কিশলয় মুখোপাধ্যায়: তখন শরৎকাল, ১৯৪৭ সাল। দেশ তখন সদ্য স্বাধীন হয়েছে। শরৎকাল মানেই দুর্গাপুজো। হুগলি জেলার বর্ধিষ্ণু গ্রাম গুড়াপ। আর এই গ্রামের দক্ষিণ গুড়াপের দুই যুবক কালীপদ কুমার ও চণ্ডীচরণ ঘোষ ঠিক করলেন মহামায়ার আরাধোনা করবেন।হবে এই পাড়ায় দুর্গাপুজো। সেই শুরু, দেখতে দেখতে ৭৫ বছর পার করল এই পুজো। দক্ষিণ গুড়াপ সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় এবারের থিম ‘কেদারনাথ’। পুজো করা হবে মনস্থির তো করা হল। এরকমতো অনেকেই ভাবেন। কিন্তু এই ভাবনাকে বাস্তবরূপ দিতে কাজে লেগে পড়লেন এই দুই যুবক। প্রতিমা তৈরি করলেন চণ্ডীচরণ বাবু নিজে আর অর্থ যোগানের দায়িত্ব নিলেন কালীপদ বাবু। পাড়া ও গ্রাম থেকে সাধ্যমত চাঁদা তোলা হল। এছাড়া ধান ও অন্যান্য দ্রব্য সংগ্রহ করা হল। এই সময় সাহায্য করেছিলেন কালীপদ বাবুর দুই বন্ধু বিশ্বনাথ গুঁই ও নীলপানি দে। একজনের কর্মক্ষেত্র ও আরেকজনের ব্যাবসা ক্ষেত্র ছিল কলকাতা।এই বন্ধুরা কলকাতা থেকে চাঁদা তুলে দিয়েছিলেন। এই সব পুজোর নানা ইতিহাস ও গল্প নিয়ে কথা হচ্ছিল কালীপদ কুমারের পুত্র মোহনলাল কুমারের সঙ্গে। তিনি আরো বললেন তখন গুড়াপে না ছিল বিদ্যুৎ, না ছিল কোন ডেকারেটার্স। কিন্তু যেটা ছিল তা হল অফুরান উৎসাহ। দেবদারু পাতার গেট করে, লাল নীল কাগজের সিকলি দিয়ে সাজানো হয়েছিল প্রথম পুজোর মণ্ডপ। এখন যে স্থায়ী মণ্ডপে মহামায়ার আরাধনা করা হয় সেটি তৈরি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে সার্বজনীন চাঁদা তুলে আর জায়গাটি কেনা হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। তার আগে পাড়ার বিভিন্ন স্থানে পুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান পুজোর সিংহভাগ আয়োজন করেন জীবনকৃষ্ণ কুমার।

জীবন বাবু বললেন প্রথম দিকে পুজো করতেন জীতেন গঙ্গোপাধ্যায় ও রামধর্মা মুখোপাধ্যায়। আর সবটা আয়োজন করতেন ফণীভূষণ চক্রবর্তী, শিবরাম সেন, বলরাম সেন, লক্ষ্মীকান্ত ও তারাপদ ঘোষ। তিনি আরোও বললেন যে কাঁধে করে তখন বেশিরভাগ ঠাকুর বিসর্জন হতো, ব্যাতিক্রম ছিলোনা এ পুজোও। তবে কাদা হলে তখন গরুর গাড়ীতে করে বিসর্জন করা হয়েছে। লোকমুখে পরিচিত হালদার পাড়ার এই দুর্গাপুজো নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে শুরু থেকে হয়ে আসছে। আর এই পুজো এখন গ্রামের অন্যতম দুর্গাপুজো ডেস্টিনেশনে পরিণত হয়েছে।


















