
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: কলম থেমে গেল কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তীর কোদালিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের চুঁচুড়া ফার্মসাইড রোড এর বাড়িতে বসে নীরবে নিভৃতে লিখেছেন অসংখ্য কবিতা। জল জঙ্গল ভুমি রক্ষার্থেও প্রকৃতি প্রেমী কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তী লিখেছেন অসংখ্য শ্লোগান। কবির জন্ম ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই কবিতা লেখা শুরু করেন তিনি।
প্রকৃতি যেন কবিকে সবসময় হাতছানি দিয়ে ডাকতো আর সেই ডাক কখনোই যেন কবি উপেক্ষা করতে পারতনা। তাইত কখনো ছুটে যেতেন পাহাড়ে কখনো আবার জঙ্গলে। সময় কাটাতেন আদিবাসী মানুষ জনদের সঙ্গে বাউলদের সঙ্গে। সবুজগাছ বন জল জঙ্গল বাঁচাতে সবসময়ই সচেষ্ট ছিলেন তিনি। প্রকৃতির কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তী তাইতো জীবনের শেষ অনুষ্ঠানটা সেই প্রকৃতির সঙ্গেই ছিল কলকাতার মোহরকুঞ্জে জঙ্গলমহল উৎসবে।
জীবনের শেষ অনুষ্ঠান মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে তিনি এই অনুষ্ঠানেই ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে চুঁচুড়ায় বাড়িতে ফিরে রাতের খাওয়া সেরে টিভিতে খবর দেখে স্নানঘরে যান প্রতিদিনের মতো। ওই ঘরেই যে মৃত্যু লুকিয়ে ছিল তা কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তীর পরিবারের অন্যান্য সদস্য দুই ছেলে, দুই বৌমা, সহধর্মিনী এবং নাতি কেউই টের পাননি। স্নান ঘরেই পড়ে যান তিনি। কোন কিছু পরে যাওয়ার আওয়াজ শুনে ছুটে এসে কবিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই সকলের সব চেষ্টাকে ব্যার্থ করে শুক্রবার রাত বারোটা কুড়ি নাগাদ লালপাহাড়ির দেশের স্রষ্টা কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তী সকলকে ছেড়ে লাল পাহাড়ের দেশে পাড়ি দেন।
কবির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানতে উপস্থিত হয়ে বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, আমরা আমাদের মধ্য থেকে যে সকল কবি- সাহিত্যিকদের হারিয়েছি, তাঁদের স্থান কখনও পূরণ হয় নি, পূরণ করাও যায় না। তিনি বলেন অরুণদার স্থান পূরণ হবার নয়।
