
সুমিত দাঁ : শিক্ষা সম্পর্কে বলতে গেলে আমাদের প্রথমেই জানা দরকার শিক্ষা কি? শিক্ষা কি শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যার প্রকাশ নাকি তার বাইরেও আরও অনেক কিছু আছে, যা আমাদের জ্ঞান সঞ্চারে সহায়তা করে। শিক্ষার বিস্তৃতি সম্পর্কে জানতে গেলে শুধুমাত্র পুঁথি গত বিদ্যার মাধ্যমে জানা নয়। কারণ, পড়াশুনার যেমন শেষ নেই, তেমন শিক্ষারও কোন শেষ নেই। শিক্ষা হল অনন্ত অসীম। মানুষের চলমান জীবনে প্রতিটি মুহুর্তে শিক্ষার প্রয়োজন। আর সেই শিক্ষার পূর্নাঙ্গ রূপই হল জ্ঞান। থাকে আমরা এডুকেশন এচিভমেন্ট বলি।
সংস্কৃতে একটা প্রবাদ আছে-“বিদ্যানাং অধ্যয়নং তপঃ।” অর্থাৎ অধ্যয়ন ছাড়া যেমন জ্ঞান অর্জন করা যায় না। তেমনই পাশাপাশি চেষ্টা বা আগ্রহ ছাড়া মেধাও বিকশিত হয় না। কারণ বুদ্ধি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পুঁথিগত বিদ্যা এবং স্ব-অর্জিত মেধার সমন্বয়েই গড়ে ওঠে শিক্ষা বা জ্ঞানের মূল আধার যা সমাজ জীবনে ভীষণভাবে প্রভাবান্বিত করে। কিন্তু, আজকের চলমান দুনিয়ায় শিক্ষা প্রসারে তার প্রভাব কতখানি মহিমান্বিত করল সেটাই দেখা যাক।

একজন শিশুর জন্মের পর তার বুদ্ধাঙ্ক থাকে শূন্যাবস্থায়। ক্রমান্বয়ে তার বেড়ে ওঠার সাথে সাথে তার বুদ্ধির বিকাশলাভ ঘটে। কিন্তু, বর্তমান প্রজন্মের অভিভাবকরা বা দুই দশক আগের অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের সর্বজ্ঞ করার অভিলাষকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে নিজেদের সর্বনাশকেই ডেকে এনেছেন তাই নয় সেই সঙ্গে সমাজ জীবনেও তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। যার ফল স্বরূপ- আজকে তারই প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাচ্ছি খুব নির্মমভাবে। স্কুল কলেজ বা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতো শিশু মন, তার মত করে গড়ে ওঠার কাছে অভিভাবকরা বাধা স্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। তার স্বাধীন স্বত্তাকে অভিভাবকরা তাঁদের ইচ্ছামতো সীমাবদ্ধ গভীর শিকলে বাঁধতে গিয়ে সেই সন্তানেরা দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে এক জগাখিচুড়ি মার্কা পরিণতির দিকে এগিয়ে চলে যা তাদের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

বাবা-মায়েদের নজর শুধু সন্তানের রেজাল্টের দিকে। যাতে তাঁরা গলা উঁচিয়ে বলতে পারেন আমার ছেলে সব বিষয়ে একশোতে একশো পেয়েছে। গৃহশিক্ষকের দেওয়া নোট মুখস্ত করে অথবা টুকলি করে হুবহু পরীক্ষার খাতায় কার্বন কপি বসিয়ে দিয়ে আসলেই, নম্বর তো পারেই। এতেই বাবা মায়েরা খুশী। একবারও তাঁদের মনে হয় না যে তাঁদের সন্তানরা তাদের নিজস্বতা হারিয়ে ধার করা শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতি শিক্ষার প্রতিটি স্তরের (ডাক্তার, ইঞ্জিয়ার, শিক্ষকদের প্রমুখ) এমনই পরিনতি। যার প্রভাব পড়ে জনজীবনে। নিজস্ব মেধা না থাকায় বই পড়ে অথবা নেট ঘেঁটে চিকিৎসা করতে হয়, শিক্ষকতা করতে হয়, ইত্যাদি!

অর্থসর্বস্ব এই শিক্ষা ব্যবস্থার যে দুর্দিন ঘনিয়ে এসেছে তা আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে উপলব্ধি করতে পারছি। আগামী দিনে হয়তো এর চেয়েও আরও ভয়ঙ্কর রূপ দেখবে জনগন।
“শিক্ষা যখন ধূলায় লুটায়”
শিক্ষা যখন ধূলায় লুটায় জ্ঞান হয়ে যায় শূণ্য
আমরাই তার ধারক বাহক, আমরা গড়ি যে পূণ্য।
পঠন-পাঠনে বিদ্যা যাপনে-যদি হয়ে যায় শিক্ষা
মনন সলিল সমাধি যে দিলে, আপন গুরুর দীক্ষা।
পুঁথিগত মান দেয় সম্মান ভুরিভুরি উপহার
কিন্তু তা যদি কাজেই না লাগে, কি আছে মূল্য তার
হয়তো হবে তাক্ষনিক সময়, না জানি কতনা গুন্য
শিক্ষা তখনই ধুলায় লুটাবে, জ্ঞান হয়ে যাবে শূণ্য।
