আজ ১২ আগস্ট। দিনটি আমাদের দেশে পালন করা হয় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে। এই উপলক্ষে বিশেষ নিবন্ধ কিশলয় মুখোপাধ্যায়ের কলমে

গ্রন্থগার আন্দোলনে ও প্রসারে হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া হল অন্যতম পীঠস্থান। ১৯২৭-২৮ সালে ২৮ জুন পাঠাগারের এক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রনে উপস্থিত হয়েছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তিনি পাঠাগারের প্রয়োজনিয়তা ও উপকারিতা সম্পর্কে বলেন যা আজও প্রাসঙ্গিক।
আজ জাতীয় গ্রন্থগার দিবস। সি আর রঙ্গনাথনকে বলা হয় ভারতের গ্রন্থগার বিজ্ঞানের জনক। তাঁর জন্মদিনে এই দিবস পালন করা হয়। ১৮৯২ সালে তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলায় জন্ম এই গ্রন্থকারিক তথা গণিতজ্ঞ চেন্নাইয়ের খ্রীষ্টান কলেজে অংকে বিএ আর এম এ পাশ করেন। তিনি তাঁর গণিত প্রতিভা কাজে লাগান গ্রন্থগার কাজে। যেমন ‘অ্যাকনলেজমেন্ট অফ ডুপ্লিকেশন’ তত্বটি তিনি ‘ডিউই ডেসিমেল ক্ল্যাসিফিকেশনের সাহায্যে ব্যাখ্যা করেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হল ১৯৩১ সালে পাঠাগার বা লাইব্রেরি বিজ্ঞানের পাঁচটি তত্ব ব্যাখ্যা করেন। যথা ১) প্রত্যেকটি বই হবে ব্যবহাযযোগ্য। ২) সমস্ত পাঠকের জন্য বই থাকবে।
৩) প্রত্যেকটি বই-এর পাঠক রয়েছে। ৪) পাঠকের সময় বাঁচানো আবশ্যিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। ৫) লাইব্রেরি বিজ্ঞান একটি বর্ধনশীল সংগঠন বা সংস্থা। এই ‘পঞ্চ তত্ব’ লাইব্রেরি সাইসেন্সে এখনও মূল ভিত্তি হিসাবে ধরা হয়। পাশ কারার পর তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত পড়াতে শুরু করেন। এই সময় ১৯২৪ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থগারিকের প্রয়োজন পড়ে, তখন তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে এই পদে যোগ দেন। এখান থেকে শুরু, এরপর ক্রমশ তিনি গ্রন্থগার বিজ্ঞানে একজন দক্ষ ও সফল ব্যাক্তিত্বে পরিণত হন।১৯৭২ সালে এই গুণী মানুষটি পরলোকগমণ করেন। ১৯৫৭ সালে পদ্মশ্রী প্রাপক ড.শিয়ালী রামাম্রীতা রঙ্গনাথন সারা বিশ্বে লাইব্রেরি বিজ্ঞানের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের কাছে একটি আদর্শ।
আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ে সেই দিনের বক্তব্যে বলতে চেয়েছিলেন তৎকালীন সারা বিশ্বে অনেক পণ্ডিত ব্যাক্তি ছিলেন যাঁদের প্রথাগত শিক্ষা ছিলনা বা কম ছিল। যেমন অনেকে কলেজে পড়েননি। কিন্তু পাঠাগারে নিজের উদ্যমে অজস্র বই পড়ে নিজেকে উন্নতি করেছেন। আজকের যুগেও এটা প্রয়োজন। লাইব্রেরিতে সেল্ফ স্টাডি করতেই হবে।।আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের রচনা সংকলন পঞ্চম খন্ডে পাঠাগারের কার্যকারিতা শিরোনামে প্রবন্ধটি পড়লে জানা যায় পাঠাগার আজও কতটা দরকার।
