকুতোভয় চিত্তে ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য ১৯৩৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ফাঁসির মঞ্চে উঠে বীরের মতো নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর এই আত্মবলিদান শুধুই একটি মৃত্যুদণ্ড নয়, বরং দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য এক অমর শপথের বাস্তবায়ন বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

বাংলার এই বীর বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিগত কয়েক বছরের মতো এ বছরও রাজ্য পুলিশের উদ্যোগে ভবানী ভবনে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্তা, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদদের পরিবার-পরিজন এবং সমাজের নানা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট মানুষজন।

ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য্যের পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাল্গুনী ঘোষাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফ্ল্যাগম্যান প্রিয়রঞ্জন সরকার, কারগিল যুদ্ধের বীরযোদ্ধা প্রাক্তন সাব-মেজর নরেশ চন্দ্র দাস এবং সংবাদ প্রতিখনের প্রধান সম্পাদক স্বরূপম চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে।

স্মরণ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভবানী ভবনের উল্টোদিকে অবস্থিত ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য্যের মূর্তিতে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা পুষ্পস্তবক ও মাল্য অর্পণ করেন। দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের কাছে ভবানীপ্রসাদের আদর্শ ও দেশপ্রেমের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়।

