শেষ হল প্রথম বর্ষ বৈদ্যবাটী বইমেলা


পথিক মিত্র:
এক সময়ে যে শহরে দূর -দূরান্ত থেকে বহু ছাত্র ছুটে আসতেন শিক্ষা লাভের আশায়, যে শহরে সরকারী শাসনতান্ত্রিক থানার অধীনে ছিল চব্বিশ পরগণা, আজ থেকে পাঁচশত বছরেরও আগে যে শহর ছিল সমৃদ্ধশালী নগর হিসেবে পরিচিত, কবি বিপ্রদাস পিপলাই যে স্থানকে বা যে অঞ্চলকে তাঁর সুবিখ্যাত ‘মনসা বিজয়’ গ্রন্থে ‘দীগঙ্গ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, ঐতিহাসিক সেই সুপ্রাচীন শহরের বুকে গত ১১ জানুয়ারী থেকে ১৯ জানুয়ারী, ২০২৫ বসেছিল প্রথম বর্ষ বইমেলার জমজমাট আসর।  ১৮৭১-এ রচিত দীনবন্ধু মিত্রের সুরধুনী কাব্যের দ্বিতীয় ভাগের দশম সর্গে উল্লেখ আছে – “ভদ্রপল্লী বৈদ্যবাটী পন্ডিতের বাস / শাস্ত্র আলাপন যথা হয় বার মাস;” এহেন বৈদ্যবাটী শহরের মুকুটে আরও একটি উল্লেখযোগ্য পালক যোগ হল এই শহরের অন্যতম ক্রীড়াঙ্গন বি.এস.পার্ক ময়দানে অনুষ্ঠিত হওয়া এই শহরের প্রথম বইমেলা।

যে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কবি জয় গোস্বামী। উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা, তথ্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া  কর্মাধ্যক্ষ ডঃ সুবীর মুখোপাধ্যায়, চাঁপদানী বিধানসভার বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন, বৈদ্যবাটী পৌরসভার পৌরপ্রধান পিন্টু মাহাতো, উপ পৌরপ্রধান শান্তনু দত্ত, হুগলি- চুঁচুড়া পৌরসভার পৌর-প্রধান অমিত রায়, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক অভিজিত্‍ ব্যানার্জী সহ বৈদ্যবাটী পৌরসভার সকল কাউন্সিলার গণ।

নান্দনিক এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রদীপ জ্বালিয়ে ও বইমেলার চিরাচরিত রীতি মেনে ঘণ্টা বাজিয়ে উদ্বোধন হয় এই মেলার। তাঁর আগে স্থানীয় বিদ্যালয়, এলাকার সকল গুণীজনও স্থানীয় বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন, বৈদ্যবাটী পৌরসভার পৌরপ্রধান পিন্টু মাহাতো, উপ পৌরপ্রধান শান্তনু দত্ত সহ বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে একটি সুন্দর পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।  বৈদ্যবাটী শহরের প্রথম বছরের এই বইমেলায় উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল স্থানীয় সকল বিদ্যালয়গুলির ছাত্র-ছাত্রীদের। সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই বইমেলায় বৈদ্যবাটী পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশেষ টিফিনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। বইমেলাকে কেন্দ্র করে হাজির ছিল কলকাতা ও জেলার নামী-দামী প্রকাশক ও বই বিক্রেতাগণ। প্রতিদিনও সন্ধ্যায় প্রতিটি বইয়ের স্টলে উত্‍সাহী ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। এর সঙ্গে ছিল কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে নামাঙ্কিত মঞ্চে স্থানীয় ও বিশিষ্ট শিল্পী সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বইয়ের পাশাপাশি ছিল নানা খাবারের স্টল। প্রায় প্রতিদিনই উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। মেলা চলাকালীন উপস্থিত হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মেলায় সংবাদ প্রতিখনের স্টলটিকে কেন্দ্র করে ছিল সাধারণ মানুষের বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ উন্মাদনা। এই বইমেলা থেকে সংবাদ প্রতিখন প্রকাশনার তিনটি বই প্রকাশ করা হয়। বইগুলি হল দীপঙ্কর মুখার্জীর ‘কাগজে কলমে পাঁচফোড়ন’, দিপান্বীতা দাসের কবিতার বই ‘এক মুঠো আকাশ’ ও সংবাদ প্রতিখনের প্রকাশনা এবং স্বরূপম চক্রবর্তীর সম্পাদনায় ‘গুঁতোর ছন্দে’। এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন গীতিকার ও সুরকার জয়ন্ত পাঠক, কবি ও চিত্রশিল্পী দিপান্বীতা দাস, লেখক দীপঙ্কর মুখার্জী, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পরপতি পরিচালক অভিজিত্‍ ব্যানার্জী, সাহিত্যিক সুমিত দাঁ, বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন, বৈদ্যবাটী পৌরসভার পৌরপ্রধান পিন্টু মাহাতো, উপ পৌরপ্রধান শান্তনু দত্ত, ওই পৌরসভার কাউন্সিলার প্রবীর পাল, শুভাশীষ জোয়ারদার, রাখী সাঁধুখা, মহুয়া ভট্টাচার্য্য, সমর সাঁতরা, দেবরাজ দত্ত ও হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা, তথ্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া  কর্মাধ্যক্ষ ডঃ সুবীর মুখোপাধ্যায় এবং সংবাদ প্রতিখনের সম্পাদক স্বরূপম চক্রবর্তী।

বৈদ্যবাটী পৌরসভার সহযোগিতায় প্রথম বছরের এই বইমেলার বিষয়ে বইমেলার অন্যতম আহ্বাহক সূর্য স্বপন ঘোষ অল্প দিনের প্রচেষ্টায় তাঁদের প্রথম বর্ষের এই বইমেলাকে সার্থক করে তোলার জন্য তাঁরা পৌরসভার পক্ষ থেকে সকল প্রকাশক, বিক্রেতা ও স্থানীয় এলাকার সকল জনগণকে সাধুবাদ জানান। বইমেলা কমিটির পক্ষে বিশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় জেলার কবি সদ্য প্রয়াত অরুণ কুমার চক্রবর্তী, সাহিত্যিক সমরেশ বসু এবং সুরকার ও গীতিকার সলিল চৌধুরীকে।

বৈদ্যবাটী পৌরসভার সহযোগিতায় প্রথম বর্ষের এই বইমেলাকে কেন্দ্র করে বৈদ্যবাটী শহরের আশেপাশের শহরগুলির সাধারণ মানুষদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বৈদ্যবাটী তথা এতদঞ্চলের মানুষকে এমন সুশৃঙ্খল  ও সুন্দর বইমেলা উপহার দেওয়ার জন্য সংবাদ প্রতিখনের পক্ষ থেকে মেলার শেষ সন্ধ্যায়  সম্পাদক স্বরূপম চক্রবর্তী ও কারিগরী সম্পাদিকা দিপান্বীতা দাস বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন, বৈদ্যবাটী পৌরসভার পৌরপ্রধান পিন্টু মাহাতোর হাতে স্মারক উপহার তুলে দেন।

বৈদ্যবাটী পৌরসভার সহযোগিতায় প্রথম বছরের বইমেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় ১৯ জানুয়ারী স্থানীয় বিধায়ক অরিন্দম গুঁইনের সমাপ্তি ভাষণের ও ঘণ্টা বাদনের মধ্য দিয়ে।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading