
সুফল তর্কালঙ্কার: সময়টা আশির দশক। একটা ছেলে ক্লাসে এলেই ক্লাসের সব ছাত্রদের ওর কাছে আব্দার থাকতো, ‘আজ কী গল্প শোনাচ্ছিস?’ আসলে খুব সুন্দর করে সহজ ভাষায় নানা গোয়েন্দা গল্পের ঝুলি সে উজাড় করে দিত তাঁর সহপাঠীদের। তাঁর গল্প শোনার গুনমুগ্ধ শ্রোতা শুধুমাত্র তাঁর ক্লাসের সহপাঠীরাই ছিল এমন কিন্তু নয়। অনেক সময় দেখা যেত ক্লাসের পড়া তাড়াতাড়ি শেষ করে কোনও কোনও শিক্ষক ওকে ডেকে নিতেন ক্লাসের সকলকে গল্প শোনাতে। বিদ্যালয় জীবন থেকেই সেই ছেলেটি সকলকে মোহিত করে রাখতো তাঁর অনবদ্য গল্প বলার অনন্য সাধারণ ভঙ্গিমায়। কিছুটা সেখান থেকেই হোক বা না হোক তাঁর সেই গল্প শোনানোর বিষয়টিকে পাথেয় করেই আজও সে বলে চলেছে নানা অজানা মানুষের নানা অজানা গল্প-কাহিনী। তবে সেই গল্প বা কাহিনী কোন মতেই অবাস্তব কিন্তু নয়। সবটাই বাস্তব জীবনের গল্প। তাঁর আজকের সময়ের গল্পগুলির চরিত্ররা উঠে এসেছে আমাদের মধ্যে থেকেই। আর সেই গল্প সে আমাদের শুধু শোনাচ্ছে না দেখাচ্ছেও।
এই ভাবেই তাঁর মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে আসে সেই মানুষগুলির গল্প শোনানোর ইচ্ছা। যাঁরা নিজেরা অন্ধকারে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ফুটিয়ে তুলতো একটি ছায়াছবির সকল কুশীলবদের। যাঁদের জন্যই সেলুলয়ডে ফুটে উঠত ভারতীয় তথা বিশ্ব সিনেমার পূর্ণ রূপ। যে গল্প সেই ছেলেটি শুনিয়েছিল সারা বিশ্বকে তথ্যচিত্রের মধ্য দিয়ে। তার ফলস্বরূপ সে পেয়েছে আমাদের দেশের রাষ্ট্রপতি হাত থেকে সেরার সম্মান।
আবারও মফস্বলের সেই ছেলেটি স্বপ্ন দেখেছে সমাজের এমন একটি মানুষের গল্প শোনাতে, যাঁর হাতের জাদুতে, যাঁর ভাবনায় অন্ধকার দূর হয়ে আলোর কারিগরী মায়ায় ভেসে যাচ্ছে সারা দেশ। আদপে তিনিও যে মফস্বল শহরের মানুষ। তাই তো মফস্বল শহরের জলবায়ুতে বেড়ে ওঠা এই ছেলেটি আবারও ব্রতী হয়েছে দেশ তথা বিশ্বের মানুষের কাছে সেই আলোকবর্তিকার মানুষটিকে পরিচয় করিয়ে দিতে।
একসময়ে যে মানুষটি প্রথম ভেবেছিল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্সব দুর্গোত্সব ও তাঁর শহরের সেরা উত্সবে রাতগুলোকে আলোকমালায় ভরিয়ে তুলতে। আলোর জাদুকরিতে তিনি মুগ্ধ করেছেন রাজ্য, দেশ ও বিদেশের নানা উত্সব। এই মানুষটিকে নিয়েই এবার আমাদের সকলকে ১ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের আলো-ছায়া-শব্দের সংমিশ্রণে গল্প শোনাচ্ছে মফস্বল শহরের সেই প্রতিভাধর ছেলেটি। যে গল্পের শিরোনাম সে দিয়েছে আঁধারপটুয়া বা দি রাকেণ্টর অফ দি ডার্ক।
ছোট্টবেলার স্কুলের সহপাঠীদের অনুরোধে সেই গল্প বলা ছেলেটি আজ যেভাবে মানুষের জীবনের গল্প শোনাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসার। আমরা আজ বিশ্বাস করি ওই ছেলেটি প্রকৃতই বিজয়ী, তাঁর নামেই যে তাঁর পরিচয় লুকিয়ে রয়েছে। আমরা আশাবাদী তাঁর মুকুটে আবারও উঠে আসবে সেরার শিরোপা এই আঁধারপটুয়া তথ্যচিত্রের হাত ধরে।

