
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি: মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে মহিষাসুর ছিলেন এক মহা শক্তিশালী অসুর। যিনি ব্রহ্মার থেকে বর পেয়েছিলেন যে কোনও পুরুষ তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। তাঁর অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে দেবলোকের সকল দেবতাগণ কোনও উপায় না পেয়ে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হলেন। সকল দেবতাদের সম্মিলিত তেজ দিয়ে তৈরি হলেন দেবী দুর্গা। সকল দেবতাগণ দেবীকে বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করে প্রস্তুত করলেন লড়াই করার জন্য। মহিষাসুর স্বয়ং দেবীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এই ত্রিভুবনব্যাপী যুদ্ধে অসুরের বংশ ধ্বংস হয়। দুর্গাদেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল বিদ্ধ করে ও চক্র দ্বারা শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে তাঁকে বধ করার সঙ্গে সঙ্গে বিনাশ হয় অশুভ শক্তির।
পৌরাণিক এই ঘটনাকে সুচারু নৃত্যাভিনয়, আলো ও শব্দ প্রক্ষেপনের মধ্য দিয়ে এই বছর উপস্থাপনা করছে হুগলী জেলার শ্রীরামপুর মাণিকতলা দে পাড়া নবারুন সংঘ তাঁদের মাতৃ আরাধনার সপ্তদশ বর্ষে। নবারুন সংঘের ব্যবস্থাপনায় ও স্থানীয় মানুষ সকলের কাছের দীপু সিং এর সুদক্ষ পরিচালনায় শ্রীরামপুর শহরের এই পুজোর অনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে শুভ পঞ্চমীর সন্ধ্যায় নবারুন সংঘের পুজো প্রাঙ্গণে বসেছিল চাঁদের হাট।

উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুর বিধানসভার বিধায়ক ডাঃ সুদীপ্ত কুমার রায়, শ্রীরামপুর পৌরসভার প্রাক্তন পৌরপ্রধান অমিয় মুখোপাধ্যায় সহ এই পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল গৌরমোহন দে, তিয়াসা মুখার্জী, পৌরসদস্যা ঝুম মুখার্জী, ঝুমা শীল, পৌরসদস্য শান্তনু গাঙ্গুলী, অসীম পন্ডিত, চিনু দাস, বেবী দে, প্রাক্তন পৌরসদস্য মন্টু দত্ত, এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী কাবুল মুখোপাধ্যায়, নবারুন সংঘের সভাপতি দুলাল সামন্ত, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মিলন মুখোপাধ্যায়, মৃদুল দে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বিধায়ক ডাঃ সুদীপ্ত কুমার রায় ফিতে কেটে নবারুন সংঘের ২০২৪এর পুজো মন্ডপ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করেন। স্বাগত ভাষণে বিধায়ক ডাঃ সুদীপ্ত কুমার রায় বলেন, ‘গর্বের শহর শ্রীরামপুরে বসবাস করেন নানা ধর্মের মানুষজন। এই বাংলায় যাঁরা বসবাস করেন তাঁরা সকলেই বাঙালি। এখানে ধর্ম-যত-পাত কোনও ভেদাভেদ সৃষ্টি করে না। শ্রীরামপুর শহরের বড় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা পুজো নবারুন সংঘের এই পুজো। প্রতি বছরই এই পুজোর ভাবনায় থাকে নানা চমক ও বিশেষত্ব।’ এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও বলেন এক বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে চলছে মাতৃ আরাধনা। তিনি আরও বলেন যখন সারা কলকাতায় ডাক্তারদের আন্দোলন চলছিল তখন কিন্তু শ্রীরামপুর মহকুমা হাসপাতালে রোগীরা সম্পুর্ন পরিষেবা থেকে কোনও ভাবেই বঞ্চিত হয় নি।

নবারুন সংঘের সভাপতি দুলাল সামন্ত আমাদের জানান, তাঁদের এই বছরের পুজোর মন্ডপ তাঁরা সাজিয়ে তুলেছেন বৃন্দাবনের প্রেম মন্দিরের অনুকরণে কাল্পনিক এক মন্দির রূপে। তিনি জানান, তাঁদের এই বছরের পুজোর থিমে তাঁরা দেবীর অসুর নিধনের পৌরাণিক কাহিনী ১০ মিনিট সময়সীমার মধ্যে অভিনয়, আলো ও শব্দের মিশ্রণে ‘অসুর দলনী দুর্গা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন। এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি জানান তাঁদের সংঘের পক্ষ থেকে পাঁচশতেরও বেশি দুস্থ মহিলাদের হাতে পুজো উপহার হিসেবে শাড়ি তুলে দিচ্ছেন।

