এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল টুর্নামেণ্ট ডুরাণ্ড কাপ

আগামী ২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন ডুরাণ্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেণ্টভারতের সুপ্রাচীন এই ফুটবল প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আলোকপাতে কিশলয় মুখোপাধ্যায়

ডুরাণ্ড-ছড়া

জানিস ভোঁদা, একটি গোলেই

দফা হল গয়া,

বলনা ভোঁদা, টিমটা এবার

কি ধরনের পয়া!

লিগ পেয়েছে, ডুরাণ্ড পেলো

গোল্ড কাপ আর শিল্ড,

বলনা ভোঁদা বুক বাজিয়ে

কার কতটা ফিল্ড?

গোল হয়না, গোল পায়না

দাদা চেপে বসুন,

বলনা ভোঁদা, কেমন চেপে গোলটা দিল প্রসূন

আর কি কথার লেখা আছে

কি-ই বা আছে বলার,

শোনরে ভোঁদা, মোহনবাগান

ডুরাণ্ড পেল ন-বার।।

 

জয়দেব সাঁধুখার লেখা মজার ছড়াটি ৭ ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে বিখ্যাত ‘খেলার আসর’ পত্রিকায় ডুরাণ্ড কাপের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছিল। খবরটির শিরোনাম ছিল ‘একই বছরে দুবার ডুরাণ্ড কাপ কলকাতায়’। অর্থাৎ ১৯৭৯ সালে জানুযারি মাসে ডুরাণ্ড কাপ পায় ইষ্টবেঙ্গল আর ওই বছরই ডিসেম্বর মাসে মোহনবাগান জয়ী হয়। শুধুমাত্র ভারতে নয় এশিয়ার প্রাচীনতম এই প্রতিযোগিতা এবছর আগামী ২৭ জুলাই মোহনবাগান ও ভূস্বর্গ কাশ্মীরের শ্রীনগরের ডাউনটাউন এফ সি ক্লাবের ম্যাচের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে ১৩৩তম ডুরাণ্ড কাপ প্রতিযোগিতা। খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে কলকাতায় বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।

স্যার হেনরি মার্টিমার ডুরাণ্ড ছিলেন ব্রিটিশ আমলের বিদেশ সচিব। তরুণদের মধ্যে ফুটবল খেলায় উৎসাহিত করতে ১৮৮৮ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু করেন। ১৯৪০ সালে ১২ ডিসেম্বর নতুন দিল্লীর আর উন স্টেডিয়াম যার বর্তমান নাম মেজর ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়ামে মহামেডান ২-১ গোলে রয়্যাল ওয়ারউইকশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে ডুরাণ্ড কাপ জেতে। মাঠে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল। আর এই ১৯৪০ সালেই এই প্রতিযোগিতাটি সিমলা থেকে নতুন দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।

এবারে ডুরাণ্ড কাপ অনুষ্ঠিত হবে ৪টি শহরে। কলকাতা, কোকরাঝোড়, জামশেদপুর আর শিলং। ৬টি গ্রুপে মোট ২৪টি দল রয়েছে। কলকাতায় বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন, কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন, জামশেদপুরে টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স, কোকরাঝোড় শহরে সাই স্টেডিয়াম, শিলং শহরে জহরলাল নেহেরু ক্রীড়াঙ্গনের সবুজ মাঠে ডুরাণ্ড কাপের ম্যাচ গুলো হবে।

মার্টিমার ডুরাণ্ডের জন্ম মধ্যপ্রদেশের ভোপাল শহরে। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য মার্টিমার ডুরাণ্ডের স্কুল শিক্ষা হয় ইংল্যাণ্ডের ব্ল্যাকহিত মালিকানাধিন বিদ্যালয়ে। ১৮৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটির পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল ও রাগবি খেলায় সুনাম ছিল। বিশ্বের সবথেকে প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতা ‘এফ এ কাপ’ আর ফুটবল অ্যাসোসিয়াশনের প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে এই স্কুলটির। সুতরাং ডুরাণ্ডের মধ্যেও ফুটবল নিয়ে ঝোঁকটা ছিল।

এবারের খেলায় গ্রুপ এ,বি ও সি খেলবে কলকাতায়। গ্রুপ এ তে রয়েছে মোহনবাগান, ইষ্টবেঙ্গল, ভারতীয় বায়ু সেনা, ডাউন টাউন এফ সি। গ্রুপ বি-তে রয়েছে বেঙ্গালুরু এফ সি, ইন্টার কাশী এফ সি, ভারতীয় নৌ সেনা, মহামেডান। গ্রুপ সি তে রয়েছে কেরালা ব্লাষ্টার্স, মুম্বাই সিটি, পাঞ্জাব এফ সি, সি আই এস এফ। গ্রুপ ডি খেলা হবে জামশেদপুরে। এই গ্রুপে রয়েছে জামশেদপুর এফ সি, চেন্নাইয়ান, ভারতীয় আর্মি, বাংলাদেশ আর্মি। গ্রুপ ই খেলা হবে কোকরাঝোড়রে। রয়েছে ওডিশা এফ সি, নর্থ ইষ্ট ইউনাইটেড, বড়োল্যাণ্ড এফ সি, বি এস এফ। গ্রুপ এফ খেলা হবে শিলং শহরে। রয়েছে এফ সি গোয়া, হায়দ্রাবাদ এফ সি, লাজং, ত্রিভূবন আর্মি এফ সি।

১৮৮৮ সাল থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত খেলা হতো সিমলার কাছে সোলাং জেলার দাগসাই এর মাঠে। বর্তমানে কালকা সিমলা ট্রয় ট্রেন রুটে কুমারহাট্টি দাগসাই নামে স্টেশন রয়েছে। মোহনবাগান ১৯৬৩,৬৪,৬৫ আর ১৯৮৪,৮৫,৮৬ দুবার হ্যাট্রিক সহ মোট ১৭ বার চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। ইষ্টবেঙ্গল ১৬ বার ডুরাণ্ড কাপ তাদের ক্লাব তাঁবুতে এনেছে। এই ডুরাণ্ড কাপের বিশেষত্ব হল জয়ী দল তিনটি কাপ পায়। ডুরাণ্ড কাপ, সিমলা কাপ আর রাষ্ট্রপতি কাপ। এরকমটা সারা পৃথিবীতে আর কোন ফুটলল প্রতিযোগিতায় দেখা যায়না।

গতবারের চ্যাম্পিয়ান হয়েছে সবুজ মেরুন মোহনবাগান আর ১৮৮৮ সালে প্রথম চ্যাম্পিয়ান দল ছিল রয়্যাল স্কট ফুসিলিয়ার্স। এখন ফুটবল ফ্যানরা অপেক্ষায় রয়েছে ১৩৩ তম ডুরাণ্ডের তিনটি কাপ কে পাবে।

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading