ইউনিক ফাউন্ডেশনের অভিনব অনুষ্ঠান

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: অদম্য মানসিক ইচ্ছাকে যে কোনও শক্তি কোনদিনই পরাস্ত করতে পারে না তার প্রমাণ মেলে বারে বারেই। সামাজিক অবক্ষয় ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তণ আনতে এই সকল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির ভূমিকা অপরিসীম। সারা বছর এই সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি নানা সামাজিক কর্মসূচী গ্রহণ করে থাকে। এইরকমই এক বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইউনিক ফাউন্ডেশন সম্প্রতি মহানগরীর বুকে একটি আবাসন কমপ্লেক্সে আয়োজন করেছিল তিন দিন ব্যাপী এক অভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির।আমাদের ব্যবহৃত জমা কাপড় যেগুলি আমরা ব্যবহার করি না, সেইরকম জমা কাপড় যত্ন করে সংগ্রহ করে তা বাংলার কোণে কোণে প্রান্তিক মানুষদের কাছে পৌছে দেওয়ার অঙ্গীকারে এই সংস্থা এই আবাসন কমপ্লেক্সে তাঁদের অনুষ্ঠানে তিনদিন ধরে সংগ্রহ করে পুরোনো জমা কাপড়।

এর সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা আয়োজন করেছিলেন ওই আবাসনের ১০০ জন সিকিউরিটি স্টাফ এবং হাউস কিপারকে ওই আবাসনের ৩০ টি শিশুর হাত দিয়ে তুলে দেওয়া হয় জুতো। এর সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির কর্ণধার শক্তি পালের ব্যবস্থাপনায় জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিত্‍সা পদ্ধতি সিপিআর বা কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশনের বিষয়ুয়ে আবাসিকদের সম্যক ধারণা প্রদান করেন গীতা থাপা।

তিনদিনের এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার রূপকার শক্তি পাল, ফ্ল্যাগম্যান মনু ওরফে প্রিয়রঞ্জন পাল, সংবাদ প্রতিখনের সম্পাদক স্বরুপম চক্রবর্তী সহ ওই আবাসনের বেশ কয়েকজন গুণী বরিষ্ঠ মহিলারা। আবাসনের উপস্থিত বরিষ্ঠ মহিলা আবাসিকগণ ফিতে কেটে অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনদিনের এই মহতী অনুষ্ঠানের।

 এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের ওই আবাসনের ওই সকল বরিষ্ঠ মহিলা আবাসিকদের উত্‍সাহ ও উদ্দীপনা ছিল লক্ষণীয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে সকলকে একসুরে এক সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলার অঙ্গীকার করতে শোনা যায় আবাসনের বরিষ্ঠ মহিলাদের মধ্যে উপস্থিত দেবযানী মৈত্রের কন্ঠের সংগীতের মধ্য দিয়ে।

‘সবে মিলি করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ’ কথাটির প্রকৃত উদাহরণ মিলল বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ইউনিক ফাউন্ডেশনের এই তিনদিনের অনুষ্ঠানে। কিভাবে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে থেকে সমাজকে পরিবর্তণ করা যায়, সমাজের অবহেলিত শ্রেণির জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব তা পরিস্ফুটিত হচ্ছে এই সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading