
কিশলয় মুখোপাধ্যায়: ১৯১৮ সালে বিখ্যাত মাসিক পত্রিকা প্রবাসীতে জৈবদ্যুতি বা বায়োলুমিসেনস সম্পর্কে লিখলেন এক গবেষক তাঁর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষনের অভিজ্ঞতার কথা। ‘পচা গাছপালার আশ্বর্য আলো বিকিরণ ক্ষমতা’। লেখাটি পড়লেন আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু। তিনি ডেকে পাঠালেন সেই গবেষককে। তখন তিনি একটি সওদাগরি অফিসে টেলিফোন অপরেটর হিসেবে কর্মরত। বসু বিজ্ঞান মন্দিরে যোগ দিলেন। সালটা ১৯২১, পদ রিসার্চ অ্যাসিসটেন্ট। এই গবেষক হলেন স্বশিক্ষিত জীব বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান সাহিত্যিক গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য। বসু বিজ্ঞান মন্দির থেকে ১৯৬৫ সালে অবসর নিলেন।

১৮৮৫ সালে ১আগস্ট লোনসিং গ্রামে জন্ম এই বিজ্ঞানীর বসু বিজ্ঞান মন্দিরে শুরু হল নিবিড় গবেষনা। প্রথম গবেষনা প্রকাশ পায় ১৯৩২ সালে , বিষয় উদ্ভিদের শরীরবৃত্তিয় ঘটনা। শৈশব থেকে বিজ্ঞান ও সাহিত্য দু দিকেই টান ছিল। তাঁর বন্ধুরা যখন মাঠ দাপাচ্ছে তখন তিনি প্রকৃতির খুঁটিনাটি ব্যাপার গুলো লক্ষ করছেন। পাশাপাশি চলত হাতের লেখা পত্রিকা প্রকাশ,পত্রিকার সম্পাদনা।

একদিকে যেমন বাগান চর্চার মাধ্যমে সংকর ফুল ফল তৈরির চেষ্টা করেছেন অপর দিকে তেমনি পালাগান রচনা করেছেন। তাই আমরা বিজ্ঞান সাহিত্যিক রূপে তাঁকে পেয়েছি। এই সাহিত্য গুনের জন্য ১৯৬৮ সালে আনন্দ পুরস্কার ও বাংলা কীটপতঙ্গ বই এর জন্য রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান সাধনার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম। এর জন্য ১৯৭৪ পেলেন আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু ফলক। ১৯৩২ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত অসংখ্য প্রবন্ধ লিখলেও ইংরেজিতে প্রবন্ধ লেখেন ২২টি। সেইজন্য আমরা সাধারন মানুষ খুবই উপকৃত হলেও অম্বিকা চরণ ভট্টাচার্য ও শশীমুখি দেবীর সুযোগ্য বিজ্ঞানী পুত্র বিশ্ব দরবারে খুব একটা পরিচিত লাভ করলেননা।

উল্লেখযোগ্য গবেষণা হল পিঁপরের লিঙ্গ নির্ধারনের পরীক্ষা ও তার বৈজ্ঞানিক ব্যখা, কানকোটারির জীবন কথা, মাকড়সার জীবন বৈচিত্র প্রমুখ। তাঁর প্রথাগত শিক্ষা ছিলোনা বলে অনেক বিজ্ঞানী তাকে বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও এ কথা স্বীকার করতেই হবে যে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রসারে ও বিজ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ গড়ে তুলতে এই বিজ্ঞানীর অবদান অনস্বীকার্য।
