সীমান্তের বেড়াজালে আটকেও মানবিকতার ছোঁয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা


নিজস্ব সংবাদদাতা
, বসিরহাট: দুই দেশের সীমান্ত আইনের বেড়াজালে আটকেও মানবিকতার ছবি ফুটে উঠলো হাকিমপুর সীমান্তের অস্থায়ী বাংলাদেশী ক্যাম্পে। এসআইআর লাগু হওয়ার পর কাতারে কাতারে মানুষ সোমবার থেকে ভিড় জমিয়েছেন বসিরহাটের স্বরূপনগর থানার বিথারী-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের হাকিমপুর চেকপোস্টে। সেই সমস্ত বাংলাদেশিরা স্বীকার করে নিয়েছেন তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করতো। কিন্তু বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এসআইআরের ভয়ে তারা আজ পুনরায় বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

কিন্তু সীমান্তে আসতেই তারা আটক হয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের দ্বারা। হাকিমপুর চেকপোস্টের পাশেই সেই সমস্ত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রাস্তার দু’ধারে অস্থায়ী ভাবে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই সমস্ত ছাউনিগুলোতে মিলছে না খাবারদাবার। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সেই সমস্ত বাংলাদেশিদের সাথে ব্যবসা করতে চাইছেন না। যার ফলে খিদের জ্বালায় তারা বেজায় সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। তাই সেই সমস্ত মানুষদের ক্ষুধা নিবারণ করতে উদ্যোগী হলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীরা।

বিথারী-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জেসমিনা পারভিন সরদার, তৃণমূল কংগ্রেসের স্বরূপনগর উত্তর ব্লক সভাপতি জিয়াউর রহমান, স্থানীয় যুব নেতা হুমায়ুন কবির ও প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মুজিবর সরদারদের উদ্যোগে সেই সমস্ত বাংলাদেশীদের মধ্যে বিতরণ করা হলো কেক, বিস্কুট, লজেন্স ও চিড়ে সহ একাধিক ধরনের শুকনো খাবার ও পানীয় জল। যা পেয়ে খিদে ও তেষ্টা মেটাচ্ছেন ঐ সমস্ত সীমান্তে আটকে পড়া বাংলাদেশীরা।

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্বরূপনগর উত্তর ব্লক সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, “বেশ কিছু বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত পেরিয়ে বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে এই সমস্ত বাংলাদেশিরা ভারতে প্রবেশ করেছিল। তারা আজ ফেরত যাচ্ছে। কিন্তু সীমান্তের বেড়াজালে মধ্যে পড়ে তারা অস্থায়ীভাবে এখানে রয়েছেন। তারা খিদে ও তেষ্টায় কষ্ট পাচ্ছেন। তাই আমরা মানবিকতার খাতিরে তাদের জন্য শুকনো খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে তারা তাদের ক্ষুধা ও তেষ্টা নিবারণ করতে পারেন।”

অপরদিকে বিথারী-হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জেসমিনা পারভিন বলেন, “মানবিকতার স্বার্থে আমরা তাদেরকে এই ছোট পরিষেবা দিচ্ছি, তারা হয়তো আগামী দিনে এখান থেকে চলে যাবেন। কিন্তু তাদের জন্য এইটুকু করতে পেরে আমরা আনন্দিত বোধ করছি।”

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading