
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: শারদ উত্সব শেষ হওয়ার পর বঙ্গবাসী এবার মেতেছে হৈমন্তিকা দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনায়। আর জগদ্ধাত্রী আরাধনার কথা বললেই যে শহরের নাম প্রথমেই চলে আসে সেটি হুগলি জেলার চন্দননগর। তবে পিছিয়ে নেই এই জেলারই অন্যতম শিল্পাঞ্চল মিনি ভারত হিসেবে খ্যাত রিষড়া বিগত কয়েক বছর ধরে রিষড়ার জগদ্ধাত্রী পুজো স্থান করে নিয়েছে বিশ্বের জগদ্ধাত্রী পুজোর মানচিত্রে। রিষড়ার অন্যতম এক পুজো রিষড়া বাঙ্গুর পার্ক সম্মিলনীর জগদ্ধাত্রী পুজো। এই পুজো এই বছর ৪৬ তম বর্ষে। ৪৬ বর্ষে পার্ক সম্মিলিনী রিষড়ার বুকে তুলে নিয়ে আসছে এক টুকরো জেলেপাড়ার চিত্র।

এই প্রসঙ্গে রিষড়া বাঙ্গুর পার্ক সম্মিলিনীর এই বছরের থিম ‘নির্মল’র অন্যতম কারিগর মলয় রায় জানালেন, জলজ এমন একটি জীবন আলেখ্য যার মধ্যে দিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া জাতি ধীবরদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ছবি ও তাঁদের উত্সবে সামিল হওয়ার প্রকৃত চিত্রকেই তুলে ধরার লক্ষেই এই ভাবনার আত্মপ্রকাশ। মলয় বাবু জানান, আসলে জেলেদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডেই কিন্তু বাঙ্গালির রসনা তৃপ্ত হয়। কিন্তু তাদের জীবনের কথা, তাঁদের উত্সবের বিষয়ে আমাদের অজ্ঞানতা দূর করার উদ্যেশ্যেই এই ভাবনার অবতারনা।

তাই রিষড়া বাঙ্গুর পার্ক সম্মিলনীর জগদ্ধাত্রী পুজোয় দেখা মিলবে এক টুকরো জেলে পাড়ার খন্ড খন্ড ছবি, তাঁদের উত্সবে সামিল হওয়ার ছবি। মন্ডপে যেমন থাকছে বিশেষ বৈচিত্র, তেমনি প্রতি বছরের মত এই বছরেও রিষড়া বাঙ্গুর পার্ক সম্মিলনীর জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রতিমাও সকল দর্শকদের বিশেষ ভাবে আকর্ষণ করবে বলেই আশাবাদী এই পুজোর সকল সদস্য-সদস্যাগণ।

পুজো উপলক্ষে আয়োজন করা হচ্ছে তুলির টানে পুজোর প্রাণে শীর্ষক এক আলপনা প্রতিযোগিতার। এছাড়াও থাকছে প্রতিদিন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

