আজ ২১ মে, আন্তর্জাতিক চা দিবস। আন্তর্জাতিক চা দিবসে চা পান নিয়ে কলম ধরলেন পথিক মিত্র

চা এমন এক পানীয় যার স্বাদ সম্পর্কে আমরা সকলেই কমবেশি ওয়াকিবহল। সারা বিশ্বের প্তায় দুই তৃতীয়াংশ জনগণ প্রতিদিনও চা পান করে থাকেন। কিন্তু কেন চা পান করবেন? বা চা পান করলে কী কী সুবিধা বা অসুবিধা সেই বিষয়ে নিয়েই আজ একটু আলোকপাত করা যাক। আসলে ২৭৩৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে চীনের সম্রাট শেন নাং এর হাত ধরে পৃথিবীর বাজারে আত্মপ্রকাশ ঘটে চায়ের। ধীরে ধীরে সমগ্র চীন ও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যায় চা নামক এই পানীয়ের বহুল ব্যবহার। চীনা ভাষায় চা শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘খোঁজা’।
চীনে কিন্তু চা পানের প্রচলন শুরু হয়েছিল ওষুধ হিসেবেই। আসলে চা’এ রয়েছে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান যা আমাদের শরীরের পক্ষে উপকারী। রয়েছে ৭% থিওফাইলিন ও থিওব্রোমিন যা আমাদের শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি থেকে রক্ষা করে। এর সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে ২৫% এরও বেশি পলিফেনলস, যা কিনা ক্যানসার রোগ কে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এবার দেখে নেওয়া যাক আর কী কী উপকারী উপাদান রয়েছে চায়ে, যা আমাদের শরীরের পক্ষে কতটা ও কিভাবে উপকার করে।

যেহেতু চায়ে ক্যাফেন এর পরিমাণ খুবই অল্প থাকার কারণে চা মানুষের শরীরে বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রে কোনও ক্ষতি করে না এবং অ্যালজাইমার’স ও পারকিনসন্স এর মত রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে সবুজ চা। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে যাঁরা সারা দিনে এক থেকে তিন কাপের মত গ্রীন টি বা সবুজ চা পান করেন তাঁদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের সম্ভাবনা শতকরা ২০ শতাংশ কম থাকে।

আপনি কী ওবিসিটির সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে আজ থেকেই অভ্যাস করুন চা পানের। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এই পানীয় আপনার ওজন কমাতে বিশেষ সাহায্য করবে। এর সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে সবুজ চা সবথেকে কার্যকরী। এর সঙ্গে সঙ্গে চা কিন্তু আপনার দাঁতের ক্ষয়ও রোধ করে এবং দাঁতের এনামেলকে রক্ষা করে। এছাড়াও ক্যাভিটি থেকে বাঁচতে নিয়মিত পান করুন চা।গবেষকদের মতে, মানব শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নেয় চা। এর সঙ্গে সঙ্গে চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানুষের জীবনে যৌবন ধরে রাখতে ও শরীরকে নানাপ্রকারের দূষণ থেকে রক্ষা করে বলে গবেষনায় প্রকাশ।

এর সঙ্গে সঙ্গে চা এমন এক পানীয় যা নিয়মিত পান করলে কোলেস্টেরল ও স্ট্রোকের থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করে। তবে সেই চা কিন্তু অতি অবশ্যই সবুজ চা বা গ্রীন টি। আবার গবেষণা দেখা গেছে মানব শরীরে বাতের ব্যাথা কমাতে ও গাঁটের ব্যাথা ও ফুলে যাওয়া কমাতেও সহায়তা করে গ্রীন টি। তবে কতটা পরিমাণে এই চা পান করা প্রয়োজন সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াও উচিত। সঠিক পরিমাণে গ্রীন টি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে মধুমেহ রোগ থেকে রক্ষা করে বলেও গবেষণা জানা যায়।

তবে একটি বিষয় কিন্তু অতি অবশ্যই আমদের মাথায় রাখতেই হবে, কোনও কিছুই অতিরিক্ত কিন্তু আমাদের কোনপ্রকার উপকার তো করেই না, উপরন্তু তা আমাদের শরীরে নানা রোগের উপসর্গকে ডেকে নিয়ে আসে। অতিরিক্ত চা পান খিদে কমিয়ে দেয়, পর্যাপ্ত ঘুম ব্যহত হয়, হজমে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা যার ফলে পেট খারাপের সম্ভাবনাও থেকে যায়। কাজেই চায়ের পরিমিত ব্যবহারে থাকতে পারবেন সুস্থ। পরিমাণ মেপে করুন চা পান আর পান সুস্থ জীবন।
তথ্য: ইন্টারনেট

