বর্তমান সময়ে কতটা প্রাসঙ্গিক কবিগুরু

সংবাদ প্রতিখন আয়োজিত বর্তমান সময়ে কতটা প্রাসঙ্গিক কবিগুরু শীর্ষক ৺অনিমা চক্রবর্তী স্মৃতি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার ফলাফল আমরা আগেই প্রকাশ করেছি। আজ থেকে আমরা এই প্রতিযোগিতার সেরা প্রথম পাঁচটি প্রবন্ধ প্রকাশ করতে চলেছি। আজ প্রকাশিত হচ্ছে এই প্রতিযোগিতার বিচারকদের বিচারে তৃতীয় স্থান পাওয়া দক্ষিণ আর আর এন রোড, কোচবিহার থেকে শিখা ভট্টাচার্য্যর লেখা প্রবন্ধ

শিখা ভট্টাচার্য্য, কোচবিহার : প্রতিবছর রবীন্দ্র জয়ন্তী এলেই দেশ ব্যাপি উদযাপনে মেতে উঠি আমরা আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে। তাকে বিগ্রহের মতো পুজো করা হয় ফুল মালা চন্দনে ।

কাব্যের ঝংকারে সুরের মূর্ছনায় ভেসে যাই কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ।

এভাবেই তাকে দেবতা বানিয়েছি ফুল প্রসাদী দিয়ে।

তারপর আবার যে কে সেই। উন্মাদনা আবার কমে আসে।

কিন্তু আমরা সেই রবীন্দ্রনাথকে নিয়েই কখনো চর্চা করিনা। যে রবীন্দ্রনাথ সম্প্রীতির, প্রতিবাদের, অনুপ্রেরণার। সেই দৃষ্টিভঙ্গিটা আমাদের যেন ফিকে পড়ে যায়।

তাই জীবনদ্রষ্টা রবীন্দ্রনাথকে জানতে ইতিহাস সম্মত বিজ্ঞান নির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাকে জানতে হবে। তার উজ্জ্বলতম দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। যা আজকের দিনে প্রাসঙ্গিক।

রবীন্দ্রনাথ মানবজাতিকে বিজ্ঞান নির্ভর শিক্ষাকে গ্রহণ করতে বলেছেন। যা মানুষকে ধর্মীয় গোঁড়ামির দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে পারে।

অসহায় নিপীড়িত শ্রমজীবী বঞ্চিত মানুষের প্রতি তার প্রেম ছিল অগাধ। তাই ব্যথিত হৃদয়ে তিনি বলেছেন, সেই সব মানুষদের কথা, ‘তারা সভ্যতার পিলসুজ, মাথায় প্রদীপ নিয়ে খাড়া দাঁড়িয়ে থাকে-উপরে সবাই আলো পায়, তাদের গা দিয়ে তেল গড়িয়ে পড়ে।’

‘ওদের কপালে জোটে শুধুই লাথি-ঝাটা।‘ তীব্র বেদনায় সেই সব অখ্যাত মানুষদের অধিকারের কথা বলেছেন।

ধর্ম, জাতপাত নিয়ে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি কারী মৌলবাদকে তিনি কখনোই সমর্থন করেন নি।

কবি বলেছেন, ‘ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে, অন্ধ সে জন মারে, আর শুধু মরে।’

বলেছেন, ‘পূজা গৃহে তোলে রক্তমাখানো ধ্বজা, দেবতার নামে এ যে শয়তান ভজা।’ এভাবেই রবীন্দ্র সৃষ্টি বারবার প্রাসঙ্গিক হয় তার জীবনদর্শন দিয়ে।

তিনি অন্যায়কে শাসন করেছেন, গা বাঁচিয়ে শুধু কাব্যচর্চায় মেতে থাকেন নি। তাই জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ড তাকে দুঃখের তাপে পুড়িয়েছে। সেই কষ্ট থেকেই তিনি তার ‘নাইটহুড উপাধি’ অবলিলায় ত্যাগ করেছিলেন।

আজকের এই স্বাধীন দেশে রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জীবনসংগ্রামকে স্বরণ করে আমরা কি পারিনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে?

সাম্রাজ্যবাদ,ফ্যাসসিবাদের বিরুদ্ধে তার শ্রেষ্ঠ বাণী ছিল,

‘নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস, শান্তির ললিত বাণী,

শুনাইবে ব্যর্থ পরিহাস,

যাবার আগে তাই, ডাক দিয়ে যাই দানবের সাথে যারা সংগ্রামের তরে, প্রস্তুত হতেছে ঘরে ঘরে।’

এই রবীন্দ্রনাথের জীবন চর্চা আজ প্রাসঙ্গিক নয় কি?

error: Content is protected !!

Discover more from Sambad Pratikhan

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading