খবর

জন্মশতবর্ষে চুঁচুড়ার দু টাকা দর্শনীর চিকিৎসক গৌরী সুর

7613c15d-6335-46ee-a6fc-b59e5c7df519

শ্যামলকুমার সিংহ:  হুগলী- চুঁচুড়ার  চিকিৎসা জগতে যাঁরা প্রসিদ্ধি  অর্জন করেছিলেন  তাদের মধ্যে ডাঃ গৌরীশঙ্কর সুরের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই হয়। হঠাৎ তাঁর নাম আমরা স্মরণ করবো কেন?  কেননা এই জনপ্রিয় দক্ষ চিকিৎসক এর জন্ম শতবর্ষ এবছরই। বয়সের ভার তাঁর কর্মদক্ষতাকে বিন্দুমাত্র  হ্রাস করতে পারেনি। দু টাকার চিকিৎসক হিসাবে শুধু হুগলী চুঁচুড়া নয়,   সংশ্লিষ্ট গ্রামের গরীব মানুষদের কাছে ভগবান বলে চিহ্নিত। এমন শিশুর মা নেই যে গৌরী সুরকে চিনতেন না। সবার কাছেই ছিলেন তিনি অভিভাবক। তাঁর যুগে ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমের দাপাদাপি  ছিল না বলেই হয়তো প্রচারের আলোকে আসতে তিনি পারেননি। শিশু চিকিৎসা বিষয়ে চিকিৎসক গৌরী সূর ছিলেন যেন কঠোর মানুষ। অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ও কটুভাষী এই ডাক্তারবাবুর মানবদরদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়। কাউকে খাতির করতেন না। না রোগী, না অভিভাবকদের। অনেকেই তাঁর ব্যবহারে ক্ষুব্ধ, বিরক্ত হতেন। কিন্তু তা সত্বেও চেম্বার ভর্তি মানুষ। কেন ভিড় তা তো সকলেই জানতো। চিকিৎসার ম্যাজিক। দু টাকা ভিজিট আর বড় জোর দু তিনটে ওষুধ । ডাক্তার গৌরীশঙ্কর সুর চুঁচুড়ার প্রথম যুগের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। আদি বাড়ি হুগলীর আমনান গ্রামে। হুগলী মহসীন কলেজের ডেমনস্ট্রেটর তিনকড়ি সুরের পুত্র গৌরীশঙ্করের পড়াশোনা শুরু হয় চুঁচুড়া ডাফ হাইস্কুলে। ১৯৪০ খৃস্টাব্দে  হুগলী মহসীন কলেজ থেকে পাশ করে ১৯৪৬ খৃস্টাব্দে কলকাতার আর, জি,  কর মেডিকেল কলেজ থেকে  চিকিৎসা বিদ্যায় স্নাতক হন। তিনি  চিকিৎসক  ক্ষীরোদচন্দ্র চৌধুরীর কাছে শিশু চিকিৎসায় অভিজ্ঞতা লাভ করেন। তখন কিন্তু কলকাতায় এই চিকিৎসায় পাঠক্রম শুরু হয়নি।১৯৫১ সালে চুঁচুড়ায় শুরু করে দেন প্র্যাকটিস। ইন্সটিটিউট  অব চাইল্ড হেল্থ স্হাপিত হলে ১৯৫৮ খৃস্টাব্দে প্রথম দলের ছাত্র হিসাবে শিশু চিকিৎসায় ডিপ্লোমা  লাভ করেন। ১৯৬৫ সাল থেকেই  পাকাপাকিভাবে শিশুদের চিকিৎসার কাজ শুরু করে দেন। সরকারী চাকরী গ্রহণ না করে শিশুদের চিকিৎসা পরিষেবা  চুঁচুড়াবাসীদের দিয়ে গেছেন।  এই চিকিৎসকের জন্মশতবর্ষে চুঁচুড়া  অনাথ ও দুঃস্হ ভান্ডার সংগঠন তাঁর জীবনী নিয়ে প্রদর্শনীর  আয়োজন করে মহান চিকিৎসকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। সরস্বতী পুজোর দিন বৈকালে চুঁচুড়া ষন্ডেশ্বরতলায়  প্রদর্শনীতে হাজির হয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন অনেকেই। কিনতু আগামী প্রজন্ম জানবে না তাদের শহরেই বাস করতেন দু টাকার দর্শনীর চিকিৎসক।  এখন কি কেউ বলতে পারবেন আমাদের শহরে এমন চিকিৎসক  কেউ আছেন? যদি থাকেন — কেউ জানাবেন  কী আমাদের?