উত্তর সম্পাদকীয়

বিশ্ব গণতন্ত্র দিবসের শপথ ‘গণতন্ত্রে মিডিয়ার স্বাধীনতার গুরুত্ব

আজ বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস। বিশ্ব গণতন্ত্র দিবসের এবছরের ফোকাসকরা হয়েছে গণতন্ত্রে মিডিয়ার স্বাধীনতার গুরুত্ব, শান্তি ও সার্বিক উন্নতি। এই নিয়েই প্রতিবেদনে সাংবাদিক কিশলয় মুখোপাধ্যায় 

 

রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্টিনিও গুটেরেস বলেছেন ‘মুক্ত সাংবাদিকতা না থাকলে গণতন্ত্র বাঁচবেনা। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া স্বাধীনতা বলে কিছু হয়না’। আজ বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস। আর এই বিশ্ব গণতন্ত্র দিবসে এবারের ‘ফোকাস’ করা হয়েছে ‘গণতন্ত্রে মিডিয়ার স্বাধীনতার গুরুত্ব, শান্তি ও সার্বিক উন্নতি। সেই প্রেক্ষিতে কথাগুলো বললেন রাস্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব। করোনা পর্ব ও করোনা পরবর্তীকালে এখন, যখন কোডিড কিছুটা নিয়ন্ত্রনে তখন নজরে এসেছে যে সমগ্র পৃথিবীতে গণতন্ত্র ক্রমশ বিপন্ন হয়েছে। আর দেশে দেশে সবচেয়ে বিপন্ন হয়েছে সংবাদপত্র বা মিডিয়া। আর স্বাভাবিক ভাবেই বিপন্নবোধ করছেন অসংখ্য সাংবাদিক। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেননা। ইউনেস্কো বলছে সমগ্র বিশ্বে ৮৫% মানুষের অভিজ্ঞতা গত পাঁচ বছরে সংবাদপত্র বা মিডিয়ার স্বাধীনতা ক্রমশ নিম্নমুখি বা সোজা কথায় স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে এবং মুক্ত সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে বিপদ কিন্তু গোটা সমাজের। কারন মিডিয়া মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনাকে বিকশিত করে। খবরের কাগজ থেকে টিভি আর টিভি থেকে ডিজিটাল মিডিয়ার উত্তোরণ হয়ে এখন মোবাইল সাংবাদিকতা বিকশিত হচ্ছে। কিন্তু মূল জিনিসটা একই আছে তা হল খবর বা তথ্য। আর মিডিয়া হল সমাজের আয়না। একটি নির্দিষ্ট সময়ের কোন দেশের সমাজকে জানতে গেলে চিনতে গেলে মূল ভরসা সেই ওই সময়ের সংবাদপত্র বা অন্য মাধ্যম। এম.ভি. চার্নলি বলেছিলেন ‘ সংবাদ হল আজকের মোড়কে দেওয়া আগামী দিনের ইতিহাস’। তাই মুক্ত মিডিয়ার সত্যনিষ্ঠ খবর পরিবেশনের মতো যত পরিবেশ পাবে ততই মঙ্গল গণতন্ত্রের পক্ষে, এই সমাজের পক্ষে। সাধারণ মানুষের জীবন আর যাপনের জন্য এটা দরকার। ইউনেস্কোর এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার সংগঠনের (ICFJ) সমীক্ষা বলছে ১২৫ দেশের ৭১৪ মহিলা সাংবাদিকদের সাংবাদিকতা করতে গিয়ে ‘অনলাইন ভায়োলেন্স’ এর স্বীকার হয়েছেন। এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৪৫৫ জন সাংবাদিক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে মারা গেছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব উল্লেখ করেছেন ভবিষ্যত কর্মসূচি হল সমাজের সার্বিক উন্নতি এবং তার জন্য দরকার মুক্ত, স্বাধীন ও বহুত্ববাদী সাংবাদিকতা। গাম্বিয়া থেকে ইউক্রেন আর তিউনিসিয়া থেকে শ্রীলঙ্কা, সমস্ত সামাজিক সংগঠন সমর্থন করবে বাধামুক্ত তথ্য আহোরনে। কুমন্তব্যের বিরুদ্বে রুখে দাঁড়ানো, স্থানীয় সাংবাদিকতাকে সমর্থন করা, ভুয়ো তথ্য আটকানো এবং মিডিয়ার অধিকারকে সমর্থন করা। এই কর্মসূচি গুলো বাস্তবায়িত করা হবে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য হল রাষ্ট্রপুঞ্জ ‘সাংবাদিক সুরক্ষা’ কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা ১০ বছর হচ্ছে এ বছর। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হল অন্যতম মানবাধিকার যা গোটা বিশ্বে আর্টিকেল ১৯ সমগ্র বিশ্বে এই মত প্রকাশের স্বাধীনতা কে মান্যতা দেয়। এখানেই মিডিযার স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি বলে আসে। কারন একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক সচেতনতা, সামাজিক সচেতনতা তথা নিজের কর্তব্যবোধ, বিশ্লেষণবোধ তৈরি হয় সংবাদপত্র তথা মিডিয়া থেকে। গত মে মাসের ৩ তারিখে আন্তর্জাতিক প্রেস স্বাধীনতা দিবসের দিন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব বিশ্বের সমস্ত দেশের সরকার, মিডিয়া হাউস ও টেক কোম্পানি গুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন মিডিয়ার কাজকে সমর্থন জানাতে এক শক্তিশালী সমাজ গড়ার জন্য।