
অনিমেষ মল্লিক: জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিনী কালীপূজা করা হয়।মনে করা হয় এই মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেবীর আরাধনায় মোক্ষফল প্রাপ্তির যোগ তৈরি হয়। উল্লেখ মা তারা এ দিন ফলহারিনী দেবী হিসাবে পূজিত হন।
কথিত আছে, স্বয়ং মা কালি মানুষের সমস্ত খারাপ কর্মফলকে নিজের মধ্যে ধারণ করেন। পাশাপাশি কর্ম অনুযায়ী ফল দান করেন।
হিন্দুশাস্ত্র মতে এই তিথিতে দেবীর পুজা করলে অশুভ কর্মফলের নাশ হয় এবং শুভ ফল প্রাপ্ত হয়।

বাঙালি জীবনে ফলহারিণী কালী পুজোর তাৎপর্য লুকিয়ে রয়েছে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনে। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই দিনেই তাঁর স্ত্রী সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগৎ কল্যাণের জন্য। ১২৮০ বঙ্গাব্দে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে তিনি দক্ষিণেশ্বরে আদ্যাশক্তি সগুণরূপের পুজো করেছিলেন। তিনি ফলহারিণী কালী পুজোর দিন শ্রী মা সারদাকে দশমহবিদ্যার অন্যতম রূপ দেবী ষোড়শীরূপে পুজো করেছিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর মোক্ষপ্রাপ্তির জন্য এই নিয়মে পুজো করলেও এই দিনটিতে হিন্দু ধর্মাবলাম্বী মানুষ নানাবিধ ফল দিয়ে কালীর পুজো করে থাকেন।
তাই এই ফলহারিনী কালীপূজা রামকৃষ্ণ মঠ ও আশ্রমে ষড়োশী পুজা নামেও পরিচিত।
শুধু আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি গাছের ফল না, এই দিন মায়ের চরণে সাধকেরা তার কর্ম ফল অর্পন করে থাকেন মোক্ষফল প্রাপ্তির জন্য। কারণ এই মানব জীবন পাপ ও পূন্য এই দুই নিয়েই জীবন দুই নিয়েই কর্মফল। এই পপ ও পুণ্যর মধ্যে যার বৃদ্ধি বেশি তার দিকেই মানব জাতি আকৃষ্ট হয়ে যায়৷ তাই এই দিনেই মায়ের চরনে পাপ-পূন্যের ফল অর্থাৎ কর্মফল অর্পণ করতে হয় মোক্ষফল লাভের আশায়। শাস্ত্রে বলা হয়, জীবনই সর্বস্ব। অর্থাৎ একদিকে ফলহারিণী যা সাধকের কর্মফল হরণ করেন। অপর দিকে কর্মফল হরণ করে সাধককে তাঁর অভীষ্টফল, মোক্ষফল প্রদান করেন। মা ভক্তের সকল মনস্কামনা পূর্ণ করেন, ভক্তের জীবনের অশুভ ফল নাশ করে,শুভ ফল এনে দেন।

এই বছর কখন হবে এই পুজো?
এই বছর ফলহারিণী কালীপুজো হবে আগামী ৫ জুন ২০২৪ বুধবার। অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ৫ জুন সন্ধে ৭টা ১৫ মিনিটে। অমাবস্যা চলবে ৬ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫৩ মিনিটে।

