
অভিজিৎ দত্ত: বিধানচন্দ্র রায় ছিলেন একজন চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, স্বাধীনতাসংগ্রামী ও শিক্ষাবিদ। বহু গুণের অধিকারী ছিলেন তিনি। ‘জন্ম হউক যথাতথা/কর্ম হউক ভাল’ এই কথাটি বিধানচন্দ্র রায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিহারের পাটনায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮২ সালের ১লা জুলাই। পিতার নাম প্রকাশচন্দ্র রায় ও মাতার নাম অঘোর কামিনী দেবী।চিকিৎসক হিসাবে তার খ্যাতি ছিল জগৎজোড়া। ১৯১১ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ইংল্যান্ড থেকে MRCP ও FRCS উপাধি অর্জন করে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষক ও চিকিৎসক হিসাবে পেশা শুরু করেন। ১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন।১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী রূপে আইন সভায় নির্বাচিত হন।

পরের বছরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং আমৃত্য ঐ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি চারটে শহরের প্রতিষ্টা করেন। দুর্গাপুর,বিধাননগর,কল্যাণী ও অশোকনগর-কল্যাণগড়।অনেকে বলেন সল্টলেক নির্মাণে তার ভূমিকা ছিল। তার আমলে অনেক শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। তিনি ছিলেন দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তার চোদ্দ বছর মুখ্যমন্ত্রীত্ব কালে নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রভূত উন্নতি হয়েছিল বলে তাকে পশ্চিমবঙ্গের রূপকার বলা হয়।১৯৬১ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ভারতরত্ন সম্মানে সম্মানিত হন। বার্ধক্য জনিত কারণে সদাহাস্যময়, প্রচারবিমুখ, কঠোর পরিশ্রমী এই মানুষটির ১৯৬২ সালের ১লা জুলাই মহাপ্রয়াণ হয়।তার জন্ম ও মৃত্যদিন একই দিনে(১লা জুলাই)।
যেহেতু তিনি ছিলেন প্রবাদপ্রতিম চিকিৎসক (তার চিকিৎসার কাহিনী নিয়ে অনেক গল্প আছে)তাই তাকে সম্মান জানিয়ে ঐ দিনটি চিকিৎসক দিবস হিসাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৯১ সাল থেকে ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানিয়ে চিকিৎসক দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তারপর থেকেই ঐ দিনটি ভারতবর্ষে চিকিৎসক দিবস হিসাবে পালন করা হচ্ছে।স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের অবদান ও তাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে এই দিনটিকে পালন করা হয়।চিকিৎসক দিবস হিসাবে অনেক জায়গাই সেমিনার হয়, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করার হয়।কৃতী চিকিৎসকদের পুরস্কৃত করা হয়।সমাজে চিকিৎসকদের অবদান অপরিসীম। কেননা ভগবানের পর তারাই রুগীকে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বাঁচায় ও নতুন জীবন দেন। সমাজে চিকিৎসকদের অবদান অপরিসীম। তবে সবাই কি পেশার প্রতি দায়বদ্ধ থাকে বা রোগীর ঠিকঠাক যত্ন নেয়। অনেক চিকিৎসক আবার ডাক্তারির নামে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে।এর ফলে অনেক রুগী ঠিকমত চিকিৎসা না হওয়ার জন্য অকালে মৃত্যুবরণ করছে।তাই চিকিৎসক দিবসে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত সকলকে সৎ ও সেবা মনোভাব দ্বারা চালিত হবার অনুরোধ করা হচ্ছে। ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মুখ্যমন্ত্রী হবার পরও সপ্তাহে একদিন বিনা পয়সাই রোগীদের চিকিৎসা করতেন।
