হুগলি জেলার গুড়াপের মাঝেরপাড়ার দোল উত্সব নিয়ে লিখলেন কিশলয় মুখোপাধ্যায়

ভাস্তাড়া আর গুড়াপ, হুগলি জেলার ধনিয়াখালি ব্লকের পাশাপাশি প্রাচীন বর্ধিষ্ণু গ্রাম। সাধারণত দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় দোলপূর্ণমার দিন। তবে গুড়াপ গ্রামের মাঝের পাড়ায় শ্রীশ্রী গোপাল জীউর দোল হল নবম দোল। অর্থাৎ নবমীর দিন অনুষ্ঠিত হয়। আর ভাস্তাড়ার সিংহ বাড়ির শ্রীশ্রীধর জীউর দোল উৎসবটিও হয় নবমীর দিন।

‘সাত সাগরের দেশে’ নামে বিখ্যাত ভাস্তাড়ায় সিংহ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণপ্রাণ সিংহ ছিলেন কৃষ্ণ অন্ত প্রাণ। এখানে বসবাস শুরু করে প্রথমেই প্রতিষ্ঠিত করলেন শ্রীশ্রধর জীউ ও লক্ষ্মী দেবীর বিগ্রহ ও মন্দির। ব্রহ্মবৈবর্ত পূরাণে শ্রীধরজীউর ধ্যানে উল্লেখ আছে শ্রীধর অতি ক্ষুদ্র দ্বিচক্র বিশিষ্ট বনমালা বিভূষিত আর গৃহদিগের সম্পদদাতা। সিংহ বাড়ির শ্রীধর জীউর দোলের দিন ঠাকুরের পায়ে আবীর দেওয়া হয়। তারপর পুজো ও আরতী হয়। সিংহ বাড়ির দুর্গাপুজো ও রথযাত্রা সুপ্রাচীন। রথযাত্রার বৈশিষ্ট্য হল সিংহ বাড়ির কুলদেবতা শ্রীশ্রীধর জীউ ও লক্ষ্মী দেবী রথে ওঠেন। যাত্রা করেন। ভাস্তাড়া প্রদক্ষিণ করেন। অতীতে দোল উৎসবে সং প্রদর্শন হত।

গুড়াপের মাঝেরপাড়ার দোল উৎসবের নাম ‘গোপালের মোয়া কাড়াকাড়ির দোল’। এরকম নামের উৎস সন্ধানে জানা গেল অতীতে শ্রীগোপাল জীউ ও রাধারানীর যুগল মুর্তি ছিল। এক সময় মুর্তি দুটি চুরি হয়। কিছুদিন পর গোপালের মুর্তিটি পাওয়া গেলেও রাধারানীর বিগ্রহটি পাওয়া যায়নি। পুনরায় রাধারানীর মুর্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে গোপাল জীউর স্বপ্নাদেশ হয় যে রাধারানীর মুর্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবেনা। তখন থেকে মোয়া কাড়াকাড়ি প্রথাটি চালু হয়। তবে দক্ষ কারিগরের অভাবে নারকেল দিয়ে প্রথা চালু করা হয়েছিল। এখন আর হয়না। পাড়ার প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করেন সে এক ছিল মোয়া কাড়াকড়ির দৃশ্য। সে ছিল এক অসাধারণ দোল। শ্রীশ্রী গোপাল জীউর নিকটে রয়েছে রামসুন্দর তর্কালঙ্কার প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রী মুক্তোকেশী দেবীর মন্দির। এই দোলকে অনেকে মুক্তকেশীর দোলও বলেন। কথিত আছে যে অতীতে এই শ্রীশ্রী গোপালের মন্দিরে শ্রী চৈতন্যদেব এসেছিলেন।

শ্রীশ্রীধর জীউ আর শ্রীশ্রী গোপাল জীউর নবম দোল আর আগের মতো জাঁকজমক নেই তবে রয়ে গেছে ঐতিহ্য ও দোল উৎসবের সুপ্রাচীন ইতিহাস।

