
পথিক মিত্র, হুগলি: নবীনের জয়গান গাওয়া, বা নতুন প্রতিভাদের সকলের সমানে তুলে ধরার অনন্য প্রচেষ্টা করে চলা সেই মানুষটি, যিনি অতি সাবলীলভাবে বঙ্গ সংস্কৃতির প্রসারে নিজেকে সদা নিয়োজিত করে রেখেছেন, সদা হাস্যময় সেই মানুষটি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে আজ থেকে কয়েক বছর আগে সৃষ্টি করেছিলেন এমন একটি সংস্থা, যে সংস্থার মাধ্যমে বঙ্গ সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে তিনি নবীনদের নিয়ে বাচিক শিল্পের জগতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে বদ্ধ পরিকর। আর এর বাহ্যিক প্রকাশ আমরা দেখতে পেলাম গত রবিবার অর্থাত্ ২ জুন সন্ধ্যায় হুগলী জেলার বৈদ্যবাটির শংশাঙ্ক বসু ভবনে। শিল্পে নিয়োজত প্রাণ এই মানুষটি হলেন সুমিত সেনগুপ্ত। তাঁর সৃষ্টি করা বাচিক শিল্প সংস্থা নতুনের খোঁজের শিক্ষানবিশরা এদিনের সন্ধ্যা মাতিয়ে তুলেছিল তাঁদের কন্ঠের যাদুতে। বঙ্গ সংস্কৃতিতে যে দুটি মানুষকে আমরা কোনোদিনই অবজ্ঞা করতে পারবো না সেই দুটি মানুষ হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সমগ্র মানবজাতিকে সকল জাত-পাতের উর্ধে উঠে এক সুন্দর সমাজ গড়ার ডাক দেওয়া বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করতে এই সংস্থা ওই সন্ধ্যা ভরিয়ে তুলেছিল কবিদ্বয়ের কলমেই।

অনুষ্ঠানের সূত্রপাত উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ দ্বারা পবিত্র অগ্নিশিখা প্রজ্বলন করে, এর পর একে একে ক্ষুদে শিল্পীরা ও নতুনের খোঁজের সকল শিল্পীরা তাঁদের অনবদ্য পরিবেশনে ভরিয়ে তোলে সভাগৃহে উপস্থিত সকলের মন। সকলে একাত্ম হয়ে উপভোগ করলেন এই সকল অনামী শিল্পীদের পরিবেশনা। আবৃত্তি, সঙ্গীত, হাস্যনাটিকা, সমবেত সঙ্গীত ও আবৃত্তিআলেখ্য মালায় সাজানো ঘণ্টা তিনেকের এই অনুষ্ঠানে কখনই মনে হয় নি কিছুটা হলেও তাল কাটছে। আসলে অধ্যবসায় ও লক্ষ্য সঠিক হলে তবেই এই রকম ঘরোয়া অথচ পরিপূর্ণ অনুষ্ঠান সকলের সামনে উপহার দেওয়া সম্ভব হয়। এদিনের সন্ধ্যায় নতুনের খোঁজের কর্ণধার সুমিত সেনগুপ্তর বিনম্র আহ্বানে উপস্থিত ছিলেন বৈদ্যবাটি অঞ্চলের অন্যতম সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ও সংস্কৃতি প্রেমী নরেন চট্টোপাধ্যায়, প্রবীণ সাংবাদিক, কবি ও লেখক সুমিত দাঁ, কবি অশোক কুমার মুখোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী অরুনাংশু বিশ্বাস।

প্রাপ্তি বেলেল, আরাধ্য দেব, ধ্রুব দাশগুপ্ত এই তিন ক্ষুদে শিল্পী অনুষ্ঠানের শুরুর লগ্নে তাঁদের পরিবেশনায় সকলকে মুগ্ধ করেন। এর পর একে একে নতুনের খোঁজের শিল্পীরা অর্থাত্ সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বপ্না সিংহরায়, জয়িতা দাশগুপ্ত, পয়েল বেলেল, দিপান্বীতা দাস, সঙ্গে অতিথি শিল্পী হিসেবে উপস্থিত থাকা ঈশানী চট্টোপাধ্যায়, স্নেহা সরকার, জ্যোতিস্মিতা মজুমদার, সুরভী দত্ত ও সৌম্যদ্বীপ সাহাদের পরিবেশনা ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সকলের হৃদয়। অনুষ্ঠানে তবলায় নিজের জাত চেনালেন স্থানীয় যুবক কৌশিক দত্ত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাস্যরসের অন্যতম সৃষ্টি হাস্যকৌতুক ছাত্রের পরীক্ষায় বহুদিন বাদে বৈদ্যবাটির জনগণ শুনতে পেলেন সুমিত সেনগুপ্তর কণ্ঠাভিনয়। ওনার সঙ্গে এই নাটিকায় সাবলীল ছিলেন নীলেশ দাশগুপ্ত ও ক্ষুদে শিল্পী ধ্রুব দাশগুপ্ত। কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ করে এদিনের অনুষ্ঠান শেষ হয় স্বরূপম চক্রবর্তীর কলমে সৃষ্টি মহাবিশ্বের জলন্ত আগ্নেয়গিরি নজরুল শীর্ষক আবৃত্তিআলেখ্য পরিবেশনে। নতুনের খোঁজের কর্ণধার সুমিত সেনগুপ্তের আহ্বানে সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্বরূপম চক্রবর্তী।

