
নিজস্ব সংবাদদাতা, বসিরহাট: বাদুড়িয়ার চৌমাথায় বৃহস্পতিবার বিকালে বাদুড়িয়া মেন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন বাদুড়িয়া বিধানসভার বিধায়ক কাজী আব্দুল রহিম দিলু, তৃণমূলের বসিরহাট সংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন, রাজ্যের পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ডাঃ সপ্তর্ষি ব্যানার্জি, স্থানীয় ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম সিং ও বাদুড়িয়া মেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রতাপঊদ্দিন আহমেদ সহ একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী।

তবে এদিনের অনুষ্ঠানে বাদুড়িয়া মেন ব্লকের অন্তর্গত পাঁচটি অঞ্চলের সভাপতি, প্রধান ও বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ বেশ কিছু নেতৃত্ব অনুপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের এমন বড় আয়োজনেও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক গুঞ্জন। এলাকাবাসীর মতে, এই অনুপস্থিতিই প্রমাণ করছে বাদুড়িয়া তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের নেতৃত্ব।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রশ্নে ইন্দ্রনীল করেন, “এটা স্থানীয় বিষয়, এ নিয়ে আমি কিছু বলবো না।” অন্যদিকে, স্থানীয় বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম দিলু সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “গোষ্ঠীকোন্দল বলে কিছু নেই। আমরা সবাই তৃণমূলের সৈনিক, একসঙ্গে দলীয় কাজে যুক্ত। বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, আমরা বিজয়া সম্মিলনীর বার্তা দিতে চাই সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে চায়।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজয়া সম্মিলনীর নাম করে রাস্তা বন্ধ করে অনুষ্ঠান করা মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। সবমিলিয়ে, বাদুড়িয়ার এই অনুষ্ঠানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন করে প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা।

বিষয়টি নিয়ে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, “তৃণমূলের এই ধরনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে বাদুরিয়াতে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব হয়ে আসছে। যার জন্য থমকে আছে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ। যার জন্য ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”

