
অভিজিৎ দত্ত: ২৬শে আগষ্ট ছিল মাদার টেরিজার জন্মদিন। মাদার টেরিজা ছিলেন বিদেশিনী। তার আসল নাম ছিল অ্যাগনেস বঞ্জো বোজাঝিউ। তিনি ছিলেন নিকোলো ও দ্রানা বয়োজুর কনিষ্ঠ সন্তান। জন্মস্থান আলবেনিয়া রাজ্যের স্কপিয়ে। ১৯১৯ সালে মাত্র আট বছর বয়সে তার পিতৃবিয়োগ হয়। পিতার মৃত্যুর পর তার মা তাকে রোমান ক্যাথলিক আদর্শে লালন পালন করতে থাকেন। ছোট অ্যাগনেস ধর্মপ্রচারকদের জীবন ও কাজকর্মের কাহিনী শুনতে ভালোবাসতেন। বারো বছর বয়সেই তিনি সন্ন্যাস জীবনের সিদ্ধান্ত নেন। আঠারো বছর বয়সে গৃহত্যাগ করে একজন ধর্মপ্রচারক হিসাবে যোগ দেন সির্স্টাস অফ লোরেটো সংস্থায়।

১৯২৯ সালে ওই সংস্থার হয়ে ভারতে আসেন ধর্মপ্রচার করতে। শেষ পর্যন্ত ভারতকে ভালোবেসে ভারতেই থেকে যান, এখানকার নাগরিকত্ব নেন এবং তার যাবতীয় কর্মকান্ড এখান থেকেই শুরু করেন। কলকাতা ছিল তার তার কাজের প্রধান কেন্দ্র। এখানেই দরিদ্র, রোগগ্রস্হ, আর্ত-পীড়িত মানুষের সেবার জন্য ১৯৫০ সালে স্থাপন করেন মিশনারিজ অফ চ্যারিটি।এরপর মানুষের সেবার জন্য তিনি স্থাপন করেন দাতব্য চিকিৎসালয় ‘নির্মল হৃদয়’, কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ‘শান্তি নগর’ এবং ১৯৫৫ সালে শিশুদের জন্য ‘নির্মল শিশু ভবন’। মাত্র ১৩ জন সদস্য নিয়ে মিশনারিজ অফ চ্যারিটি গড়ে উঠেছিল। যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০০০ জন।

১৯৬৯ সালে মাদার টেরিজার কাজকর্ম বিবিসির গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং টেরিজার খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরষ্কার লাভ করেন তার এই সেবামূলক কাজের জন্য। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৮০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন লাভ করেন। এছাড়াও দেশ ও বিদেশ থেকে তার কজের জন্য অনেক সম্মাননা লাভ করেন। এমন এক মহীয়সী নারী অথচ তিনি থাকতেন খুব সাধারণভাবে। তার পরিধান ছিল নীল পাড়ের সাদা শাড়ি। তিনি তার সারাজীবন দরিদ্র, আর্ত-পীড়িত, রোগগ্রস্থ মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

কুষ্ঠ রোগীদের জন্য গোটা বিশ্বের ১২৩টি রাষ্ট্রে ৬১০ টি কেন্দ্র বিদ্যমান ছিল। ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উনার মহাপ্রয়াণ হয়। মাদার টেরিজার জীবনই তার বাণী। আজকে হিংসায় উন্মুক্ত পৃথিবীতে মাদার টেরিজার মত ব্যক্তিত্বদের বেশী করে যেমন দরকার তেমনই দরকার এই মহিয়সীদের সম্বন্ধে জানা এবং তাদের জীবন ও বাণীকে নিজেদের জীবন ও কর্মে প্রয়োগ করা। তবেই সেটা হবে মাদার টেরিজাকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।
