স্বরূপম চক্রবর্তী: সেদিন হটাত্ মনুর ডাক আমার ফোনে। দাদা কাল সকালে একটু আসতেই হবে। আসলে মনু ওরফে প্রিয়রঞ্জন সরকার এমন একটি মানুষ যাঁর ডাক কোনও ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাই পরদিন সকালে যথারীতি হাজির ওর কাছে। সেখানেই আলাপ এই মূহুর্তে এই বাংলা তথা রাজ্যের একমাত্র সাব-জুনিয়ার পাওয়ারলিফ্টার স্নেহা ঘরামীর সঙ্গে। যে এই বছর সুযোগ পেয়েছে ভারতের কেরালায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান পাওয়ারলিফ্টিং প্রতিযোগিতায়। স্নেহার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই মনু জানিয়েছিল ১২ মার্চ মনু’র স্বপ্নের সংগঠন মায়ের প্রেরণা আয়োজন করছে ভারত মায়ের বীর শহীদ সন্তানদের স্মরণে ভারতীয় সেনবাহিনীর সয়াহতায় এক স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির হাওড়ার বালী নিশ্চিন্দায়। যথারীতি সকল রকম অসুবিধাকে সরিয়ে রেখে গুটি গুটি পায়ে হাজির হতেই হয়েছিল গতকালের অর্থাত্ ১২ মার্চের এই অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিছুটা অবাক হতেই হলো, মনু’র ডাকে সারা বাংলা থেকে বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন উপস্থিত অনাড়ম্বর আন্তরিকতায় মোড়া এই অনুষ্ঠানে। রক্তদান শিবিরে মনু ওরফে প্রিয়রঞ্জন সরকারের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মায়ের প্রেরণাকে রক্ত গ্রহণে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এক অনন্য নজর সৃষ্টি করল ভারতীয় সেনার মেডিক্যাল টীম। এদিন স্মরণ করা হলো দেশের জন্য শহীদ হওয়া সেই সকল বীর সেনানীদের যাঁরা হাসতে হাসতে দেশের জাতীয় পতাকাকে রক্ষা করতে বীরের মত প্রাণদান করতে পিছপা হন নি।
অবাক হলাম যখন দেখলাম একটি মানুষ কিভাবে এককভাবে নিজের প্রচেষ্টায় ভারত মাতার সম্মান রক্ষা করতে জাতীয় পতাকাকে অনন্য সম্মান প্রদর্শন করে আজ সমবেত করতে সক্ষম হয়েছে সারা রাজ্যের সেই সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের যাঁরা প্রকৃতই সমাজসেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে আজ কাজ করে চলেছেন এবং হাওড়া জেলা তথা এই রাজ্যের অন্যতম মহীয়সী নারী বাংলার অগ্নিকন্যা স্বর্গীয়া ননীবালা দেবী নামাঙ্কিত মঞ্চে থেকে সেই সকল সমাজসেবী সংগঠনের হাতে সম্মান তুলে দেওয়া হলো।অনুষ্ঠান থেকে আসার আগে নিজের মনে মনে স্যালুট জানলাম ভারত মায়ের এই সন্তান প্রিয়রঞ্জন সরকার ওরফে ভাই মনুকে।



