
নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: দেশের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী বিরসা মুন্ডার সার্ধশতবর্ষ উদযাপন হলো সুন্দরবনে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে মূল স্রোতে নিয়ে আসতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন বিরসা মুন্ডা। জয় জোহার স্লোগান তুলে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। সেই বিরসা মুন্ডা আদিবাসী আবেগের অপর এক নাম। তাই তার সার্ধশতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজিত হলো বসিরহাটের সুন্দরবনের আদিবাসী অধ্যুষিত সন্দেশখালিতে।

সন্দেশখালি ২নং ব্লক ও সন্দেশখালি ২ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে সন্দেশখালি সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরের প্রাঙ্গণে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বিরসা মুন্ডার সার্ধশতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান ও জোহার মেলা। সন্দেশখালি ২ বিডিও অফিস থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় ঝুমুর ও পাতা নাচ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় আদিবাসী সংস্কৃতিকে। এদিনের এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক (কোষাগার) কাজল কুমার রায়, বসিরহাটের মহকুমা শাসক জসলিন কৌর, সন্দেশখালি ২নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অরুণ কুমার সামন্ত, সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতো ও সন্দেশখালি ২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ দিলীপ মল্লিক সহ একাধিক সরকারি আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।

মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকলেই দেখা মিলছে একদিকে বিরসা মুন্ডার জীবন কাহিনী তথা সংগ্রামের ইতিহাস। অন্যদিকে একাধিক স্টলে ছিল আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের হাতের কাজের শিল্পকলার একাধিক প্রদর্শনী। সন্দেশখালির ২নং ব্লকের মনিপুর, খুলনা, জেলিয়াখালি, দূর্গা মন্ডপ ও সন্দেশখালি সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন দ্বীপ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ ভিড় জমান এই মেলায়। বিরসা মুন্ডার সার্ধশতবর্ষ পূর্তির এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে একাধিক সরকারি পরিষেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সেই সমস্ত পরিষেবা গুলি সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
7

