আত্রেয়ী দো: জলই জীবন। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে জলের গুরুত্ব যে ঠিক কতখানি তা বলাই বাহুল্য। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরের ৬০% পর্যন্ত জল। সব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য জলের প্রয়োজন।
জলের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে ,জাতিসংঘ ২২শে মার্চ দিনটি ‘বিশ্ব জল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯২সালে ব্রাজিলের রিও-ডি- জেনিরোতে জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনের “এজেন্ডা ২১”-এ বিশ্ব জল দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। ১৯৯৩ সালের ২২শে মার্চ প্রথম ‘বিশ্ব জল দিবস’ পালিত হয় এবং তারপর থেকে আজও এই অনুষ্ঠানের ধারা অক্ষুণ্ন রয়েছে। শুধু তাই নয়, জল দিবস পালনের গুরুত্বও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ২.২বিলিয়নের বেশি মানুষ নিরাপদ জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ভবিষ্যতে এটি বিশ্বব্যাপী গুরুতর সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই জল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই প্রতি বছর এই দিবস পালিত হয়।
প্রত্যেক বছর এই অনুষ্ঠানের জন্য IGRAC -র তরফ থেকে একটি করে থিম নির্দিষ্ট করা হয়। এই বছরের থিম ‘জল ও স্যানিটেশন সংকট সমাধান তরান্বিত করা'(“accelerating the change to solve the water and sanitation crisi”)।
জাতিসংঘের মতে, বিদ্যালয়, ব্যবসা, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, খামার, কারখানার পাশাপাশি জল ও শৌচাগার মানব জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস। একথা মাথায় রেখেই এই বছরের থিম নির্বাচন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক পরির্বতন যেমন বিশ্ব উষ্ণায়ন,জলের অপব্যবহার ইত্যাদির ফলস্বরূপ ভূ-গর্ভস্থ জলের পরিমাণ কমে আসছে। ফলে, দেখা যাবে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট।
জাতিসংঘের মতে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশ্বের সর্বনিম্ন মাথাপিছু জলের প্রাপ্যতা রয়েছে। এই অঞ্চলগুলিতে ২০৫০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার ৩০% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভূগর্ভস্থ জল একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ যা সারা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক পানীয় জল সরবরাহ করে, প্রায় ৪০% কৃষিতে সেচের জন্য এবং প্রায় ১/৩ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জল। জলাভূমি এবং নদী সহ বাস্তুতন্ত্রের সুস্থ ক্রিয়াকলাপের জন্যও ভূগর্ভস্থ জল খুব গুরুত্বপূর্ণ।
জলের প্রয়োজনীয়তা, মার্জিত ব্যবহার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য। জাতিসংঘের মতে ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করাই এই বিশ্ব জল দিবসের মূল লক্ষ্য।


