
নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: পাতাঝরা বসন্তের মৃদুমন্দ বাতাসে যখন প্রকৃতি নতুন রঙে সেজে ওঠে, তখনই মন খুঁজে নেয় সৃজন ও উৎসবের আবহ। সেই আবেশকেই সঙ্গী করে দুর্গাপুরে আয়োজিত হল এক বর্ণময় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। শহরের অরভিল পার্ক-এর আপনজন সভামঞ্চে ‘আন্তরিক’ সাহিত্য পত্রিকার উদ্যোগে পালিত হলো বসন্ত উৎসব ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সাহিত্য, সংগীত ও নৃত্যের মেলবন্ধনে সাজানো এই অনুষ্ঠান উপস্থিত দর্শকদের কাছে হয়ে ওঠে এক প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় আয়োজন।

বসন্তের আবেশ যেন শুরু থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে। পাতাঝরা বসন্তের উচ্ছ্বাস, প্রকৃতির রঙিন আহ্বান এবং নতুনের প্রত্যাশা যেন শিল্পীদের কণ্ঠ, সুর ও নৃত্যের ভঙ্গিমায় জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। বসন্তের রঙিন আবহে সাজানো এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন প্রায় ৩০ জন শিল্পী। কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, নৃত্য, শ্রুতি নাটক ও সংগীত—বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিল্পীরা তুলে ধরেন বসন্তের সৌন্দর্য, মানবিক অনুভব এবং নারীর শক্তি ও সৃজনশীলতার নানা দিক। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে বিরাজ করে এক উচ্ছ্বাসময় পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বেই ছিল সৃজনশীলতার ছোঁয়া। কবিতা ও আবৃত্তিতে ফুটে ওঠে বসন্তের রঙিন আহ্বান, মানবিক অনুভব এবং সমাজে নারীর অবস্থান ও শক্তির নানা দিক। সংগীত ও নৃত্যের পরিবেশনায় ধরা পড়ে ঋতুর প্রাণোচ্ছ্বলতা। অন্যদিকে শ্রুতি নাটকের অভিনব উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্নমাত্রা এবং দর্শকদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।

শিল্পীদের আন্তরিক ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর ও উপভোগ্য। দর্শকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি এবং করতালির মধ্য দিয়ে প্রতিটি পরিবেশনা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়াই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। বসন্তের আনন্দঘন আবহ এবং নারী দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে সমাজে সৌহার্দ্য, সৃজনশীলতা ও সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিলেন ‘আন্তরিক’ সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক অন্তরা সিংহরায় এবং আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সোমা রায় মুখার্জী। তাঁদের উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় বসন্তের রঙ, সাহিত্যচর্চা এবং নারীশক্তির বার্তা একসূত্রে গেঁথে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত দর্শকরা আয়োজক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ শহরের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে। বসন্তের রঙে রাঙানো এই সন্ধ্যা তাই দীর্ঘদিন স্মৃতিতে থেকে যাবে উপস্থিত সকলের।

