গতকাল আমরা পালন করেছি বিশ্ব সুখ দিবস, সুখ দিবস নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদনে কিশলয় মুখোপাধ্যায়
নাই কিরে সুখ?
নাই কিরে সুখ?
এ ধরা কি শুধু বিষাদময়?
যাতনে জ্বালিয়া কাঁদিয়া মরিতে
কেবলি কি নর জন্ম লয়?
বিখ্যাত কবি কামিনী রায়ের সুখ কবিতার প্রথম কয়েক লাইন। ‘সুখ’, মাত্র দুটি অক্ষরের শব্দ কিন্তু এর গভীরতা, ব্যাপ্তি, সে এক সমুদ্র বা তারও বেশি। মানুষ খোঁজে সুখ। সর্বদা সে সুখে থাকতে চায়। ২০ মার্চ বিশ্ব সুখ দিবস বা ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেজ ডে। ২০১২ সালে ২৮ জুন জাতিসংঘের এক সাধারন অধিবেশনে এই দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ২০ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের মনে এই ধারণাটি এসেছিল ভূটান থেকে। এই ছোট্ট পাহাড়ি দেশে জাতীয় আয়ের থেকে জাতীয় খুশির মাত্রাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই বিষয় সরকারি স্তরে নানা গুরুগম্ভির আলোচনা হয়। বর্তমানে জাতীসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে সুখী দেশ হল ফিনল্যাণ্ড। তাদের স্কোর ৭.৮৪২। টানা ৬ বছর ধরে এই দেশটি শীর্ষে রয়েছে। এরপর যথাক্রমে রয়ছে ডেনমার্ক, আইসল্যাণ্ড, সুইজারল্যাণ্ড ও হল্যাণ্ড। এই সব তথ্য দেখে বোঝা যায় যে সব দেশ সবাই সুখ, খুশি আর হ্যাপি খুঁজছে।
সুখের জন্যই এ দৌড়ঝাঁপ, সুস্থ থাকার চাবিকাঠি কোথায় আছে। কেন সুখে থাকার চেষ্টা করি? কারণ সুখে না থাকলে স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা এগুলো চেপে বসে মনে ও দেহে। ফলে কাজের আউটপুট কমে যায়। তা সে বাড়িতেই হোক বা অফিসে।
‘সুখ’ নিয়ে হয়েছে অজস্র সিনেমা, গান, নাটক তথা রচিত হয়েছে বহু কবিতা ও ছড়া। হলিউড সিনেমায় প্রথমেই দুটি সিনেমার নাম করতে হয়, একটি চ্যপলিনের লাইমলাইট আর পরেরটি হল এমিলি। ১৯৫২ সালে রিলিজ হওয়া চ্যপলিনের সিনেমাটি আর ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া এমিলি খুঁজেছে হ্যাপিনেসকে।
এদিকে সিদ্ধার্থ মেধাবী এক ডাক্তারি ছাত্র। তবে অর্থের অভাবে পড়া শেষ করতে পারলোনা। সে ঢুকলো পারিবারিক মিস্টির দোকানে। সে দোকান খুব একটা চলেনা। সে আবিষ্কার করে সুখে থাকার ওষুধ হ্যাপি পিল।মৈনাক ভৌমিকের ছবি ‘হ্যাপি পিল’ সুখে থাকার এ এক আশ্বর্য মেডিসিন। মনে করুন বললাম আল ইজ ওয়েল সমস্যাটা মিটে গেল। এবার সুখে থাকবো। অথবা থাকতো যদি প্রফেসর শঙ্কুর মিরাকিউরল, সর্বরোগ হর বড়ি। এই বটিকা সেবনে আমরা থাকতাম সদা সুস্থ সবল ও তরতাজা। সুখে থাকতাম ২৪ ঘন্টা, ৩৬৫ দিন।
রযেছে নানা উপায়, নানা উপদেশ, নানা টোটকা, নানা দিশা বাস্তবে সুখে থাকার জন্য। নিজের সুবিধা মতো গ্রহণ করতে হবে আর ভালো থাকতে হবে। তবে কি সুখ দুঃখ মুদ্রার এপিঠ আর ও পিঠ। দুঃখ, হতাশা এগুলো থাকবে কিন্তু এর মধ্যেই সুখের পাল্লা ভারি করতে পারলেই কেল্লা ফতে। আর সুখ দুঃখ এসবের সাথে মনের সম্পর্ক অনেক গভীর। তাই সিনেমা, বই, কবিতা, ছড়া এগুলোকে ছাড়া যাবেনা। এগুলো মনের খোরাক জোগায়।
২০২৩ সালের সুখ দিবসের থিম মনযোগী, কৃতজ্ঞ ও দয়াশীল হও। অর্থাৎ আমাদের রোজনামচা জীবনের প্রতি মনযোগ হতে হবে। থাকতে হবে কৃতজ্ঞতা আর অন্যের প্রতি দয়াশীল হতে হবে। সুখ কবিতায় কামিনী রায় শেষের দিকে কতকটা তাই লিখেছেন। ‘ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।

